গৃহশ্রমিকের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন-আইএলও কনভেনশন ১৮৯ অনুসমর্থনের দাবি জানানো হয়েছে।
ট্রেড ইউনিয়ন ও নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ আন্তর্জাতিক গৃহশ্রমিক দিবস ২০২২ উদযাপনে এ দাবি জানায়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার বিলস্ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
বিলস্ যুগ্ম মহাসচিব ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এবং গৃহশ্রমিক অধিকার ও প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্কের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী আবুল হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিলস্ সুনীতি প্রকল্পের অগ্রগতি কার্যক্রম তুলে ধরেন উপ-পরিচালক মো. ইউসুফ আল মামুন।
জনশুমারিতে গৃহশ্রমিকের তথ্য নেয়া হচ্ছে এবং এর ফলে ডিজিটাল ডাটা পাওয়া যাবে উল্লেখ করে আলোচনা সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. মাহফুজুল হক বলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে শ্রমিকদের জন্য যে তহবিল রয়েছে সেখান থেকে গৃহশ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরতে হবে।
শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আলপনা সরকার বলেন, গৃহশ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতকরণে নিয়োগকারীদের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। এ ব্যাপারে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। মিডিয়াতে এ ব্যাপারে প্রচারণা জোরদার করা উচিত।
বিশ্বের ৩০টি দেশ আইএলও কনভেনশন ১৮৯ অনুসমর্থন করেছে উল্লেখ করে হংকং থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে ইন্টারন্যাশনাল ডমেস্টিক ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের এশিয়া কো-অর্ডিনেটর আইপি ফিশ বলেন, বাংলাদেশও এই কনভেনশন অনুসমর্থনে এগিয়ে আসবে বলে আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ আশা করে।
আইএলও বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর এনি দ্রং বলেন, আইএলও কনভেনশন ১৮৯ অনুসমর্থনে সরকারের সদিচ্ছা আছে। কিন্তু তার কিছু পূর্বপ্রস্তুতিও রয়েছে। সরকার সে ব্যাপারে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করা যায়।
জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েল বলেন, গৃহশ্রমিকরা যতদিন না শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন ততদিন পর্যন্ত তাদের সুরক্ষায় নীতিমালায় যে সমস্ত নির্দেশনা উল্লেখ আছে সেগুলো প্রয়োগে সরকারকে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বিলস্ যুগ্ম মহাসচিব ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান বলেন, গৃহশ্রমিকদেরকে করুণ অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে ট্রেড ইউনিয়নকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে মাঠে নামতে হবে। গৃহশ্রমিক নীতিমালকে আইনে পরিণত করতে হলে সর্বাত্মক আন্দোলন করতে হবে।









