স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন বাস্তব। এই সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে গোটা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন সহজ হবে তেমনি গড়ে ঊঠবে নতুন নতুন শিল্প। সৃষ্টি হবে অসংখ্যা মানুষের কর্মসংস্থান। জীবনযাত্রার প্রয়োজনে নানা ধরনের ব্যবসা হবে। নতুন দোকানপাট হবে। এ সেতু শুধু শিল্পখাতেই নয় সুফল পাওয়া যাবে কৃষিখাতেও। দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়ন তথা জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন দুয়ার খুলে যাবে।
পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সম্ভাবনার বিষয়ে দৈনিক আনন্দবাজারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন সেতু বিভাগের সাবেক সচিব, এনবিআর চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে জামার্নিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।
আনন্দবাজারের বিজনেস এডিটর ফারজানা রশিদকে অনলাইনে দেয়া সাক্ষাৎকারে মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনকালে আমার কাছে অনেক বিদেশি উদ্যোক্তা এদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ জানান। জমি ছাড়া তাদের আর বড় কোনো চাহিদা নেই। সুবিধামতো জায়গা পেলেই বিদেশি এসব উদ্যোক্তা এদেশের সরকার অথবা বেসরকারিখাতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করতে আগ্রহী। আবার প্রয়োজনে এককভাবেও বিনিয়োগ করার কথা জানিয়েছেন তারা।
পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে নিজের আবেগ প্রকাশ করে মোশাররফ হোসেন বলেন, যেদিন এ সেতু নির্মাণ শেষ হবে সেদিনই হবে আমার চাকরি জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য। আমি একা একা সেতুর উপর থেকে হেঁটে আসবো। ছুঁয়ে দেখবো। আর মনে মনে ভাববো, এ সেতু নির্মাণে আমার পরিশ্রমের কথা।
পদ্মা সেতু নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রের বিষয় উল্লেখ করে সেতু বিভাগের সাবেক এই সচিব আরো বলেন, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে এদেশের মানুষ। একইভাবে সব চক্রান্ত মোকাবেলা করে এদেশে পদ্মা সেতু নির্মাণ হচ্ছে। বাংলাদেশিরা দেখিয়ে দিচ্ছে, দেশের জন্য আমরা পারি না এমন কিছু নেই। সব বাধা অতিক্রম করে স্বপ্নের সেতুর নির্মাণ সাফল্যের সঙ্গেই শেষ হবে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। দেশি-বিদেশি তদন্তে তা এরই মধ্যে প্রমাণ হয়েছে।
মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পদোন্নতি পেয়ে সেতু বিভাগের সচিবের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তার দায়িত্বপালন কালেই পদ্মা সেতু নির্মাণে বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শুরু হয়ে। সে সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি আনন্দবাজারকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রস্তুতি শুরু করি। সে সময়ে সেতু বিভাগের কর্মকর্তা কর্মকচারীদের মধ্যে যে কি উৎসাহ, উদ্দীপনা। এমন একটি বড় প্রকল্পের সঙ্গে যারা থাকতে পারছেন তারা ইতিহাসের অংশ হবেন।
পদ্মা সেতুর প্রাথমিক পর্বের কাজে তার দপ্তরে কর্মরতরা ছুটির পরও দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন উল্লেখ করে সেতু বিভাগের সাবেক এই সচিব বলেন, বাসায় রওনা হতে হতে আমাদের রাত ১২টাও বেজেছে। ভেবেছিলাম আমাদের কঠোর পরিশ্রমেও যদি একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় তাতে ক্ষতি নেই। তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আমরা এ সেতু নির্মাণ করবোই। তিনি বলতেন, ‘আমরা দেখিয়ে দিতে চাই আমরাও পারি। স্বাধীনতা যুদ্ধে যেমন হেরে যাইনি, তেমনি পদ্মা সেতু নির্মাণেও হেরে যাবো না।” তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এমন সাহসী সিদ্ধান্তে শুরু হয় আরেক অধ্যায়।
আনন্দবাজার/শহক








