করোনা ভাইরাস আতঙ্কের শুরুতে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়া চালের দাম আবারও বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেশিতে বেড়েছে আট টাকা এবং এক মাসে বেড়েছে ১২ টাকা। যা সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে ৭ শতাংশ এবং মাসের ব্যবধানে ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
এই দামের তালিকায় রয়েছে বাজারের সবধরণের চালে। আবার অনেকেই অভিযোগ করছে এক শ্রেণির মুনাফা লোভি ব্যবসায়ী পরিকল্পিতভাবে চালের দাম বাড়িয়েছেন। তাই দাম নিয়ন্ত্রণে চালের বাজারে দ্রুত র্যাব ও ভোক্তা অধিদফতরের অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে মিনিকেট ও নাজিরশাল চাল বিক্রি হচ্ছে ৬২-৬৮ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৫৫-৬০ টাকা। আর করোনা ভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার আগে ছিল ৫২-৫৬ টাকা কেজি।অর্থাৎ চিকন চালের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে আট টাকা এবং মাসের ব্যবধানে ১২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বাড়ার এই তালিকায় রয়েছে মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চালও। বর্তমানে মাঝারি মানের চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫২-৬০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫০-৫৫ টাকার মধ্যে। আর এক মাস আগে ছিল ৪৫-৫০ টাকার মধ্যে।
এদিকে গরিবের মোটা চালের দাম চলতি সপ্তাহে নতুন করে না বাড়লেও গত সপ্তাহেই বেড়ে যায়। বর্তমানে মোটা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৪-৫০ টাকা কেজি, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। আর করোনা ভাইরাস আতঙ্কের আগে ছিল ৩২-৩৫ টাকা।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল রাজধানীর খুচরা বাজারে মিনিকেট ও নাজির চালের কেজি বিক্রি হয় ৬০-৬৮ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৫৫-৬৫ টাকা। আর এক মাস আগে ছিল ৫৫-৬০ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে চিকন চালের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং মাসের ব্যবধানে বেড়ছে ১১ দশমিক ৩০ শতাংশ।
মালিবাগের বাসিন্দা জয়নাল বলেন, মানবিক বিবেচনায় এখন চাল-ডালের দাম কম হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আতঙ্কের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দাম। এক শ্রেণির ব্যবসায়ী যে পরিকল্পিতভাবে চালের দাম বাড়াচ্ছে, তা সহজেই বোঝা যায়। এই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত র্যাবের অভিযানে নামা উচিত।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, করোনা ভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে চালের দাম বেড়ে যায়। এরপর র্যাব একের পর এক অভিযান পরিচালনা করলে কিছুটা থিতু হয় চালের দাম। প্রায় একমাস চালের দাম স্থির থাকে। তবে এক সপ্তাহ ধরে আবার চালের দাম বাড়া শুরু হয়েছে। আনন্দবাজার/রনি








