সপ্তাহে শনিবার ও বুধবার বসে এ হাট। এ হাটটিকে ঘিরে তিন উপজেলার কয়েক হাজার ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে। মেঘনার তীর ঘেঁষা হাটটিতে খুব কম খরচে নদী পথে মালামাল আনা নেয়ার কারণে উপজেলার অন্যান্য হাটের তুলনায় এ হাটটির গুরুত্ব অনেক বেশি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় শতবর্ষী কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী হাটের মধ্যে আনন্দবাজার একটি ঐহিত্যবাহী হাট। মেঘনা নদীর তীরবর্তি হওয়ায় সোনারগাঁ, আড়াইহাজার ও মেঘনা উপজেলার প্রান্তিক কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এ হাটের প্রধান ক্রেতা ও বিক্রেতা। সপ্তাহে শনিবার ও বুধবার বসে এ হাট। হাটটিকে ঘিরে তিনটি উপজেলার কয়েক হাজার ক্রেতা বিক্রেতার সমাগম ঘটে এ হাটটিতে। মেঘনা নদী তীর ঘেষে হাটটি হওয়ার কারণে খুব কম খরচে নদী পথে মাল আনা নেয়ার কারণে উপজেলার অন্যান্য হাটের তুলনায় এ হাটটির গুরুত্ব অনেক বেশী। তবে যুগের বিবর্তন, অবকাঠামো অনুন্নত ও অতিরিক্ত খাজনা আদায় করার কারণে দিনে দিনে হাটটিতে কমতে শুরু করেছে ক্রেতা ও বিক্রেতার সংখ্যা।
স্থানীয়রা জানায়, শত বছর আগে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের দামোদরদী এলাকায় মেঘনা নদীর তীরে গড়ে উঠে আনন্দবাজার হাট। এক সময় এ স্থানটিতে বর্তমানে হটের পাশে একটি মঠে পূজা অর্চনা করতো সনাতন ধর্মালম্বলীরা। পূজা আর্চনাকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক আসতে শুরু করে স্থানটিতে। লোকসমাগমের কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকেরা বিভিন্ন খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বেচা-কেনার জন্য মাটিতে দোকান পেতে বসতো। পূজা শেষে সনাতন ধর্মালম্বরীরা বাড়িতে ফেরার পথে সেসব দোকান থেকে খাবারসহ বিভিন্ন জিনিস কিনে নিয়ে যেতো। সেখান থেকে আস্তে আস্তে এ হাটটির যাত্রা শুরু। বর্তমানে এ হাটটিতে সোনারগাঁ, আড়াইহাজার ও মেঘনা উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ আসেন বেচা-কেনা করতে। সড়ক ও নদী পথে নৌকাযোগে ক্রেতা-বিক্রেতারা সকাল থেকে আসতে শুরু করেন হাটটিতে। সপ্তাহে দুই দিন শনি ও বুধবার বসে হাটটি। প্রায় ৪০ বিঘা জমির ওপর আনন্দবাজার হাট বসে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আনন্দবাজারের সাবেক ইজারাদার নবী হোসেন বলেন, এ হাটে বাঁশ, কাঠ, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি থেকে শুরু করে তরমুজ, চাল, ডালসহ কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করা হয়। এছাড়া হাতে তৈরী লুঙ্গি, গামছা ও রেডিমেট কাপড় বিক্রি করা হয়। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কৃষকরা তাদের ক্ষেতে উৎপাদিত বিভিন্ন সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে ছেলে মেয়ে ও পরিবার পরিজনদের জন্য নিয়ে যান নতুন জামা কাপড়, মিষ্টিসহ অন্যান্য খাবার। এছাড়া হাটটি তিনটি উপজেলার চলাঞ্চলকে ঘিরে হওয়ার কারণে চৌচাড়া ও দোচালা ঘর তৈরির জন্য কাঠ, বাঁশ ও টিন বেশী বেচাকেনা হয়। ঈদুল আজহার সময় নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে বড় পশুর হাট এখানে বসে। শত বছরের পুরোনো এ হাট এখনো ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর সরকারিভাবে এ হাটের কোনো উন্নয়নকাজ হয়নি। নদীপথে মালামাল আনা-নেওয়ার জন্য কোনো ঘাট নির্মাণ করা হয়নি। বর্তমানে যদি একটি জেটি তৈরি করা হয়েছে সেটা কেবল বর্ষাকালেই ব্যবহার করা যায়। জেটিটি নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে তৈরি করার কারণে বছর না ঘুরতেই বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ও ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। মাছ ও মাংসের জন্য শেড নির্মাণ করা হয়নি। হাটের জায়গা নিচু হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে যায়, তখন পাশের সড়কের ওপর হাট বসাতে হয়।
হাটের পাইকারি ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম ঈমাম বলেন, সরকার এ হাট থেকে প্রতিবছর যে রাজস্ব পায় এর ৫ ভাগের একভাগ টাকা খরচ করলেই মানুষের সুযোগ-সুবিধা বাড়ত। হাট উন্নয়নে সরকারের জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা আশ্বাস দিলেও কেউ কথা রাখেননি।
হাটে আসা কৃষক জালাল উদ্দিন জানান, তার বাড়ি উপজেলার নুনেরটেক এলাকায়। যার চারপাশে রয়েছে মেঘনা নদী। ইচ্ছা করলেই সব কিছু সব সময় কিনতে বা বেচতে পারা যায়না। সেজন্য তিনি সপ্তাহে দুবার আসেন এ হাটে।









