রাজশাহীতে সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫৫ হাজারসহ উপজেলা ও পৌরসভার এলাকার মোট ২ লাখ মানুষ ন্যায্যমূল্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবির পণ্য পেতে শুরু করেছেন রবিবার থেকে। প্রথম দিন (রবিবার) ও দ্বিতীয় দিন (সোমবার) এ পণ্য বিক্রি করতে ব্যাপক সাড়া পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে, এই দুই দিনে বাজারে তেমন প্রভাব পড়েনি।
ভর্ভুকি মূল্যে প্রত্যেক পরিবার ১১০ টাকা দামে ২ লিটার সয়াবিন তেল, ৫৫ টাকা দামে ২ কেজি চিনি, ৬৫ টাকা দামে ২ কেজি মসুর ডাল পাচ্ছে।
সোমবার রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে সয়াবিন তেল খোলা প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা লিটার, বোতলজাত ৫ লিটার ৭৯৫ টাকা, এক লিটার ১৭০ টাকা, চিনি প্রতি কেজি ৭৮ টাকা, মসুর ডাল ১১০ থেকে ১৩০ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, সোয়াবিন তেলের দাম সামান্য কমলেও অন্য সব পণ্যের দাম উর্ধ্বমুখি।
টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরুর প্রথম দিন রাজশাহী নগরের দু-একটি জায়গায় সকাল ১০টা থেকে টিসিবির এ পণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুরু হলেও অধিকাংশ স্থানে দুপুর সাড়ে ১২টার পরও এ কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। কিন্তু আগে থেকেই নির্ধারিত সময় বেঁধে না দেওয়ায় ভোক্তাদের তপ্ত রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী নগরের ৭টিসহ জেলার মোট ২৭টি পয়েন্টে রবিবার পণ্য বিক্রি শুরু হয়। তবে উদ্বোধনের জন্য নগরের দুটি ওয়ার্ডে সকাল ১০টায় পণ্য বিক্রি শুরু হয়। বাকি ওয়ার্ডগুলোতে দুপুর সাড়ে ১২টার পর শুরু করে পণ্য বিক্রি।
পণ্য সরবরাহকারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গাড়ি দেরি করে আসায় পণ্য বিক্রি শুরু করতে একটু সময় লেগেছে। তবে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোক্তারা বলেছেন, তাদের কোনো নির্দিষ্ট সময় বলা হয়নি। তাই তারা কেউ সকাল ছয়টা, কেউ নয়টা থেকে লাইনে অপেক্ষায় আছেন।
সোমবার নির্দিষ্ট সময় গাড়ি আসলেও পণ্যে নিতে লম্বা লাইন লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। রাজশাহীর পবা উপজেলার বায়া এলাকায় সোমবার টিসিবি’র পণ্য বিক্রির গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। ওই গাড়িকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে প্রচুর মানুষ। তাদের একজন আবুল কাশেম। তিনি বলেন, ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই আমি। সকাল থেকে লাইন ধরে বসে আছি। এখনোর পণ্য পাইনি। আমার মতো অনেকেই ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে।
জেলায় সিটি করপোরেশনের ৭টি পয়েন্টসহ মোট ২৭টি পয়েন্টে টিসিবির এসব পণ্য বিক্রি করা হয়েছে। ২০ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ে চিনি, ডাল ও তেল বিক্রি করা হবে। ৩ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্যায়ে এসব পণ্যের সঙ্গে ছোলা, পেঁয়াজ ও খেজুর যুক্ত করে বিক্রি করা হবে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল জলিল বলেন, টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এ বিশেষ কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে ডিলারদের থেকে কার্যক্রম চলা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ভোক্তারা টিসিবির দেওয়া পণ্য তুলতে পারবেন।









