- ডিজেল-সারের দরবৃদ্ধি
সারাদেশের ন্যায় দিনাজপুরে ডিজেল ও ফসফেট-পটাশ সারের দর বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ধানের আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার বোরো চাষিরা। এমনিতেই বোরো ধানচাষ খুব একটা লাভজনক নয়। চাষিদের শঙ্কা বিগত বছরের চেয়ে চলতিবছর ডিজেলের দরবৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। এতে বোরো চাষ নিয়ে তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন চাষিরা।
ডিজেলের দর প্রতিলিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষিদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকার চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিজেলের দরবৃদ্ধিতে মারাত্মকভাবে চিন্তিত তারা। বোরো ধানচাষ খুব একটা লাভজনক ফসল না। দরবেশি পাওয়া গেলে তা লাভজনক। তবে কৃষি বিভাগ তা মানতে নারাজ। তারা বলছে ডিজেলের দাম যেমন বেড়েছে, তেমনি ধানের দামও বেড়েছে। বোরো চাষে ক্ষতির কিছু নেই।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতিবছর জেলায় ১ লাখ ৭১ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যেমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড- ২৫ হাজার ৩২০ হেক্টর ও ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে উপশী। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে হাইব্রিড- ১ লাখ ২৩ হাজার ৩০৮ টন ও উপশী ৬ লাখ ২৮ হাজার ৩৯৮ টন। সব মিলে এবার ৭ লাখ ৫১ হাজার ৭০৬ টন বোরো ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
ইতিমধ্যে এলাকার চাষিরা বোরোচাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। বীজরোপন শেষ এখন শুধু চারারোপনের কাজ বাকি। অনেক এলাকায় চারারোপন শুরু হয়েছে। কেউ কেউ ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করেছে। আবার কেউ কেউ জমির আইল কাটছে চাষের জন্য।
ধান চাষি কালু জানান, গত বছর প্রতিএকর জমি ট্রাক্টরের সাহায্যে চাষ করেছিলাম ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। বর্তমানে ১ একর জমিতে চাষ করতে ১ হাজার টাকা থেকে ১২’শ টাকা নিচ্ছে। কৃষক বাবু বলেন, বর্তমানে ফসফেট-পটাশ সারের দাম কিছুটা বেশি। এ ছাড়া ডিজেলেরর দর বেড়েছে অনেক। ধানের দর না পেলে সংসারে অভব-অনটন আসবে। কারণ বোরোচাষে ব্যয় অনেক। গত বছর ডিজেল ছিল ৬৫ টাকা লিটার, বর্তমানে প্রতিলিটার বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা ভবতোষ সরকার বলেন, ইতিমধ্যে উপজেলায় চাষিরা বোরো আবাদের জন্য জমি চাষ করেছেন। ডিজেলের দর বৃদ্ধি পেলেও সারের দর নিয়ন্ত্রণে। আমাদের কৃষি বিভাগ যথেষ্ট মনিটরিং করছে। আশা করি কৃষকদের অসুবিধা হবে না।
আনন্দবাজার/এম.আর









