পঞ্চগড়ের তেতুঁলিয়া উপজেলায় চা-শ্রমিকের তালিকা প্রনয়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। "চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি " এর আওতায় ২০১৯- ২০২০ অর্থবছরে ৩৭৯ জন চা- শ্রমিকের তালিকা করেন জেলার তেতুঁলিয়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। প্রতিজন চা শ্রমিক পাঁচ হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান পাবেন। এই তালিকায় প্রকৃত চা শ্রমিকদের নাম বাদ দিয়ে ভুয়া চা বাগান আর ভুয়া শ্রমিক দেখিয়ে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) বরাবর অভিযোগ করেছেন স্থানীয় চা শ্রমিকরা।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আসাবদ্দীন সমাজসেবা অফিসের যোগসাজশে কিছু কিছু চাবাগান মালিকের আত্মীয় স্বজন ও তার (মেম্বারের) পরিবারের সদস্যদের নামের তালিকা অফিসে প্রদান করেন।
তালিকায় ওই ইউপি সদস্যের দুই স্ত্রী, শাশুড়ি, ভাই, ভাইয়ের বউ সহ ১০(দশ) জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া তালিকায় মুদীর দোকানদার, নাপিত, কম্পিউটার কম্পোজ এর দোকানদারেও নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আসিফ টি গার্ডেন, সানজিদ হাসান টি গার্ডেন, সেলিম চা বাগান, মিজানুর টি গার্ডেন নামে কোন চাবাগানের অস্তিত্ব নেই। মাহাবুবা টি গার্ডেন থাকেলও সেই বাগানে যাদের শ্রমিক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তারা কেউ চা শ্রমিক নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই ইউপি সদস্য বলেন আমার পরিবারের সবাই চা শ্রমিক। তাই তালিকায় নাম দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার (অঃদাঃ) আব্দুর রাকিব বলেন, আমরা চা বাগান মালিকদের কাছে শ্রমিকদের নামের তালিকা নিয়েছি কোন মেম্বার চেয়ারম্যান এখানে সম্পৃক্ত নেই। তাহলে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ভুয়া চা বাগানের নাম আসল কিভাবে? এমন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে সমাজসেবা কর্মকর্তা বলেন, আমি এই অফিসে যোগদান করার আগেই এসব তালিকা নেওয়া হয়েছে, আগের অফিসার কিভাবে নিয়েছে তা আমি বলতে পারবোনা। তবে ওই মেম্বার প্রায় আমাদের অফিসে আসেন। অফিসের কারো সহযোগিতায় এগুলো হতে পারে। যেহেতু অভিযোগ পেয়েছি তাই ওইসব শ্রমিকের টাকা আপাতত বন্ধ থাকবে। আমরা আরো যাচাই বাছাই করে প্রকৃত চা শ্রমিকদের তালিকা করে তারপর টাকা দিব।
এ বিষয়ে তেতুঁলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ চন্দ্র সাহার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।
তেতুঁলিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মাহামুদুর রহমান ডাবলু বলেন, ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে এর আগেও এরকম অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আনন্দবাজার/এফআইবি









