- দাম কমবে ৩০ শতাংশ
- বিনিয়োগ ৩৪৪ কোটি টাকা
একসময় মুঠোফোন মানেই ছিল নকিয়া। কিন্তু প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে একপর্যায়ে বাজার থেকে ছিটকে পড়ে কোম্পানিটি। এবার হারানো সেই বাজার ধরতে নকিয়া জি-সিরিজের জি-১০ ও জি-২০ মডেলের মুঠোফোন বাংলাদেশেই উৎপাদন করবে নকিয়া। এরই মধ্যে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির পাঁচ একর জমিতে কারখানা স্থাপন করছে এইচএমডি গ্লোবাল বাংলাদেশ।
সূত্রমতে, ভাইব্রেন্ট সফটওয়্যার (বিডি) লিমিটেড, ইউকে-ভিত্তিক ভাইব্রেন্ট সফটওয়্যার এবং ইউনিয়ন গ্রুপ অব বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নকিয়া স্মার্টফোন তৈরির প্রথম কারখানা স্থাপন করেছে। কারখানা নির্মাণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে এইচএমডি গ্লোবাল বাংলাদেশ পর্যায়ক্রমে ৪ কোটি ডলার বা ৩৪৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে।
রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামের লঞ্চিত ইভেন্ট অনুষ্ঠানে ফোনগুলো উন্মোচন করেন, ইউনিয়ন গ্রুপের পরিচালক আলভী রানা। এইচএমডি গ্লোবাল বাংলাদেশের হেড অব বিজনেস ফারহান রশিদ ও ইউনিয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুল কবির।
আলভী রানা বলেন, ‘নোকিয়ার মতো একটি গ্লোবাল ব্র্যান্ডের অংশীদার হওয়া আমাদের জন্য একটি বড় সম্মানের বিষয়। আমরা এইচএমডি গ্লোবাল দ্বারা নির্ধারিত ইউরোপীয় মান অনুসরণ করে কারখানাটি স্থাপন করেছি। বাংলাদেশের তৈরি হ্যান্ডসেটগুলি অবশ্যই আমাদের আরও বেশি বাজারের অংশীদারিত্ব পেতে সহায়তা করবে’।
ফারহান রশিদ বলেন, আমাদের কারখানায় কর্মরতদের সবাই বাংলাদেশি। আমরা শতভাগ দেশীয় জনশক্তি নিয়ে কাজ করছি। আমাদের মুঠোফোন দুটির ব্যাটারির চার্জ থাকবে তিন দিন পর্যন্ত। যা ইতোপূর্বে কোনো কোম্পানি দিতে পারেনি। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নোকিয়া স্মার্টফোনের দাম আমদানি করা হ্যান্ডসেটের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম হবে বলেও জানান তিনি।
নোকিয়া জি-২০ সেটটিতে থাকছে অ্যান্ড্রয়েড দ্বারা সমর্থিত তিন বছরের মাসিক নিরাপত্তা আপডেট এবং দুই বছরের ওএস আপডেট। এতে রয়েছে ফেস এবং সাইড ফিঙ্গারপ্রিন্ট আনলক, ৬.৫" টিয়ারড্রপ ডিসপ্লে, ৪৮ মেঘাপিক্সেল ক্যামেরা, যথেষ্ট স্টোরেজ এবং ওজেডও সাউন্ড অডিও। মডেলটি খুচরা বিক্রি হবে ১৪ হাজার ৯৯৯ টাকায়। নোকিয়া জি-১০-এ থাকছে একটি ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা এবং এআই-বর্ধিত শুটিং মোড সহ উন্নত ইমেজিং। মডেলটি খুচরা বিক্রি হবে ১৩ হাজার ৪৯৯ টাকায়।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির ৫ নম্বর ব্লকে দোতলা কারখানাটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটি উন্নত প্রযুক্তি এবং একাধিক মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় এবং মানব-চালিত উভয়ই, সমাপ্ত পণ্যের সর্বোচ্চ গুণমান নিশ্চিত করতে সজ্জিত। প্রাথমিকভাবে, দুটি মোড়কজাতকরণ ও ৪টি সংযোজনসহ মোট ৬টি উত্পাদন লাইনে ২০০ কর্মীর মাধ্যমে প্রতিদিন ৩০০ ফোন সংযোজন করা হবে।
বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে মোবাইল সেট তৈরি শুরু হয় ২০১৭ সালে ইলেক্ট্রনিক্স ব্র্যান্ড ওয়াল্টনের হাত ধরে। তখন থেকে ১০/১২টি ব্র্যান্ড স্থানীয়ভাবে মোবাইল তৈরি করছে, যার মধ্যে আছে স্যামসাং, সিম্ফনি, ওপ্পো, রিয়েলমি, শাওমির মতো বৈশ্বিক স্মার্টফোন বিক্রেতাও। এসব প্রতিষ্ঠান স্থানীয় বাজারের স্মার্টফোন চাহিদার ৮৫ শতাংশ তৈরি করে এবং মোট ফোন (ফিচার ও স্মার্ট মিলিয়ে) চাহিদার ৫৫ শতাংশ পূরণ করছে।
বিটিআরসির তথ্যমতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে আমদানিক করা ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোট মোবাইল সেটের সংখ্যা ২৯ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন। যার মধ্যে ১৩ দশমিক ২৭ মিলিয়ন আমদানিকৃত এবং ১৬ দশমিক ২১ মিলিয়ন স্থানীয়ভাবে তৈরি করেছে ১০টি কোম্পানি।
আনন্দবাজার/শক









