আগামী ২৮ এবং ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ তারিখে আয়োজিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম মুঠোফোন ভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিযোগিতা ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক মোবাইল চলচ্চিত্র উৎসব’ এর ষষ্ঠ আসর। ষষ্ঠ আসরকে কেন্দ্র করে ২৭ ফেব্রুয়ারি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) এর ক্যাম্পাস এ তে আয়োজন করা হয় এক সংবাদ সম্মেলনের।
ইউল্যাবের শিক্ষানবিশ কার্যক্রম ‘সিনেমাস্কোপ’ পরিচালিত ঢাকা আন্তর্জাতিক মোবাইল চলচ্চিত্র উৎসব যাত্রা শুরু করে ২০১৫ সালে৷ স্মার্টফোনে ধারণ করা এই চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা ২০১৭ সালে পায় আন্তর্জাতিক রূপ। এই আয়োজন মুঠোফোন দ্বারা তৈরি চলচ্চিত্র নির্বাচন, প্রদর্শন ও সবশেষে সেরা চলচ্চিত্র বাছাই করে বছরের সেরা পরিচালককে পুরষ্কৃত করে থাকে। উৎসবমুখর এই আয়োজনটি উন্মুক্ত থাকছে সকলের জন্য। ‘স্ক্রিনিং’, ‘কম্পিটিশন’ ও ‘ওয়ান মিনিট’ এই তিনটি বিভাগে প্রতিযোগীরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পান৷ সময়ের সাথে সাথে জাতীয় পর্যায় ভেদ করে আন্তর্জাতিক প্রাঙ্গন ছুঁয়েছে এই অনুষ্ঠান৷ প্রতিযোগিতার এবারের আসরে বিশ্বের ৪১ টি দেশ থেকে সর্বমোট ২০২টি চলচ্চিত্র জমা পড়েছে।
গত আসরে ৩৪টি দেশ থেকে ছিল ৯৫টি চলচ্চিত্র। এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ রেকর্ডসংখ্যক ৩৪টি চলচ্চিত্র জমা পড়েছে। উৎসবের ষষ্ঠ আসরে প্রথমবারের মতো বিদেশি বিচারক হিসেবে ছিলেন নেপালের দেভাকি বিসত। সাংবাদিকতাকে যিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে একটি সোনালি সময় পার করছেন। ‘ইন সার্চ অব দেভাকি’ তাঁর একটি উল্লেখযোগ্য কাজ। সম্মাননা হিসেবে পেয়েছেন ২০১৮ সালে দিল্লিতে উইমেন ইকোনমিক ফোরাম কর্তৃক ‘ইয়াং ক্রিয়েটিভ লিডার ব্যাটার ফর অল’ এবং উই উইল রাইজ ফাউন্ডেশন থেকে ‘উইমেন ভিডিও মেকার অব দ্য ইয়ার ২০১৯’ অ্যাওয়ার্ড।
দেভাকি বিসত ছাড়াও বিচারক হিসেবে ছিলেন চলচ্চিত্র সমালোচক এবং লেখক সাদিয়া খালিদ রীতি। যিনি ইতিপূর্বে ৭২তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফিল্ম ক্রিটিকসের (ফিপরেস্কি) বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসে পড়াশোনা করেছেন সাদিয়া খালিদ রীতি। চলচ্চিত্র সমালোচক হিসেবে অনেক লেখা আছে রীতির। ইউল্যাব, পাঠশালা, শিল্পকলা ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে (বিসিটিআই) ফিল্ম বিষয়ে পড়ান তিনি। ঢাকা আন্তর্জাতিক মোবাইল চলচ্চিত্র উৎসবের ষষ্ঠ আসরের বিচারক ও জুরি চেয়ার আরিফুর রহমান গুপী বাঘা প্রোডাকশন লিমিটেডের একজন কর্ণধার। প্রযোজনা ও পরিচালনা বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন বুসান এশিয়াটিক ফিল্ম স্কুল থেকে। আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত একাধিক চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন আরিফুর রহমান।
বিচারকমন্ডলীর নির্বাচনে ‘স্ক্রিনিং’ বিভাগে প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত হয়েছে ৩৯টি চলচ্চিত্র, ওয়ান মিনিট বিভাগে ৫টি চলচ্চিত্র এবং কম্পিটিশন বিভাগে ১৩টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত হয়েছে। ২৮ এবং ২৯ ফেব্রুয়ারি এই চলচ্চিত্র উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রদর্শনী উপভোগ করার জন্য মোট ২২৯৭জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এছাড়া ‘কম্পিটিশন’ বিভাগের সেরা চলচ্চিত্র নির্মাতার জন্য ‘সিনেমাস্কোপ বেস্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড’ এর জন্য মনোনীত চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে—‘দ্যা কোনানড্রাম’, ‘ডিস্টর্শন’, ‘নস্টালজিয়া’, ‘সিলড ডিল’, ‘এলাইভ’। ওয়ান মিনিট ফিল্ম বিভাগের সেরা চলচ্চিত্র নির্মাতার জন্য ‘ইউল্যাব ইয়াং ফিল্মমেকার অ্যাওয়ার্ড’ এর জন্য মনোনীত চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে—‘ফ্লাওয়ার ব্যাগ’ এবং ‘অল উইনার’ চলচ্চিত্র দুটি।
চলচ্চিত্র উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় আয়োজন করা হয় মুঠোফোনে চলচ্চিত্র তৈরী বিষয়ক কর্মশালা। এবছর ষষ্ঠ আসরে প্রথমবারের মতো সীমান্ত সম্ভারের স্টার সিনেপ্লেক্সেও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও প্রথমবারের মতো ইউল্যাবের স্থায়ী ক্যাম্পাস, ক্যাম্পাস এ, ক্যাম্পাস বি এবং স্টার সিনেপ্লেক্স এ প্যারালাল স্ক্রিনিং চলবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি উৎসবের প্রথম দিন ইউল্যাবের স্থায়ী ক্যাম্পাসে উৎসবের উদ্বোধন করা হবে। এসময় উপস্থিত থাকবেন ইউল্যাব এর উপাচার্য অধ্যাপক এইচ এম জহিরুল হক এবং অধ্যাপক জুড উইলিয়াম হেনিলো। একই দিনে স্ক্রিনিং এর পাশাপাশি থাকছে ‘ফুয়াদুজ্জামান ফুয়াদ’ এর ‘দ্যা আর্ট অব স্মার্টফোন সিনেমাটোগ্রাফি’ শীর্ষক বিশেষ কথোপকথন।
উৎসবের দ্বিতীয় দিনের শুরুতে রয়েছে ‘ড. আব্দুল কাবিল খানের’ ‘আর স্মার্টফোনস দ্যা ফিউচার অব ফিল্মমেকিং’ শীর্ষক বিশেষ কথোপকথনএবং স্ক্রিনিং। দ্বিতীয় দিনের সমাপণী পর্ব অনুষ্ঠিত হবে সীমান্ত সম্ভারের স্টার সিনেপ্লেক্সে। এসময় উপস্থিত থাকবেন স্টার সিনেপ্লেক্স এর চেয়ারম্যান মাহবুব রহমান রুহেল, চলচ্চিত্র নির্মাতা কামার আহমাদ সাইমন এবং চলচ্চিত্র বোদ্ধা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রফেসর ড. গীতি আরা নাসরীন।
নতুন প্রজন্ম, নতুন প্রযুক্তি ও নতুন যোগাযোগ—এই স্লোগানকে সঙ্গী করে মোবাইলের মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাণকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছর আয়োজন করা হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক মোবাইল চলচ্চিত্র উৎসব। ষষ্ঠ আসরে উৎসব সহযোগী হিসেবে রয়েছে প্রথম আলো ডটকম, রেডিও পার্টনার হিসেবে থাকছে এবিসি রেডিও, ভেন্যু পার্টনার হিসেবে থাকছে স্টার সিনেপ্লেক্স এবং ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে রয়েছে মেডফ্ল্যাক্ট। এছাড়াও উতসবকে কেন্দ্র করে তৈরি ম্যাগাজিনে স্পন্সর হিসেবে রয়েছে এস এ খালেক প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, এবং ই- কুরিয়ার।
আনন্দবাজার/এম.কে









