দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বিশ খাতের মধ্যে ১৫টির অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। এর মধ্যে সেবা আবাসন ও পেপার খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। বিবিধ, সিমেন্ট ও সিরামিক খাতের ৮০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থানে ওঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিন ডিএসইতে সেবা আবাসন ও পেপার খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এরপর বিবিধ, সিমেন্ট, সিরামিক, ইঞ্জিনিয়ারিং, ওযুধ রসায়ন, ভ্রমন অবসর, জ্বালানি শক্তি, খাদ্য আনুষঙ্গিক, বস্ত্র, টেলিকমিউনিকেশন, চামড়া, আইটি, নন ব্যাংকিং আর্থিক খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এদের মধ্যে বিবিধ খাতের ৯৩ শতাংশ, সিমেন্ট খাতের ৮৬ শতাংশ, সিরামিক খাতের ৮০ শতাংশ, ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ৭৯ শতাংশ, ওযুধ রসায়ন খাতের ৭৫ শতাংশ, ভ্রমন অবসর খাতের ৭৫ শতাংশ, জ্বালানি শক্তি খাতের ৭৪ শতাংশ, খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতের ৭১ শতাংশ, বস্ত্র খাতের ৭১ শতাংশ, টেলিকমিউনিকেশন খাতের ৬৭ শতাংশ, চামড়া খাতের ৬৭ শতাংশ, আইটি খাতের ৬৪ শতাংশ, নন ব্যাংকিং আর্থিক খাতের ৫৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে।
এছাড়া বিমা খাতের ৪৫ শতাংশ, কর্পোরেট বন্ড খাতের ৪৩ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ৩৮ শতাংশ, ব্যাংক খাতের ৩৬ শতাংশ এবং পাট খাতের ৩৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এদিন ডিএসইর ৬৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর ও ইউনিট দর বেড়েছে। ২৫ শতাংশ শেয়ার দর কমেছে। কয়েক দিনের পতন পর পুঁজিবাজারের কোম্পানিরগুলোর অধিকাংশ শেয়ার দর এ ধরনের বৃদ্ধি সহ সূচক উত্থান স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা।
ঢাকা ও (সিএসই চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ) সূত্রে জানা যায়, পুঁজিবাজারে সব ধরনের সূচক উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন বেড়েছে ৬৫ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর। আগের কার্যদিবস থেকে এদিন ডিএসইর লেনদেন পরিমাণ বাড়লেও সিএসইর কমেছে। দুই স্টকের এদিন (মঙ্গলবার) ৬৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৬২ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং সিএসইর ৬৮ দশমিক ২০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়। এদিন উভয় স্টকের ২৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ২৫ শতাংশ এবং সিএসইর ২৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়েছে। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এ ধরনের বাড়া-কমাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, ডিএসইতে মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস সোমবার লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২১৫ কোটি ১ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮০টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ২৩৯টির বা ৬২ দশমিক ৮৯ শতাংশ, কমেছে ৯৫টির বা ২৫ শতাংশ এবং পরিবর্তন হয়নি ৪৬টির।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭১ দশমিক ৩১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯৯৭ দশমিক ৬০ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ২৯ দশমিক ৪১ পয়েন্ট ও ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ১৫ দশমিক ৬০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৫৮৮ দশমিক ৫৬ পয়েন্টে ও ১ হাজার ৪৯৭ দশমিক ৪৯ পয়েন্টে। টাকার অংকে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি হলো- বেক্সিমকো, লার্ফাজ-হোল্ডসিম, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস, ওরিয়ন ফার্মা, আরএকে সিরামিক, ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল পলিমার, বিডি ফাইন্যান্স, ইউনিয়ন ব্যাংক।
অপর পুঁজিবাজারে মঙ্গলবার সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস সোমবার লেনদেন হয়েছিল ৫২ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩০৫টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ২০৮টির বা ৬৮ দশমিক ২০ শতাংশ, কমেছে ৭৩টির বা ২৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং পরিবর্তন হয়নি ২৪টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২২৩ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫২২ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে।
এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ১৬ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ১৯৫ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ১৩৫ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট ও সিএসআই সূচক ১৩ দশমিক ৮২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৫১৬ দশমিক ৪৭ পয়েন্টে, ১৪ হাজার ৩৭৬ দশমিক ৭০ পয়েন্টে, ১২ হাজার ৩২৯ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে ও ১ হাজার ২৭৯ দশমিক ৫২ পয়েন্টে। টাকার অংকে সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি হলো- লার্ফাজ-হোল্ডসিম, আরডি ফুড, আরএকে সিরামিক, বেক্সিমকো, জিবিবি পাওয়ার, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, স্কয়ার ফার্মা, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স।
আনন্দবাজার/শহক









