নীলফামারীর ডিমলায় কৃষিতে নতুনমাত্রা যোগ করেছে বাণিজ্যিকভিত্তিতে কফির চাষ। স্বল্প খরচে লাভ বেশি পাওয়ায় এ উপজেলায় কফি চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। উপজেলা সদরের পন্ডিতপাড়া গ্রামে কফির চাষ শুরু করেন উদ্যোক্তা মোজাম্মেল হক সর্দার। কফি চাষে সুদিনের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। এক অদম্য কৌতুহল থেকে তিনি কফি চাষ শুরু করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, নিজের চার একর জমিতে অবস্থিত কৃষি খামারের ৫০ শতাংশ জায়গায় কফির বাগানটি গড়ে তোলেন মোজাম্মেল। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে ২০২০ সালে কফির চাষ শুরু করেন তিনি।
তার বাগানে বর্তমানে ৪৫০টি কফি গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছ বেশ সবল। কফির পাশাপাশি সাথি ফসল হিসেবে রোপন করেন ৪৫০টি পেঁপে গাছ। এছাড়াও পেঁয়াজ, জাপানি জাতের মিস্টিআলুসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও ফলের চাষাবাদ হচ্ছে তার বাগানে। অনেকেই প্রতিদিন আসেন তার কফি বাগান দেখতে।
চাষি মোজাম্মেল সর্দার জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সরকারি প্রণোদনায় ৬০০ চারা এনে ৪৫ শতাংশ জমিতে রোপন করি। কফি চাষাবাদে আমার কোনো সমস্যা হচ্ছে না। কৃষি অফিস থেকে আমাকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছে। তিনি আরও বলেন, কফি চাষে খরচও কম। ছয়'শ কফিতে আমার খরচ সর্বোচ্চ ১৫হাজার টাকা। শুধু আগাছা পরিষ্কার এবং ছত্রাকনাশক দিতে হয়। রোপনের দুই বছরের মধ্যেই ফল পাওয়া যায়। এরই মধ্যে অবশ্য মারা গেছে ১৫০টি চারা। তবে লাভের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। বীজ ভালো হলে আশা করছেন, প্রতি বছর ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার কফিবীজ বিক্রি হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সেকেন্দার আলী জানান, এ উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া কফি চাষের জন্য উপযোগী। মোজাম্মেল হকের বাগানটি আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করছি ও বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি। কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হলে এ অঞ্চলে কফি চাষের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।









