- দাম-ফলন ভালো, লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা
ঠাকুরগাঁওয়ে গম কাটা মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক-কৃষানীরা। গতকাল শুক্রবার সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, মাঠে পরিবারের ছোট বড় সকল সদস্যরা মিলে গম কাটা মাড়াইয়ের কাজ করছে।
কৃষক বাদল রহমান বলেন, গমের কাজে প্রচুর কষ্ট। অনেক মেহনত করতে হয় গম উৎপাদন করতে। আমরা এবারে অনেক ভালো গম উৎপাদন করতে পেরেছি। বাজারে দামও ভালো রয়েছে। আশা করি আমাদের কষ্ট সার্থক হবে।
কৃষক মফিজুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছর ধরে গম উৎপাদন করেও তেমন দাম পাইনি। শেষবার মাত্র ৯শ’ টাকা মণে গম বিক্রি করেছি। তাই এবারে গমের আবাদ অনেক কমিয়ে মাত্র দুই বিঘা জমিতে আবাদ করেছি। উৎপাদন ভালো হয়েছে। কাচা গম মাঠেই বিক্রি করেছি ১১০০ টাকা মণ দরে।
ভোলাহাট এলাকার কৃষক বলেন, অনেক কৃষকই গম উৎপাদন করতে পিছিয়ে গেছে। কারণ দীর্ঘ কযেক বছর ধরে আমরা দাম পাইনি। বাজারে গমের দাম থাকলেও কৃষকরা দাম পাইনি। এবার আমরা গমের দাম ভালো পাবো বলে প্রত্যাশা করছি। বর্তমানে বাজারে গমের বস্তা যাচ্ছে দুই মণে ২৩৫০ থেকে ২৪০০ টাকা।
বেগুনবাড়ি এলাকার কৃষক বলেন, গম আমাদের জেলার প্রধান ফসল। তবে দাম পাইনি বলে এর আবাদ কমে গেছে। এবারে পাঁচ বিঘা জমিতে গম উৎপাদন করতে আমার খরচ হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার টাকা। আশা করি দেড় লাখ টাকার গম বিক্রি করতে পারবো।
গমের পাইকারি ব্যবসায়ী রফিক বলেন, গুণাগুন যাচাই করে গম সর্বনিম্ন ২৩০০- ২৪০০ টাকা পর্যন্ত দুই মণের বস্তা বিক্রি হচ্ছে। এবারে গমের চাষ করে লাভবান কৃষকরা। গমের ফলন ভালো হয়েছে, কৃষকরা আনন্দিত।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু হোসেন জানান, এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় গমের চাষ ভালো হয়েছে। কৃষক ভালো দামে কাঁচা গম ২৩০০ থেকে ২৩৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছে। তিনি বলেন জেলায় ৪৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। আবাদ হয়েছে ৪৫ হাজার ১৯২ হেক্টর জমিতে।









