- আক্রান্ত দুই শতাধিক
- বিশুদ্ধ পানির সংকট
লক্ষীপুরের রায়পুরে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। গত সোমবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ৩৭ জন ও মঙ্গলবার সকাল থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২১ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদিকে গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় এক ব্যবসায়ী ও বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুরের একটি হাসপাতালে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি অনেকেই রায়পুর সরকারি হাসপাতাল থেকে চাঁদপুরের মতলব ডায়রিয়া হাসপাতাল চলে গেছেন। আক্রান্তের বেশিরভাগই কিশোর ও বয়স্ক।
রায়পুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ডায়রিয়া রোগিদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। এছাড়া ওষুধ ও শয্যা সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। করোনার মধ্যে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার টাঙ্কির বিষাক্ত পানি পান করার কারণে রোগীর সংখ্যা ও চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে ডায়রিয়া পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গেল বুধবার থেকে এ পর্যন্ত রায়পুরের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি ও চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন এমন রোগির সংখ্যা প্রায় ২১০ জন ছাড়িয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার রুমা আক্তার জানান, গর্ভবতী নারী ও শিশুর জন্য ১০ শষ্যা এবং পুরুষ-মহিলাদের শয্যা সংখ্যা ২০টি হলেও প্রতিনিয়ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন ৩০ থেকে ৪০ জন। সোম ও মঙ্গলবার পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪৬ জন রোগি। শয্যা সংকটের কারণে রোগীদেরকে চাঁদপুরের মতলব ডায়রিয়া হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ওয়ার্ডের সেবিকা রুমা ও বিলকিস আক্তার জানান, রোগির চিকিৎসায় পর্যাপ্ত নার্স নিয়োজিত থাকলেও পরিস্কার করার মত বয় নাই। এতে ডায়রিয়া রোগিদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগিদের দ্রুত হাসপাতাল নেওয়া ও আইভি স্যালাইন দেওয়া প্রয়োজন। সঠিক সময়ে রোগিকে হাসপাতালে এনে চিকিৎসা সেবা দিলে ডায়রিয়ার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
গত তিনদিন পৌরসভার লোকজনই বেশি ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা এবং অন্য হাসপাতালেও পাঠানো হয়।’ বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব এবং তীব্র ঠান্ডায় মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। শুনেছি দুই থেকে তিন জন ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে রায়পুর পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট বলেন, পৌরসভার পানি সবসময় পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন থাকে। বিষাক্ত পানি থাকার বিষয়টি মিথ্যা। একটি চক্র বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। ডায়রিয়ার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহŸান জানান তিনি।









