টানা তিন দিনের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গলে পর্যটন স্পটগুলো। সারাদেশে স্কুল-কলেজে পরীক্ষা শেষে হয়েছে। সেই সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি ও মহান বিজয় দিবসের টানা তিন দিনের সরকারি ছুটিতে পর্যটকরা সুন্দর্য উপভোগ করতে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন ভ্রমন স্পটে ও চা-বাগানগুলোতে ভিড় করছেন। শ্রীমঙ্গলে অবস্থান করে শ্রীমঙ্গল ছাড়াও মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে সহজে যাওয়া যায় বলে সারাদেশের পর্যটকরা প্রথমে শ্রীমঙ্গলে আসেন। এতে ছোট্ট এ পর্যটন শহরটি পর্যটকদের উপস্থিতিতে মুখরিত।
এদিকে দুরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন পুলিশ ও শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ সতর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন পর অনেক পর্যটক পেয়ে খুশি পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা। করোনা মহামারি ও দীর্ঘলকডাউন শেষে শ্রীমঙ্গলে এক সাথে এতো পর্যটক আসায় বিভিন্ন হোটেল- মোটেল, রিসোর্ট, গেস্ট হাইজগুলো চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রতিবছরই এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমন পিপাসুরা ছুটে আসেন শ্রীমঙ্গলে। মহামারির প্রভাবে এতোদিন পর্যটকরা আসতে পারেনি। এবার ১৬ ডিসেম্বর ও সরকারি ছুটি উপভোগ করতে অনেক পর্যটক আসে শ্রীমঙ্গলে। পর্যটকদের চাপে শ্রীমঙ্গল শহরের আবাসিক হোটেল ও শহরতলীর রিসোর্টগুলো পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। থাকার জন্য রিসোর্ট ও আবাসিক হোটেলে কোনো কক্ষ খালিনেই। এমন অবস্থায় আগে থেকে যারা কক্ষ রির্জাভ না করে শ্রীমঙ্গলে আসছেন তারা পড়ছেন রাত্রিযাপনের ভিড়ম্বনায়।
শুক্রবার শহরতলির কয়েকটি পর্যটন স্পটে গিয়ে দেখা যায়, পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়। চা বাগানের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি ছবি তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। আবার অনেকে বিজিবিক্যাম্প সংলগ্ন বধ্যভূমি একাত্তরের মৃত্যুঞ্জয় ভাস্কর্য ও শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। লছনা এলাকায় দেখা যায়, সেখানেও পর্যটকরা ভিড় করছেন। শ্রীমঙ্গলের প্রবেশ পথ লছনায় সড়কের পাশে নির্মিত চা কন্যার ভাস্কর্যের সামনে ও রাবার বাগানে লাইন ধরে ছবি তোলার হিড়িক পড়েছে। ভিড় পড়েছে শহরতলীর বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন ও রমেশের সাতকালার চায়ের দোকানেও।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শ্রীমঙ্গলে ৮০টির মতো ছোট-বড় হোটেল. মোটেল, কটেজ, রিসোর্ট ও গেষ্টহাউজ রয়েছে। হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে খালি কোনো কক্ষ নেই। ১৫ ডিসেম্বর থেকে পরিপূর্ণ রয়েছে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, কটেজ, রেস্টহাউজ ও গেস্ট হাইজগুলো। এ অবস্থায় নতুন করে যারা শ্রীমঙ্গল আসছেন থাকার সমস্যায় পড়ছেন তারা। চা বাগান এলাকায় রিসোর্ট না পেয়ে শহরের আবাসিক হোটেলে কক্ষ খুঁজতে হন্য হয়ে ছুটতে দেখা যায় পর্যটকদের। শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবাসংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শহরতলীর গ্রান্ড সেলিম রিসোর্টের পরিচালক
সেলিম আহমদ জানান, উনার রিসোটের্র ২৮টি কক্ষ গত বৃহস্পতিবার থেকে বুকিং ছিল। শনিবার কয়েকটি কক্ষখালি হলে নতুন করে বুকিং নেয়ার জন্য অনেকে ফোন করছেন। ছুটি শেষ হলেও পর্যটক আসবেন বলে ধারণা করছেন তিনি। তিনি আরো জানান, করোনার কারণে দীর্ঘদিন পর্যটক না আসায় তিনিসহ এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা লোকসান গুণেছেন। বিজয় দিবসের দিন থেকে রেকর্ড পরিমান পর্যটক শ্রীমঙ্গলে আসায় পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা করোনাকালের ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠতে পারবেন।









