এপেক্সের দুই প্রতিষ্ঠান--
- স্পিনিংয়ের বেড়েছে ৪২ টাকা, ফুডসের ৩৮ টাকা
- বাজারমূল্যে ৩৫ কোটি টাকা, ফুডসের ২১ কোটি টাকা
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত স্বল্পপুঁজির এপেক্স ফুডস এবং এপেক্স স্পিনিং এন্ড নিটিং মিলসের শেয়ার দর লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বিনাকারনেই মাত্র ১২ কার্যদিবসে এপেক্স ফুডসের শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ৩৮ দশমিক ২০ টাকা। একই সময় এপেক্স স্পিনিং এন্ড নিটিং মিলসের শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ৪১ দশমিক ৯০ টাকা। এসময় দুই কোম্পানির শেয়ারের মধ্যেমে বাজার মূলধন বেড়েছে ৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৯১ হাজার ৬৮০ টাকা।
শেয়ার দরের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে কোম্পানি দুটির শেয়ার ধারন করা বিনিয়োগকারীদের মাঝে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অপরদিকে কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর কেন এতো বাড়ছে, তার প্রকৃত কারণ জানে না বলে জানান এপেক্স ফুডস এবং এপেক্স স্পিনিংয়ের কর্তৃপক্ষ।
পুঁজিবাজারের সংশ্লিষ্টরা বলেন, এপেক্স ফুডস এবং এপেক্স স্পিনিং কোম্পানি দুটি লাভবান প্রতিষ্ঠান। তারপর গত ২৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। সেখানে কোম্পানি দুটো অতীতের একই সময়ের তুলনায় মুনাফা বেড়েছে। লাভ বৃদ্ধির খবর প্রকাশের পর থেকে কোম্পানি দুটোর শেয়ার দর আরো বাড়তে থাকে। এধরনের বৃদ্ধির গতি অনেকটা স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু গত ১২ কার্যদিবসে কোম্পানি দুটোর শেয়ার দর বৃদ্ধি লাগামহীন হয়ে ওঠে। এধরনের বৃদ্ধি কোন কারন নেই। ফলে কোম্পানির দুটোর শেয়ার বৃদ্ধিকে বাঁকা চোখে দেখছেন তারা।
এপেক্স ফুডসের মোট শেয়ার সংখ্যা ৫৭ লাখ ২ হাজার ৪০০টি। ওই ১২ কার্যদিবসে
কোম্পানিটির মোট শেয়ারের বাজার মূল্যে বেড়েছে ২১ কোটি ৭৮ লাখ ৩১ হাজার ৬৮০ টাকা। এসময়ে শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ৩৮ দশমিক ২০ টাকা। এসময়ে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের মাধ্যমে বাজার মূল্যে বেড়েছে ১৩ কোটি ২৯ লাখ ৬৪ হাজার ৪৫৭ টাকা।
‘এপেক্স ফুডসের শেয়ার দর বৃদ্ধির প্রসঙ্গে কোম্পানির সচিব কামরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, শেয়ার দর কেন বৃদ্ধি পাচ্ছে জানি না। যা বলার সম্পতি ডিএসইকে জানিয়েছে। নতুন করে আমাদের কিছু বলার নেই।’ ‘শেয়ার দরের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে কোম্পানির কোন কর্মকর্তা জড়িত নেই দাবি করেও তিনি বলেন, এপেক্স ফুডসের শেয়ার দর বৃদ্ধির বিষয়টি কেবল বিনিয়োগকারীরাই বলতে পারবে। কেন তারা অতি উচ্চ দরে শেয়ার কেনাবেচা করছেন।’
অপরদিকে, এপেক্স স্পিনিংয়ের মোট শেয়ার সংখ্যা ৮৪ লাখ। মাত্র ১২ কার্যদিবসে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের বাজার মূল্যে বেড়েছে ৩৫ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এসময়ে শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ৪১ দশমিক ৯০ টাকা। এই সময়ে সাধারণ, বিদেশি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের মাধ্যমে বাজার মূল্যে বেড়েছে ১৫ কোটি ৫১ লাখ ৪৩ হাজার ৯৬৮ টাকা।
‘এপেক্স স্পিনিংয়ের শেয়ার দর বৃদ্ধির প্রসঙ্গে কোম্পানির সচিব দেলোয়ার হোসেনকে মুঠোফোনে কয়েকবার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।’ পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, নিয়ম অনুসারে শেয়ার দর বাড়া-কমার পেছনে কোম্পানির কর্মকর্তারা কাজ করেন না। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোম্পানির শেয়ার দর বাড়া- কমার তাদের (কর্মকর্তা) অদৃশ্য ছোঁয়া থাকে। তাদের ছোঁয়া ছাড়া কোনো কোম্পানির শেয়ার দর লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে যায় না। কারণ তারাই জানেন কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্য।
যেসব তথ্য শেয়ার বাড়া-কমার ক্ষেত্রে জাদুকরি ভূমিকা রাখে। তাই শেয়ার দর বাড়ার জাদুকরি প্রতিষ্ঠানদুটোর প্রতি বিশেষ নজর দিতে পুঁজিবাজার রেগুরেটরকে অনুরোধ করেন তারা। এপেক্স ফুডস এবং এপেক্স স্পিনিংয়ের শেয়ার বৃদ্ধির প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহি পরিচালক ও মূখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, দুটো কোম্পানির শেয়ার দর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বিষয়টি কমিশনের নজরে এসেছে। এধরনের বৃদ্ধির পেছনে কারো সম্পৃক্ততা আছে কিনা, তা বিএসইসি খতিয়ে দেখবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে, আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
এদিকে শেয়ার দর ধারাবাহিকভাবে বাড়ার কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে কোম্পানি দুটিকে নোটিশ পাঠিয়েছিল। ওই নোটিশের জবাবে কোম্পানিগুলো গত ২২ ফেব্রুয়ারি ডিএসইকে জানায়, শেয়ার দর এভাবে বাড়ার পেছনে কোনো কারণ নেই। কোনো রকম অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই তাদের শেয়ার দর এভাবে বাড়ছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত বৃহস্পতিবার এপেক্স ফুডসের শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ২১১ দশমিক ৫০ টাকা। এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ১৭৩ দশমিক ৩০ টাকা। ১২ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৩৮ দশমিক ২০ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৫৭ লাখ ২ হাজার ৪০০টি। সেই হিসাবে বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির মোট শেয়ারের বাজার মূল্যে হয়েছে ১২০ কোটি ৬০ লাখ ৫৭ হাজার ৬০০ টাকা। ৮ ফেব্রুয়ারি শেয়ারের বাজার মূল্যে ছিল ৯৮ কোটি ৮২ লাখ ২৫ হাজার ৯২০ টাকা। এই সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের বাজার মূল্যে বেড়েছে ২১ কোটি ৭৮ লাখ ৩১ হাজার ৬৮০ টাকা। মোট শেয়ারের মধ্যে ৬১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ ধারন করেছে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী।
গত বৃহস্পতিবার এপেক্স স্পিনিং শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১৭২ দশমিক ১০ টাকা। এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ১৩০ দশমিক ২০ টাকা। ১২ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৪১ দশমিক ৯০ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৮৪ লাখ। সেই হিসাবে বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির মোট শেয়ারের বাজার মূল্যে হয়েছে ১৪৪ কোটি ৫৬ লাখ ৪০ হাজার।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি শেয়ারের বাজার মূল্যে ছিল ১০৯ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এই সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের বাজার মূল্যে বেড়েছে ৩৫ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। মোট শেয়ারের মধ্যে ৪৪ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ ধারন করেছে সাধারণ, বিদেশি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। ১২ কার্যদিবসে কোম্পানি দুটির বাজার মূল্যে এতো বৃদ্ধি, এটা কোনোমতে মানতে রাজি নন, এ কোম্পানির শেয়ার ধারন করা বিনিয়োগকারীরা। তাই শেয়ার দর বাড়ার কারণ জানার জন্য সংশ্লিষ্ট রেগুলেটরদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।
গত ২৬ জানুয়ারি ডিএসইতে কোম্পানিটির দ্বিতীয় প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এপেক্স স্পিনিং। সেখানে দেখা যায়, কোম্পানিটি চলতি অর্থবছরের (২০২১-২০২২) দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) লাভ পূর্বের চেয়ে বেড়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ দশমিক ১৬ টাকা। যেখানে আগের অর্থবছরের (২০২০-২০২১) দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) শেয়ার প্রতি আয় ছিল ১ দশমিক শূন্য ৪ টাকা। চলতি অর্থবছরের দুই প্রান্তিকে (জুলাই-ডিসেম্বর) শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ দশমিক ৮১ টাকা। আগের অর্থবছরের দুই প্রান্তিকে (জুলাই-ডিসেম্বর) শেয়ার প্রতি আয় ছিল ১ দশমিক ৭৫ টাকা। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্যে দাঁড়িয়েছে ৫৬ দশমিক ১৫ টাকা।
অপরদিকে একইদিনে ডিএসইতে কোম্পানিটির দ্বিতীয় প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এপেক্স ফুডস। সেখানে দেখা যায়, কোম্পানিটি চলতি অর্থবছরের (২০২১-২০২২) দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) লাভ পূর্বের চেয়ে বেড়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে দশমিক ৪৩ টাকা। যেখানে আগের অর্থবছরের (২০২০-২০২১) দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) শেয়ার প্রতি আয় ছিল দশমিক ৩৩ টাকা। চলতি অর্থবছরের দুই প্রান্তিকে (জুলাই-ডিসেম্বর) শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ দশমিক ১০ টাকা। আগের অর্থবছরের দুই প্রান্তিকে (জুলাই-ডিসেম্বর) শেয়ার প্রতি আয় ছিল দশমিক ৭০ টাকা। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্যে দাঁড়িয়েছে ১১৭ দশমিক ৯৫ টাকা।









