করোনার প্রভাবে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নামায় কর্মহীন হয়ে পড়ে কোটি কোটি মানুষ। এতে মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা খাদ্যের জোগান স্বাভাবিক রাখা নিয়েও তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। যে কারণে করোনা পরবর্তী সংকট এড়াতে খাদ্যপণ্যের মজুদ বাড়াচ্ছে ভোক্তা দেশগুলো।
বিশ্বের শীর্ষ কৃষিজ ভোগ্যপণ্য ক্রেতা দেশগুলো আগ্রাসী আমদানি নীতি গ্রহণ করেছে শুরু থেকেই। ইতোমধ্যে রেকর্ড পরিমাণ গমের মজুদ গড়ে তুলেছে জর্ডান। বিশ্বে খাদ্যশস্যটির শীর্ষ ক্রেতা দেশ মিসর চলতি বছরের এপ্রিল থেকে গম আমদানি ৫০ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে। কেবল জর্ডান বা মিসর নয়। খাদ্যপণ্যের সম্ভাব্য ঘাটতি এড়াতে আগেভাগেই মজুদ বাড়িয়েছে বিশ্বের প্রায় সব আমদানিকারক দেশ। তাইওয়ান জানিয়েছে, তারা তাদের খাদ্যপণ্যের কৌশলগত মজুদ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
ব্যাংক অব আমেরিকার বিশ্লেষকরা বলেছেন, কভিড-১৯ মহামারীর কারণে ক্রেতারা এখন ‘জাস্ট-ইন-টাইম ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট’-এর পরিবর্তে ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের জন্য মজুদ রাখার নীতি গ্রহণ করেছেন। ফলে ভবিষ্যৎ সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় তারা অনেক বেশি পণ্য মজুদ করে রাখছেন।
জাতিসংঘের অধীনস্থ খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ আব্দুলরেজা আব্বাসিয়ান বলেছেন, করোনাভাইরাস সাপ্লাই চেইনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—এমন আশঙ্কায় কিছু দেশ আগে থেকেই খাদ্যপণ্য ক্রয় বাড়িয়ে দিয়েছে।
মিসর ও পাকিস্তান কৌশলগত মজুদ বাড়ানোর অংশ হিসেবে আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছে। কিছু দেশ আবার অভ্যন্তরীণ সরবরাহের ঘাটতি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে মজুদ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া তুরস্ক ও মরক্কো ফলন ভালো না হওয়ায় আমদানি বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডে ফুড কনগ্লোমারেট আর্চার-ড্যানিয়েলস-মিডল্যান্ড করপোরেশনের গ্লোবাল ট্রেড ডেস্ক জানিয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকটা তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো কেটেছে।
প্রতিষ্ঠানটির চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার রে ইয়ং বলেছেন, কভিড-১৯ মহামারী চলাকালে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের অবস্থা কেমন থাকবে, তা নিয়ে নিশ্চিত নয় কেউই। এ কারণে দেশগুলো তাদের খাদ্যপণ্যের রিজার্ভ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস









