- টঙ্গী-আব্দুল্লাহপুর থেকে স্পীডবোট যাবে গাজীপুরের দুটি এলাকায়
টঙ্গী নদী বন্দর থেকে গাজীপুর মহানগরের কড্ডা এবং কালীগঞ্জের উলুখোলা পর্যন্ত দুটি নৌ রুটে স্পিডবোট সার্ভিস চালু হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় টঙ্গী নদী বন্দরে বেসরকারি পাঁচটি স্পিড বোটের মাধ্যমে সার্ভিসটির উদ্বোধন করেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি। এর আগে তারা টঙ্গীর নদীবন্দর মিরাশপাড়া এলাকায় অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটি)’র একটি ইকোপার্ক উদ্বোধন করেন।
বি আই ডব্লিউ টি এ’র জনসংযোগ কর্মকর্তা ওয়ারেস মজুমদার জানান, টঙ্গী থেকে গাজীপুর মহানগরের কড্ডা পর্যন্ত স্পীড বোটে যেতে সময় লাগবে ২৫ মিনিট যার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। অপরদিকে, টঙ্গী থেকে কালীগঞ্জের উলুখোলা পর্যন্ত যেতে সময় লাগবে ১৯ মিনিট, যার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১২০ টাকা। এটি ঢাকা বৃত্তাকার নৌপথ। পরবর্তী সময়ে যাত্রী চাহিদার ভিত্তিতে ঢাকার চারদিকে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদীতে বৃত্তাকার ১১০ কিলোমিটার নৌপথে ধাপে ধাপে নৌযান চালু প্রক্রিয়াধীন।
ওই কর্মকর্তা জানান, বি আই ডব্লিউ টি এ কর্তৃক বৃত্তাকার নৌপথের নদী খননসহ নয়টি ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণের মাধ্যমে নৌপথটি চালু করা হয়। বর্তমানে ওই নৌপথে মালামাল পরিবহন ব্যবস্থায় গুরুত্ব পেলেও নিন্ম উচ্চতার সেতু, অতিরিক্ত সময় এবং যাত্রীবান্ধব পরিবেশের অভাবে সাশ্রয়ীমূল্যে পরিবহন ব্যবস্থা যাত্রীবান্ধব করা সম্ভব হয়নি। অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশন (বি আই ডব্লিউ টি সি) কর্তৃক ওয়াটার বাস চালু করা হলেও বিভিন্ন কারণে তা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে টঙ্গী নদীবন্দর হতে বৃত্তাকার নৌপথে যাত্রী চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্রুতগামী স্পীডবোট-চালুর পদক্ষেপ নেয়া হয়। তাছাড়া যাত্রী চাহিদার আলোকে ঢাকা শহরের বৃত্তাকার নৌপথে নতুন নৌপথ সৃষ্টি করে দ্রুতগামী স্পীডবোট চালুর আরো পদক্ষেপ নেয়া হবে। ঢাকার বৃত্তাকার নৌপথে স্পীডবোট চালু হলে জনগণ যানজটমুক্ত ও সাশ্রয়ীমূল্যে যাতায়াত করতে পারবে এবং সড়ক পথে যানবাহনের চাপ কমাতে সহায়তা করবে।
নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে টঙ্গীর মিরাশপাড়া নদীবন্দর এলাকায় ১১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে টঙ্গী ইকোপার্ক উদ্বোধন করা হয়েছে। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এখানে পাঁচতলা বিশিষ্ট একটি ওয়াচ টাওয়ার, ছয়টি চাইল্ড রাইড ও একটি ঝর্ণা রয়েছে। নির্দিষ্ট ফি দিয়ে পার্কে প্রবেশ করা যাবে। টঙ্গী ইকোপার্ক নির্মাণ কাজটি ৮ নভেম্বর ২০২০ শুরু হয়ে ১৫ এপ্রিল ২০২২ সম্পন্ন হয়েছে। টঙ্গী নদী বন্দর এলাকায় ৩.০ একর অধিগ্রহণকৃত ভূমির মধ্যে ২.৫ একর ভূমিতে ইকোপার্কটি নির্মিত হয়।
এ প্রকল্পের আওতায় অপর দু’টি ইকোপার্ক ঢাকার বড়বাজার গাবতলী এবং নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ ফেরীঘাট এলাকায় এবছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কর্তৃক সম্পূর্ন প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ২০১৮ থেকে জুন ২০২৩ পর্যন্ত। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৮১ কোটি ১০ লাখ ৩১ হাজার টাকা।
স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জসীম চাকলাদার ও আনিসুর রহমান বলেন, নদীতে স্পীডবোট চালু করায় এখন যাতায়াতে সুবিধা হবে। ইকোপার্কটি নির্মাণের ফলে ঘনবসতিপূর্ণ কর্মব্যস্ত এলাকাটিতে দৃষ্টিনন্দন বিনোদনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এখানে ফলজ, বনজ ও ঔষধিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোস্তফা কামাল, বি আই ডব্লিউ টি এ’র চেয়ারম্যান কমোডোর গোলাম সাদেক, নৌ-পুলিশ প্রধান শফিকুল ইসলাম, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি’র) কমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলাম, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আনিসুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।









