লাদাখ সীমান্তের উত্তজনা কমাতে কূটনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক স্তরে চীনের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে ভারত। কারণ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় স্থিতাবস্তা ফেরানোই ভারতের উদ্দেশ্য। তবে অন্যদিকে, লাদাখে সামরিক শক্তি বাড়িয়েই চলেছে চীন। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি সীমান্তে নতুন করে বোমারু এবং এয়ার ডিফেন্স মিসাইল মোতায়েন করেছে।
চীন-ভারতের উত্তেজনার মধ্যেই লাদাখে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে চীন। এতে গত দুই সপ্তাহ ধরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ভারতের প্ররোচনায় সীমান্তে। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সীমান্তে বোমারু, এয়ার ডিফেন্স মিসাইল, আর্টিলারি, সাঁজোয়া গাড়ি, পদাতিক বাহিনী ও স্পেশ্যাল ফোর্স মোতায়েন করা হচ্ছে। পিএলএ চীনের সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা রক্ষা করতে কতটা সক্ষম তার প্রমাণ এটাই।
গত মে মাস থেকেই পূর্ব লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনার পারদ জমছে। চীন ঘাঁটি গেরে বসেছে প্যাংগং লেক, গলওয়ান, দেপসাং উপত্যকার মতো ভারতীয় ভূখণ্ডে। গত ১৫ জুন রাতে গলওয়ান উপত্যকায় বিনা প্ররোচনায় ভারতীয় সেনার উপর হামলা চালিয়েছিল চীনা বাহিনী। সেদিন অনুপ্রবেশকারী পিএলএ-কে রুখে নিহত হন এক কর্নেলসহ ২০ জন ভারতীয় সেনা। এবং ওই সংঘর্ষে প্রাণ হারায় অনেক চীনা সেনাও। তবে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে হতাহতের সংখ্যা জানায়নি চীন।
গত আগস্ট মাসের শেষদিকে পালটা প্যাংগং লেকের দক্ষিণ প্রান্তের বেশকিছু এলাকার দখল নেয় ভারতীয় সেনারা। ওই এলাকা পুনরুদ্ধারেই গত কয়েকদিন ধরে তৎপর পিএলএ। ভারতীয় সেনা সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার প্রথম প্যাংগংয়ের দক্ষিণপ্রান্ত দখলের চেষ্টা করে চীন। তবে ভারতীয় সেনার তৎপরতায় ব্যর্থ হয় সেই চেষ্টা। পরবর্তীতে রোববার এবং সোমবার ফের চীন ওই এলাকা দখলের চেষ্টা করে। তবে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়েনি ভারতীয় সেনারা। হতাশায় শূন্যে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিও ছোড়ে পিএলএ। এতে দীর্ঘ ৪৫ বছর পর ভারত-চীন সীমান্তে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। তবে চীন গুলি চালানোর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। উল্টো ভারতীয় সেনার বিরুদ্ধেই পাল্টা গুলি চালানোর অভিযোগ করেছে দেশটি।
আনন্দবাজার/টি এস পি









