‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, সেদিন থেকে গানই জীবন-গানই আমার প্রাণ’-এমন একটি গান গেয়েছিলেন প্রয়াত সঙ্গীত শিল্পী এন্ড্রু কিশোর। এন্ড্রু কিশোর এমন সুরে আকৃষ্ট হয়ে জীবনে গানকেই বেছে নিয়েছেন এন্ড্রু কিশোর ঘোষিত একমাত্র শিষ্য রবি কিশোর।
গানকে ভালোবেসে জীবনের অনেক কিছুই হারিয়েছেন রবি কিশোর। সুযোগ পেয়েও করেননি ভালো চাকুরি। বরং গানের পেছনে ছুটে অর্থনৈতিকভাবেও দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তবুও গানের পেছনে ছুটে চলা তার। প্রয়োজন একটি প্লাটফর্ম। প্লাটফর্ম পেতে একটু সুযোগ খুঁজছেন। এজন্য জীবনের দীর্ঘসময় পাড়ি দিয়েছেন এ গানপ্রেমী। রবি কিশোর নামটি প্রয়াত এন্ড্রু কিশোরের দেয়া। তার পুরোনাম রবিউল ইসলাম। রবিউল ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের উত্তর মান্দিয়া গ্রামের মো. সরবেশ আলীর ছেলে।
রবিউল ইসলাম জানান, ২০০১ সালে সিনেমা হলে রুপালী পর্দায় বাংলা ছবিতে গাওয়া এন্ড্রু কিশোরের গানশুনে তার প্রতি আকৃষ্ট হন। এরপর থেকেই এন্ড্রু কিশোরের গান নিয়ে চর্চা শুরু করেন রবিউল। ওই বছরই শিশু-কিশোরদের নিয়ে কাজ করা একটি প্রজেক্ট ‘সেভ দ্যা চিলড্রেন অস্ট্রেলিয়া’ ‘জানতে চাই, জানাতে চাই’ নামে একটি অনুষ্ঠান করে। অনুষ্ঠানটি বিটিভিতে প্রচারিত হয়। সেই অনুষ্ঠানে ৫টি গান করেন রবিউল। সবগুলো গানই ছিলো এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া গান। সেই অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই এন্ড্রু কিশোরের ঠিকানা পান রবিউল। তারপর থেকে এন্ড্রু কিশোরের বাসায় রবিউলের যাওয়া-আসা এবং নিয়মিত যোগাযোগ। ২০০৮ সালে এন্ড্রু কিশোর নিজের নামের সাথে মিলিয়ে রবিউলের নাম দেন রবি কিশোর। ২০১৩ সালে এসএ টিভিতে ‘বাংলাদেশী আইডল’ নামের একটি রিয়েলিটি-শোতে অংশ নেন রবি কিশোর। বিচারক ছিলেন এন্ড্রু কিশোর, আইয়ুব বাচ্চু, ফেরদৌসি রহমান ও মেহেরিন। ওই সময় তার গানে মুগ্ধ হয়ে এন্ড্রু কিশোর রবি কিশোরকে একটি মগ উপহার দেন। এতে রবি কিশোরের উৎসাহ আরও বেড়ে যায়। গানের চর্চাও বাড়িয়ে দেন তিনি। সেই প্রয়াত এন্ড্রু কিশোরের পথেই প্রতিষ্ঠিত সঙ্গীত শিল্পী হওয়ার পথ খুঁজছেন রবি কিশোর।
২০১৯ সালে ১২ এপ্রিল টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ইব্রাহীম খাঁ কলেজে একটি অনুষ্ঠানে এসে রবি কিশোরকে নিয়ে একসাথে গান গান এন্ড্রু কিশোর। এটাই ছিলো এন্ড্রু কিশোরের জীবনের শেষ গানের অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের সামনে এন্ড্রু কিশোর রবি কিশোরকে তার শিষ্য হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। এর এক সপ্তাহ পরই অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর চলে যান এন্ড্রু কিশোর। ৯ মাস পর দেশে ফিরেন তিনি। ২০২০ সালের ৬ জুলাই তিনি মারা যান। রবি কিশোর এন্ড্রু কিশোরের মরদেহ দেখতে রাজশাহীতে যান। মরদেহ সামনে পেয়ে এই ভক্ত অঝোরে কাঁদতে থাকেন। অধিকাংশ টিভি চ্যানেলে ভক্তের এ ভালোবাসা দেখানো হয়। রবি কিশোরের পরিচিতি আরও বাড়তে থাকে।
এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুর পর প্লাটফর্ম হারিয়ে ফেলেছেন রবি কিশোর। তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো রবি কিশোর প্রতিষ্ঠিত শিল্পী হওয়ার সুযোগ পেতেন। এন্ড্রু কিশোরের একমাত্র ঘোষিত শিষ্য, চেহারাতে অনেকটা মিল। গানের সুর বা ভঙ্গিমাও এন্ড্রু কিশোরকে অনুস্মরণ। স্টেজেও গান গাইছেন নিয়মিত। ইচ্ছে, প্রতিষ্ঠিত শিল্পী হওয়া। প্রয়োজন একটু সুযোগের। গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালকদের কাছে গান গাওয়ার সুযোগের অনুরোধ জানান এ সঙ্গীত শিল্পী।
আনন্দবাজার/এম.আর









