মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে গরু পালনে আগ্রহ বাড়ছে। আগামী ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে গ্রামের প্রায় বাড়িতেই অল্পপুঁজিতে ছোট খামার গড়ে তোলা হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হওয়ায় এসব গরু মোটাতাজা করণে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও বিশেষ অবদান রাখছেন। বিভিন্ন এনজিও সংস্থার কাছ থেকে ঋণের মাধ্যমে স্বল্পআয়ের কৃষক পরিবারগুলো ছোট খামারের দিকে ঝুঁকছেন। খামারগুলোতে দেশি বিদেশী জাতের ষাঁড়ের পাশাপাশি দুধের গাভী পালন করা হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, তালিকা অনুযায়ী খামারিদের সংখ্যা ৪ শতাধিক। গবাদি পশুর বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষে মাঠে মাঠে কর্মীরা কাজ করছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, শ্রীনগরে ১৪ ইউনিয়নের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে বেশি গরু লালন পালন হচ্ছে রাঢ়িখাল, ভাগ্যকুল, বীরতারা, বাঘড়া, কুকুটিয়া ও ষোলঘর এলাকায়। খামারগুলোতে ষাড় গরুর মোটাতাজাকরণের পাশাপাশি অনেকেই দুগ্ধ খামার গড়ে তুলেছেন।
রাঢ়িখাল এলাকার খামারি কেএম রাজু আহমেদ বলেন, তার খামারে ৮টি দুধের গাভীসহ মোট ২৫টি গরু আছে। আগামী ঈদুল আযহার কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য সামনে ৫টি ষাঁড় মোটাতাজা করা হচ্ছে। কুকুটিয়া এলাকার মোস্তফা শেখ ও আমিনা বেগম জানান, গত কোরবানির হাঁটে ষাঁড় বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। এবছরও তারা গরু লালন পালন করছেন। তারা বলেন, খোলা বাজারে গো-খাদ্যের দর বৃদ্ধি পাওয়ায় গরু পালনে খরচ বেড়েছে। বীরতারা এলাকার আবুল হোসেন হাওলাদার বলেন, ব্যুরো বাংলাদেশ (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়ে ১৮টি গরু পালন করছেন। খামার থেকে দৈনিক প্রায় ৫০ লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে।
ওহিদুল ইসলাম জানান, বাড়িতে ষাঁড় ও গাভী মিলে মোট ১২টি গরু পালন করছেন। তিনি কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। ষোলঘর এলাকার শেখ সিদ্দিক বলেন, তার খামারে মোট গরুর সংখ্যা ৬০টি। দুধ উৎপাদণের পরিমান ১৯০ থেকে ২০০ লিটার। প্রতিকেজি দুধ ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করোনাকালীন সময়ে গত বছর বিকাশের মাধ্যমে সরকারের ২০ হাজার টাকা প্রণোদনা পেয়েছেন তিনি।
শ্রীনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, উপজেলায় ছোট বড় প্রায় ৪০৩টি গরুর খামার রয়েছে। খামারিদের নামের তালিকা প্রস্তুত করে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। এর মধ্যে অনেকেই প্রণোদনা পেয়েছেন। নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারীত ফি গ্রহণের মাধমে গবাদি পশুররোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু কিছু পশু রোগের ফ্রি চিকিৎসা প্রদান করা হয়।









