মানুষের সবচেয়ে কাছের পুলিশ বাহিনী। সাধারণ জনজীবনে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় পুলিশ বাহিনীকেই। সরকারি যত বিভাগ আছে তার মধ্যে প্রতিমুহূর্তে, প্রতিদিন কোনো না কোনোভাবে পুলিশ বাহিনীকে মানুষের প্রয়োজন। আর এটার প্রধানতম কারণ মানুষের দৈনন্দিন আইনশৃঙ্খলার পুরো বিষয়টির সাথেই পুলিশ বাহিনীর সম্পৃক্ততা। ফলে দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ আমাদের পুলিশ বাহিনী। যদিও এই বাহিনীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষেরই অভিযোগের অন্ত নেই।
অভিযোগ নিয়েই তারা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এ কারণে নানা সময়ে পুলিশ বাহিনীকে এসব অভিযোগ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য স্বয়ং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জায়গা থেকেও অনেক কথা বলা হয়ে থাকে। কিন্তু বাস্তবে তার কতটুকুই বা প্রতিফলন ঘটে। উন্নতির চাইতে অবনতি ঘটছে অনেক ক্ষেত্রেই। দেশ যত এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের পুলিশ বাহিনী থেকে শুরু করে সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা যেন ততই পিছিয়ে যাচ্ছে। আদেশ-নির্দেশ-উপদেশ, পরামর্শ কোনো কাজেই আসছে না। বিশেষ করে শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা যদি উচ্ছৃঙ্খল কিছু করে সেক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক। এমনই ঘটনা নারীর কপালে টিপ পরা নিয়ে একজন পুলিশ সদস্যের কটূক্তি। যা নিয়ে দেশে তোলপাড় হচ্ছে। প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। উঠাটা খুবই স্বাভাবিক। যেখানে এমন কাজ অন্য কেউ করলে পুলিশের কাছেই অভিযোগটি যেত, সেখানে পুলিশের বিরুদ্ধেই এই অভিযোগ।
ফলে তোলপাড় হচ্ছে বেশি। সড়কে, বাইরে নারীর নিরাপদ চলাচল তো পুলিশকেই নিশ্চিত করতে হবে। সেখানে পুলিশের এসব বিতর্কিত কাজে জড়িয়ে পড়াটা অবশ্যই অন্যায়। সেই অন্যায়েরই প্রতিবাদ হচ্ছে। আসলে আমাদের পুলিশ বাহিনীকে শুধু অপরাধ, অপরাধী ধরলেই চলবে না, বন্ধুক ঘাড়ে মানুষের পাহারার দায়িত্ব পালন করলেই চলবে না, বন্দুক চালনা শিখলেই চলবে না, আর মানুষের ভয় ভীতির বাহিনী হলেই চলবে না। আজ ব্যক্তির অপরাধের কারণে কিন্তু পুরো বাহিনী প্রশ্নবিদ্ধ। আমরা দিনাজপুরের ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের কথা ভুলে যাই নি। সেখানেও পুলিশ বাহিনীর বিচার হয়েছে। সম্প্রতি ওসি প্রদীপের ঘটনাও আরেকটি প্রমাণ। পুলিশের ক্ষমতা অনেক। পোশাকই ক্ষমতা নয়। পোশাক, বন্দুক এবং এই ক্ষমতার বাইরে আরও যে কিছু আছে সেসব শিক্ষা থাকতে হবে। বিশেষ করে মানসিকতার প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাদের সামাজিক সচেতনতা থাকতে হবে। কোন সমাজে বসবাস করছি সে সম্পর্কে জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক থাকতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধ, দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনাবোধ, সংবিধান, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা এসব পড়ে জ্ঞান ধারণ করতে হবে। কোন পরিস্থিতি বা কোন পর্যায়ে কার সঙ্গে কী ব্যবহার করা যায় এসব জ্ঞান থাকতে হবে। এখন কিন্তু বৃটিশ বা পাকিস্তানের পুলিশ বাহিনী নয়, এটি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার পুলিশ বাহিনী। সেটি মাথায় আসতে হবে। কটূক্তি, হেনস্থা করার মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে। মানুষের বন্ধু হতে হবে। এ কথাটি শুধু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মুখে বললেই চলবে না। কাজে প্রতিফলন থাকতে হবে। টিপ নিয়ে কটাক্ষ করে যে পুলিশ সদস্য অভিযুক্ত হয়েছেন, তদন্ত সাপেক্ষে তার বিচার নিশ্চয়ই হবে। এই ঘটনা থেকে পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষণ যেভাবে দেয়া হয় তাতে নিশ্চয়ই নতুন মাত্রা যোগ হবে।









