সিরাজগঞ্জের শাড়ি-লুঙ্গি কিনতে ভারত থেকে আসছেন পাইকাররা
বিভিন্ন আয়ের মানুষের কথা ভেবে দেড়শ টাকার লুঙ্গি থেকে তিন হাজার টাকার লুঙ্গি তৈরি করছেন তাঁতীরা। আবার কখনও সাড়ে তিনশ টাকার শাড়ি থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকা মুল্যের শাড়িও তৈরি হচ্ছে এখানে। এসব কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। সুতার কাজ, রংয়ের কাজ, চরকার কাজসহ কাপড় বুননে দিনরাত শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন নারী-পুরুষ, এমনকি শিক্ষার্থীরাও।
সিরাজগঞ্জ জেলার তাঁতিদের তৈরি রকমারি ডিজাইনের শাড়ি, লুঙ্গি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের প্রিয় পোশাক। ব্যাপক চাহিদার কারণে দেশ ছাড়িয়ে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানি হচ্ছে এসব শাড়ি লুঙ্গি। ভারত থেকে পাইকাররা এখানে এসে ভিড় করছেন। তারা ভারতের চেয়ে কম দামের শাড়ি কিনে দেশে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেক সময় তারা নতুন অর্ডারও দিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিমাসেই ভারতীয়রা শাহজাদপুরে হাটে আসছেন।
বিভিন্ন আয়ের মানুষের কথা ভেবে দেড়শ টাকার লুঙ্গি থেকে তিন হাজার টাকার লুঙ্গি তৈরি করছেন তাঁতীরা। আবার কখনও সাড়ে তিনশ টাকার শাড়ি থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকা মুল্যের শাড়িও তৈরি হচ্ছে এখানে। এসব কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। সুতার কাজ, রংয়ের কাজ, চরকার কাজ =সহ কাপড় বুননের কাজে দিবা-রাত্রী শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন নারী-পুরুষ এমনকি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।
গুণমানে ভালো হওয়ায় সারাদেশে সিরাজগঞ্জের শাড়ি-লুঙ্গির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রংপুর জেলায় সিরাজগঞ্জের শাড়ি-লুঙ্গির কদর বেশি। নামি দামি ব্যান্ডের শো-রুমে বিক্রি হচ্ছে এসব কাপড়। এছাড়াও ভারতের মুর্শিদাবাদ, সমুদ্রগড়, শান্তিপুর, গঙ্গারাম, ভালুকা, রায়গঞ্জ ও ত্রিপুরার কিছু কিছু এলাকাতেও রপ্তানি হচ্ছে। শাহজাদপুরের কাপড় ব্যবসায়ীরা জানান, সিরাজগঞ্জে তাঁতে তৈরি কাপড়ের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
বিগত ১০-১৫ বছর ধরে পাওয়ারলুমে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, তামাই, সোহাগপুর, এনায়েতপুর, বেতিল, শাহজাদপুর, পাচলিয়া, উল্লাপাড়া, পাইকোশা, এনায়েতপুরে তাঁতের শাড়ি, লুঙ্গি গামছা ব্যাপকভাবে তৈরি হচ্ছে। এসব এলাকাকে সিরাজগঞ্জের তাঁতপল্লী বলা হয়। তাঁতপল্লীগুলোতে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত শ্রমিকরা পাওয়ারলুম-পিটলুম ও হস্তচালিত তাঁতে নিখুঁতভাবে তৈরি করছেন সুতি কাতান, সুতি জামদানি, সিল্ক, রেশম শাড়িসহ নানান ডিজাইনের লুঙ্গি ও গামছা।
একজন শ্রমিক সাধারণত হস্তচালিত তাঁতে একদিনে একটি শাড়ি বুনতে পারেন। আর পাওয়ারলুমে দিনে দুইটি শাড়ি বুনতে পারেন। তবে বেশি মাত্রার কারুকাজ করা শাড়ি বুনতে সময় লাগে বেশি। শাড়ি বুননের পর ফুল তোলা বা নকশা কাটার বাড়তি সুতা কাঁচি দিয়ে কেটে চূড়ান্তভাবে নকশা ফুটিয়ে তোলেন নারীরা। অপরদিকে তাঁত শ্রমিকরা বিভিন্ন ডিজাইনের লুঙ্গিও প্রস্তুত করছেন। যা সারাদেশে বিভিন্ন হাট বাজারের কাপড়রের দোকানগুলোতে স্থান করে নিয়েছে।
সরেজমিনে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল আড়তের ভেতর ছোট-বড় অসংখ্য দোকান। পাইকার-খদ্দেরের আনাগোনা, দরদামের হাঁকাহাকি, চারদিকে কাপড়ের বান্ডিল আর গাঁটের ছড়াছড়ি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকাররা ক্রয় করছে তাদের চাহিদা মতো কাপড়। দেশের গন্ডি পেরিয়ে সীমান্তের ওপার থেকেও আসেন ক্রেতারা।
শাহজাদপুরে আসা ভারতীয় পাইকার গৌড় বসাক, চিত্তরঞ্জন বসাক, সুকুমার ঘোষসহ কয়েকজন আনন্দবাজারকে জানান, এখানকার কাপড়ের মান অনেকটাই ভালো। তাই ক্রেতাদের চাহিদা বেশি। ভারতের তুলনায় এখানে কাপড় দামে সাশ্রয়ী। তাই তিনি প্রতি মাসেই পাইকারি দরে শাড়ি কিনতে শাহজাদপুর হাটে আসেন। পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমানে তাদের কাপড়ের দোকান আছে। সেখানে বাংলাদেশের কাপড়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলে তারা জানান।
সিরাজগঞ্জের উল্লেখযোগ্য শাহজাদপুর কাপড়ের হাটের ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন, ফরহাদ সহ কয়েকজন কাপড় বিক্রেতা জানান, সিরাজগঞ্জের শাড়ি লুঙ্গির কদর সারাদেশে রয়েছে। দেশের বাইরেও রয়েছে এখানকার কাপড়ের ব্যাপক চাহিদা। প্রতি রবি ও বুধবার শাহজাদপুরে কাপড়ের হাট বসে। এহাটে দেশের ক্রেতাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভারতীয় পাইকাররাও কাপড় ক্রয় করে। এ হাটের শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ কাপড় ভারতে রপ্তানি হয়।









