করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ১৮৩ জন। রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এ মৃত্যু গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। সেদিন ৩৫ জনের মৃত্যু হয়। আগের চার দিন ১৫ হাজারের বেশি রোগী পাওয়া গেলেও এদিন রোগী কমে হয়েছে ১২ হাজার ১৮৩ জন।
বিজ্ঞপ্তির অন্যান্য তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ জানুয়ারি থেকে ক্রমেই বেড়ে চলা সংক্রমণ হার ও রোগীর পরিমাণ এখন কিছুটা নিম্নমুখি। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৩২ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৫ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার পাওয়া গেছে ২৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, যা গত এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন। গত ৪ অক্টোবর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার পর ৭ জানুয়ারি সংক্রমণের হার প্রথমবারের মতো ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে পাওয়ার পর তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা দেখা দেয়।
এরপর সংক্রমণের হার প্রায় প্রতিদিন ছাড়িয়ে এক পর্যায়ে গত ২৮ জানুয়ারি হয়ে যায় রেকর্ড। সেদিন পরীক্ষার বিপরীতে সংক্রমণ পাওয়া যায় ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। তবে রেকর্ড করার পর দিন থেকেই সংক্রমণের হার কমতে থাকে।
করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের তুলনায় তৃতীয় ঢেউয়ে মৃত্যু অবশ্য এতদিন ছিল কমই। তৃতীয় ঢেউয়ে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২১ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায় শনিবার। পরদিন এর দ্বিগুণেরও বেশি মৃত্যু পাওয়া গেল। এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মৃত্যু হলো ২৮ হাজার ৩৩৬ জনের।
গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ এবং ১৫ জন নারী। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগের, ২২ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫ জনের, রাজশাহী বিভাগে ৪ জনের ময়মনসিংহ বিভাগে ২ জন এবং সিলেটে এক জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছে। এদের সবাই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
মৃতদের মধ্যে ১২ জনের বয়স ছিল ৬০ থেকে ৭০ এর ঘরে। ৯০ ঊর্ধ্ব ছিলেন ২ জন, ৮০ থেকে ৯০ বছর বয়সী এবং ৭০ থেকে ৮০ বছর বয়সী ছিলেন ৫ জন করে, ৫০ থেকে ৬০ ও ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী ছিলেন ৪ জন করে। বাকি দুই জন শিশু, যাদের বয়স ১১ থেকে ১৮ এর মধ্যে। তৃতীয় ঢেউয়ে দেশে বেশি ছড়াচ্ছে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন। পাশাপাশি দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় ছড়ানো ডেল্টাও রয়েছে।
ওমিক্রনে মৃত্যু কম হলেওও ডেল্টার কথা ভেবে দেশবাসীকে সতর্ক করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তবে বিধিনিষেধ চলাকালেও মাস্ক পরা, জটলা না করা, বাসে গাদাগাদি করে যাত্রী তা তোলার নির্দেশগুলোর বাস্তবায়ন হচ্ছে না সেভাবে।
আনন্দবাজার/এম.আর









