মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে শাক সবজির বিক্রি করে বাৎসরিক ৪ লাখ টাকা আয় করছেন কৃষক কাজল মিয়া (৫৮) নামে এক সবজিচাষি। আগাম শাক সবজির চাষাবাদ করছেন তিনি। তাজা টাটকা বিষমুক্ত এসব মৌসুমী শাক সবজি বিক্রি করছেন স্থানীয় হাটবাজার ও রাস্তাঘাটে। যেখানে নিত্যপণ্যের বাজার উর্ধ্বগতির দিকে সেখানে কৃষক কাজল মিয়া তার নিজের জমির উৎপাদিত নানা ধরনের শাক সবজি বিক্রি করছেন ন্যায্যমূল্যে। স্বস্তায় পছন্দের সবজি কিনতে পেরে খুশি এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রীনগর (সদর) ইউনিয়নের হরপাড়া এলাকায় নির্মিত রেললাইন সংলগ্ন জমিতে লাল শাক, সবুজ শাক, পুঁই শাক, আগাম লাউ, মুলা, ডাটা, ঝিঙ্গা, ধুন্দলসহ বিভিন্ন ধরণের শাক সবজির চাষাবাদ করছেন কাজল মিয়া। ভিন্ন ভিন্ন জমিতে নানান সবজির চাষ করা হচ্ছে। কয়েকজন কৃষিশ্রমিক জমিতে ফসলের পরিচর্যা ও বিভিন্ন কাজকর্ম করছেন। বিক্রির জন্য টাটকা শাক সবজি তোলা হচ্ছে।
এ সময় আলাউদ্দিন নামে এক শ্রমিক জানান, দৈনিক ৭শ’ টাকা রোজে কাজ করেন তিনি। প্রতিদিন সকালে ও বিকালে জমি থেকে শাক সবজি তোলা হয়। নিজস্ব ভ্যানগাড়ি ভর্তি করে হরপাড়া ও ডাকবাংলোর সামনে এসব শাক সবজি বিক্রি করা হয়। স্থানীয়রা জানায়, কাজল মিয়া অভিজ্ঞ সবজিচাষি। আগাম সবজি বিক্রেতা হিসেবে তিনি এলাকায় সুপরিচিত। পছন্দের শাক সবজি কেনার জন্য কাজল মিয়ার কাছে মানুষ ভিড় করেন। তুলনামূলকভাবে সবজির দাম কম হওয়ায় মুহুর্তের মধ্যে সব বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। লক্ষ্য করা গেছে, ১ কেজি অধিক পরিমানের লাল শাক ও সবুজ শাকের আটি বিক্রি করা হচ্ছে ২০ টাকা করে। কৃষক কাজল মিয়া বলেন, প্রায় দেড়যুগ ধরে আগাম সবজির চাষাবাদ করছেন। সবজি চাষে স্থানীয়দের কাছ থেকে জমি এগ্রিমেন্ট নিয়ে থাকেন। এ চাষাবাদে সব খরচ বাদে বাৎসরিক ৪ লাখ টাকা আয় করতে পারছেন তিনি। আগাম সবজি চাষে জমিতে জৈবসার ব্যবহার করেন। পরিবার পরিজন নিয়ে হরপাড়া ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন। তবে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অতিবৃষ্টির কারণে মাঝে মধ্যে সবজির ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয় তার। বিভিন্ন কারণেই এখানে পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সবজির জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।









