পর্যাপ্ত উৎপাদনের পরও শীতের ভরা মৌসুমে সবজির দাম অনেক চড়া। তাছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে হঠাৎ করেই সবজির দাম আকাশ ছুঁয়ে যায়। ক্রেতারা প্রায়ই এমন অস্বাভাবিক দামের কারণ খুঁজে পান না। তবে এবার খোদ কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাকই সবজির বাজার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বলেছেন, পর্যাপ্ত উৎপাদনের পরও শীতের এই ভরা মৌসুমে সবজির দাম এত বেশি কেন?
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্টের (আইএফএডি) কান্ট্রি ডিরেক্টর আর্নড হ্যামলার্সের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন করেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘এই সময় সবজির দাম কেন এত? একটা লাউ, একটা ফুলকপির দাম এত বেশি কেন? উৎপাদন তো কম হয়নি। এমন না যে, আবহাওয়া খারাপ ছিল। অবশ্য প্রথম দিকে সবজি লাগানোর পরে বৃষ্টির কারণে তা নষ্ট হয়েছে। এটাও বিবেচনায় নিতে হবে।
মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করা হয় উৎপাদন ও মজুত পর্যাপ্ত হওয়ার পরও চাল, সবজিসহ খাদ্যপণ্যের দাম বেশি কেন? বিষয়টি ব্যাখ্যা করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব হলো উৎপাদন বাড়ানো। আমি মনে করি না, ফুলকপির উৎপাদন কম হয়েছে।
করোনা কারণে সারা পৃথিবীতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে উল্লেখ করে কৃষি মন্ত্রী বলেন, কন্টেইনার ভাড়া আগে যেটা ছিল, তার চেয়ে বেড়েছে। এখানে ট্রাকের ভাড়াও বেড়েছে। সার্বিকভাবে অর্থনীতির ওপর বিরাট একটা প্রভাব পড়েছে।
শিপিং কস্ট বা অন্য পণ্যের দামের বিষয় উল্লেখ করে কৃষি মন্ত্রী বলেন, সার্বিকভাবে শিপিং কস্ট বা অন্য পণ্যের দাম যদি কমে না আসে কৃষিপণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। এ বছর কিন্তু পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক আছে। আলুর দাম বেশ কম। কিন্তু শাক-সবজি দাম…মানুষের মুদ্রাস্ফীতির একটি প্রভাব আছে। এ কারণেই সব কিছুর দাম বাড়ার প্রভাব কৃষিপণ্যের উপরেও পড়েছে। চাষিরা যদিও খুশি, বেশি দামে বিক্রি করে।
খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সরকার ব্যর্থ হবে কেন? ২০ লাখ টন খাদ্য মজুত আছে। সরকারের গুদামে কোনো দিন ২০ লাখ টন চাল মজুত ছিল না। দুঃখজনকভাবে সারা পৃথিবীতে জিনিসপত্রের দাম বেশি। তার একটি প্রভাব দেশেও পড়ছে।
চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানি করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু চাল আমদানি করলে তো নিয়ন্ত্রণ হবেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তো করতে দিচ্ছেন না। আমদানি করলে হয়তো দাম কিছুটা কমবে। কিন্তু উনি বলছেন, আমি তো ১০ টাকা দরে চাল দিচ্ছি, অতি দরিদ্রদের জন্য। আমি ভিজিএফ, ওএমএসে চাল দিচ্ছি। গরিব মানুষের তো কোনো সমস্যা নেই। ধনীরা যারা চাল খেতে চান, দাম দিয়ে খান।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, চালের দাম বাড়ছে। আমি অবশ্য বলবো যে মোটা চালের দাম বাড়ছে না। দু-এক টাকা কমেছে গত কয়েক দিনে। সরু চালের দাম বাড়ার দিকে। সরু চালের দিকে মানুষের ঝোঁক মারাত্মক। সবাই এখন সরু চাল খেতে চায়। মোটা চাল মানুষ বিক্রি করে দেয় গরুর খাবার, পশুর খাবারের হিসেবে। এটা একটা সমস্যা।
সিন্ডিকেটের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তখনই সিন্ডিকেট হয়, যখন সাপ্লাই কম হয়। মোটা চালের দাম বাড়েনি। তবে সরু চালের ঘাটতি রয়েছে। চালের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীল তো হতে পারবো না। সরু চালের উৎপাদন কম। আমাকে এমন উৎপাদন করতে হবে, যাতে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকতে পারি।
আনন্দবাজার/শহক









