- সুযোগ দিলেও চাল আনেনি অনেক ব্যবসায়ী
- বেশি দামে চাল কেনায় ভোগান্তিতে ভোক্তা
- দুই হাজারের বেশি চাল ব্যবসায়ির লাইসেন্স বাতিল
সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাল সংগ্রহ হলেও অনেক মিল মালিক চুক্তি করেও সরকারের খাদ্যগুদামে চাল দেয়নি। এ তালিকায় অটোমেটিক রাইস মিল রয়েছে ৩টি এবং হাস্কিং মিল রয়েছে ১৭৮টি। এসব প্রতিষ্ঠান শাস্তির আওতায় রয়েছে। চুক্তি করেও যারা চাল দেয়নি তাদের লাইসেন্স বাতিলের পাশাপাশি জামানত বাজেয়াপ্ত করতেও বলা হয়েছে। যেসব চালকল মালিক চুক্তির পরিমাণের ৮০ ভাগ চাল সরবরাহ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে যারা ৮০ ভাগের কম চাল সরবরাহ করেছে তাদের জামানত আনুপাতিক হারে বাজেয়াপ্ত করার কথা বলা হয়েছে।
বাজারে চালের সরবরাহ বাড়াতে চাল আমদানিতে শুল্ক কমায় সরকার। তবে শুল্ক ছাড়ের সুযোগ থাকলেও দুই হাজারের বেশি ব্যবসায়ি চাল আমদানি করেনি। চাল আমদানি না করার সন্তোষজনক ব্যাখ্যাও দিতে পারেননি তারা। এসব আমদানিকারকের লাইসেন্স বাতিল, জামানত বাজেয়াপ্ত ও মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো কঠোর ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি খাদ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২০ সালের বোরো মৌসুমে ৫৬ শতাংশ চাল দিয়েছিল মিলাররা। তাদের যুক্তি ছিল ধানের দাম বেশি। বেশি খরচ হওয়ায় চালের দাম বাড়ানোর দাবি করেছিল সরকার। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এই দাম বাড়ানো হয়নি। তবে ২০২১ এর বোরো মৌসুমে সরকারি সংগ্রহ মূল্য পুনর্বিবেচনা করা হয়। এ সময় ধানের সংগ্রহ মূল্য ১ টাকা বাড়িয়ে ২৭ টাকা এবং সিদ্ধ চালের সংগ্রহ মূল্য তিন টাকা বাড়িয়ে ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তারপরও শুরুর দিকে মিলাররা চাল দিতে গড়িমসি করে। সরকারের সংগ্রহ কমস থাকায় মজুত তলানিতে নেমে আসে। এই সুযোগে চাল ব্যবসায়ীরা দেশে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এবং দাম বাড়িয়ে দেয়। এ পরিস্থিতিতে সরকার ১৭ লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম আনন্দবাজারকে বলেন, মিলারদের আমরা অনেকভাবেই নির্দেশনা দিয়েছি। যারা কথা শুনেনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা মৌসুমেও ক্রাইসিসের কথা বলে চালের দাম বাড়ায়। আসলে তারা বিভিন্নভাবে চাল মজুত করে রেখেছিল। এই পরিস্থিতিতে যখন শুল্ক কমিয়ে আমদানির অনুমতি দেয়া হলো, তখন কিন্তু ব্যবসায়ীরা তাদের মজুত করা চালগুলো বাজারে ছেড়ে দিল, দামও কিছুটা কমলো। আইন অনুযায়ী চালকলের মালিকরা প্রতি মৌসুমে সরকারের খাদ্য গুদামে বাধ্যতামূলকভাবে চাল প্রদান করবে। দীর্ঘদিন ধরে এটি আইনে থাকলেও বাস্তবায়ন ছিল না। তবে এখন আর ছাড় দেয়া হবে না।
গত বোরো মৌসুমে সরকার ১০ লাখ সিদ্ধ চাল ও ১ লাখ আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের পরও ১৫ দিন সময় বৃদ্ধি করে ১০ লাখ ৬০ হাজার ৪৬০ টন সিদ্ধ চাল, ৮৫ হাজার ৫০৩ টন আতপ চাল ও সাড়ে ছয় লাখ টন ধানের বিপরীতে ৩ লাখ ৬২ হাজার ৪৪৫ টন ধান সংগ্রহ করে। চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ পূরণ হলেও অনেক মিলার চুক্তি করেও কোনো চাল সংগ্রহ করেনি। তবে প্রথম দিকে সংগ্রহ কম হওয়ায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ে চাপে পড়ে। যে কারণে সরকারিভাবে চাল আমদানি করে মজুত বৃদ্ধি করে। বর্তমানে সরকারের গুদামে ১৩ লাখ টন চাল ও ২.২৫ লাখ টন গম মজুদ রয়েছে।
আনন্দবাজার/শহক









