জামালপুরের মাদারগঞ্জে গমচাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা। লাভ কম, শ্রমিকসংকট, মাড়াইয়ের সমস্যা, বৈরি আবহাওয়া ও ভালোমানের বীজের অভাবে চাষিরা গমচাষে তেমন একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। অন্যদিকে চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। মাটি ও আবহাওয়া উপযোগি হওয়ায় ভুট্টাচাষ করে উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকরা নিজেদের ভাগ্য ফেরাচ্ছেন। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন এ উপজেলায় ভুট্টা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রতি বছরই ভুট্টা চাষে নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে। উপজেলার চাষিরা গমের পরিবর্তে ভুট্টা চাষাবাদে ঝুঁকছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এ উপজেলায় মোট আবাদি জমি পরিমাণ ২০ হাজার ২৫ হেক্টর। চলতি মৌসুমে উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এক হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। এবার ভুট্টাচাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৯৫০ হেক্টর জমি। অপরদিকে চলতি মৌসুমে গম চাষ করা হয়েছে ৩১০ হেক্টর জমিতে। ২০১৮ সালে ২৮৫ হেক্টর, ২০১৯ সালে ২৯০ হেক্টর, ২০২০ সালে ৩৬০ হেক্টর, ২০২১ সালে ২৫০ হেক্টর জমিতে গম চাষ করা হয়েছিল। প্রতি বছরই গম চাষ কম-বেশি হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমরোহ। গাছে গাছে আসতে শুরু করেছে ভুট্টার মোচা। চাষিরা বাম্পার ফলনের আশায় মাঠে ভুট্টা খেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিভিন্ন এলাকার মাঠে মাঠে গমের ক্ষেত সবুজে ঢেকে গেছে। এরমধ্যে কোনো কোনো জমিতে গমের শীষ বের হতে শুরু করেছে। শেষ পযর্ন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে ভুট্টা ও গমের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জোড়খালী ইউনিয়নের ফুলজোড় গ্রামের চাষি উজ্জল মিয়া বলেন, গম চাষের চয়ে ভুট্টা চাষের উৎপাদন খরচ অনেক কম। ভুট্টার ফলনও বেশি হয়। আবার গমের রোগ-বালাই বেশী, কিন্তু ভুট্টার রোগ-বালাই নেই বললেই চলে। এজন্য কৃষক অধিক লাভের আশায় গম চাষ বাদ দিয়ে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন।
বালিজুড়ী ইউনিয়নের আঠাত্তরচর গ্রামের কৃষক সুজা মিয়া বলেন, প্রতিবছরই ৪ থেকে ৫ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করে আসছি। ধানের চেয়ে কম খরচ করে দ্বিগুণ ভুট্টা উৎপাদন করা যায়। এবারও ভুট্টার আবাদ করেছি, আশা করি ভালো ফলন হবে।
গুনারিতলা ইউনিয়নের গ্রামের সোলাইমান হক, জোড়খালী ইউনিয়নের হানিফ উদ্দিন, উজ্জলসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, ভুট্টাচাষে সময় ও খরচ অনেক কম লাগে। এজন্যই অন্য ফসল আবাদের চেয়ে ভুট্টা চাষে বেশি আগ্রহী হচ্ছে চাষিরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদুল ইসলাম বলেন, চলতিমৌসুমে উপজেলায় ১০৭৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ করা হয়েছে। এবার ভুট্টা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৫০ হেক্টর। সকল প্রকার ফসল উৎপাদনে আমরা চাষিদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছি। গম চাষ বৃদ্ধির জন্য চাষিদের উপজেলা কৃষি বিভাগ সব সময় উৎসাহিত করে যাচ্ছি। চাষিদের গম বীজ, সার দেওয়া হচ্ছে। তবে গমের চেয়ে অন্য ফসলে লাভ বেশি হওয়ায় চাষিরা গম চাষে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে প্রতি বছরই গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা কম-বেশি হচ্ছে।









