ডালিম ফলের নামটি আমাদের সবার চেনা। সুস্বাদু এ ফলটির উন্নত জাত আনার বা বেদানা। এর রয়েছে অনেক ঔষুধি গুণ। ঘরে কেউ অসুস্থ হলেই ডালিম খাওয়ার পরামর্শ দেয় চিকিৎসকরা। একদিকে ঔষুধিগুণ, অন্যদিকে খুবই আকর্ষণীয়, মিষ্টি, সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর একটি ফল হওয়ায় দেশে ডালিমের জনপ্রিয়ত বাড়ছে। বর্তমানে সৌখিন মানুষেরা ছাদবাগানে ডালিমের চাষ করছেন। এমনি এক সৌখিন ছাদবাগানী আহমুদুর রহমান সুজন। তার বাগানে ৩২ জাতের ডালিমের সমাহার।
রাজশাহী মহানগরীর কঁয়েরদাড়া লেকসিটি এলাকায় তার বাড়ি। ডালিমের প্রতি তার বেশ টান রয়েছে। সে টান থেকেই তিনি তার বাড়ির ছাদে ৩২ জাতের ডালিম গাছের সম্ভার সাজিয়েছেন। সুস্বাদু ফালুদা কিংবা অনেকের প্রিয় ডেজার্ট কাস্টার্ড তৈরিতে ডালিমের ব্যবহার অনস্বীকার্য। ডালিমের বীজের ফলের বেশি অংশ জুড়ে থাকলেও বীজসহই একে অনায়াসে খাওয়া যায় বিধায় এর মোটামুটি খোসাছাড়া সবটুকুই গ্রহণযোগ্য।
সুস্বাদু এ ফলের উৎপত্তি ইরানে। মধ্যপ্রাচ্য, ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে জলবায়ুতে সেরা ডালিম বা আনারই চাষ হয়। এক সময় বাংলাদেশের প্রত্যেক বসতবাড়িতেই একটি বা দুটি ডালিমের গাছ চোখে পড়ত। এখন দেশের অনেক জায়গায় এ ফলের গাছ শোভা পাচ্ছে। আহমুদুর রহমান সুজন সোনালী ব্যাংক লিমিটেড প্রিন্সিপাল অফিসের রাজশাহীর সিনিয়র অফিসার। করোনাকালিন সময় তিনি কিছুটা অবসর সময় পেয়েছিলেন। সেই সময় তিনি বাড়ির এক হাজার ৬০০ বর্গফুটের বাড়িতে গড়ে তুলেন ডালিম বাগান।
আহমুদুর রহমান সুজন জানান, তার দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিল ডালিমের বাগান করা। বাড়ি তৈরির পরে সে ইচ্ছে পুরণ হয়। বিভিন্ন জায়গা থেকে ডালিমের জাত সংগ্রহ করতে শুরু করেন তিনি। এরই মধ্যে তার ছাদ বাগানে ৩২ জাতের ডালিম গাছের স্থান পেয়েছে। তিনি জানান, আনার জাত সংগ্রহ করার চেষ্টা তার অব্যাহত আছে। তার ছাদ বাগানে শোভা পাচ্ছে, ভাগুয়া, সুপার ভাগুয়া, অস্ট্রেলিয়ান জাত, মৃদুলা, পারফিয়াঙ্কা, রাশিয়ান, মোলার, স্পেনের জাত ডলসি, কান্দাহারি, ওয়ান্ডারফুল, ইয়ামেন, তুরস্কের জাত হিকাজ, আনারদানা, থাই আনার, যুক্তরাষ্ট্রের রেড এ্যাঞ্জেল, ইসরাইলের জাত আক্কো ও রিমন, জাফরান, সোলাপুর লাল, মেক্সিকান, পাকিস্থানি, তুরস্কের এভার সুইট, অস্ট্রেলিয়ান সফট সীড, ভারতের গণেশ ও আরক্তা, ফিলিস্থিনি আনার, অস্ট্রেলিয়ান ওয়ান্ডারফুলসহ আরো অনেক ধরনের জাত।
আহমুদুর রহমান সুজন জানান, ডালিম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক ভুল ধরনা প্রচলিত রয়েছে। এরমধ্যে একটি হলো। দেশের মাটিতে ডালিম চাষ ভালো হয়নি। হলেও এর বীজ বেশ শক্ত হয়। আসলে এ ধরনাটি ভুল। দেশের মাটিতেও ভালো জাতের ডালিম চাষ করে সফলতা আনা যায়। শুধু তাই না, এর স্বাদও থাকে অক্ষুন্ন। সুজনের ছাদ বাগানে শুধু ৩২ জাতের আনারই নয়। আছে অনেক ধরনের মাল্টা, কমলা, লেবু ও অনেক মসলা জাতীয় গাছ। মাল্টার মধ্যে আছে সাউথ আফ্রিকান ইয়লো, গ্রীন মাল্টা, নেভাল এক, দুই, তিন, ব্লাড মাল্টা, তুরস্কের জাত, কমলার মধ্যে আছে পাকিস্তানিম ইন্দোনেশিয়ান, ভুটান ও চাইনিজ কমলা, কেনু, দাজিলিং কমলা, লেবুর মধ্যে আছে ইউরেকা, মায়র, কুলকান, লেমিনোসহ আরো অনেক জাত।
আনন্দবাজার/এম.আর









