সবুজ পাহাড়ে রেড লেডি জাতের পেঁপে চাষিদের মুখে হাঁসি ফোটাচ্ছে। ফলন ভালো হওয়ায় চাষিদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে এ পেঁপে। রেড লেডি জাতের পেঁপে খুবই জনপ্রিয় ফল। এটি অত্যন্ত সুস্বাদু, পুষ্টিকর এবং বিভিন্ন ঔষুধিগুণে ভরা। স্বল্পসময়ে অধিক লাভের আশায় রেড লেডি জাতের পেঁপে চাষে ঝুঁকছেন পাহাড়ের প্রান্তিক চাষিরা। সবুজ পাহাড়ে তাইওয়ানের উচ্চ ফলনশীল রেড লেডি জাতের পেঁপের বাগান প্রতিবছর বাড়ছে। বাগান করে সফল হচ্ছেন চাষিরা। গত কয়েক বছর ধরে পাহাড়ে উচ্চ ফলনশীল জাতের এ পেঁপে চাষ হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা ফেলে পাহাড়ে অনেক বেকার যুবক পেঁপে চাষে আরও উৎসাহী হবে। খাগড়াছড়ির কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে ৩শ’ হেক্টর রেড লেডি পেঁপের চাষ হয়েছে। খাগড়াছড়ি সদরের তেঁতুলতলা পেঁপে চাষি আবুশি মারমা বলেন, দুই একর জায়গার মধ্যে দেড় হাজার রেড লেডি জাতের পেঁপের গাছে ফল পাকতে শুরু করেছে। দেড় হাজার গাছে দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাগানের ফল বিক্রি করে তিন লাখ টাকা পাব বলে আশা করি। সঠিক পরিচর্যা ও পানি দিতে পারলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।
রেড লেডি পেঁপে চাষি রিম্রাসু মারমা বলেন, পাহাড়ে রেড লেডি জাতের পেঁপের চাষ করে প্রচুর লাভ। ফলন ভালো হয়। আমার একশটি গাছে ফল এসেছে। প্রায় গাছে ফল পাকতে শুরু করেছে। সত্তর হাজারের বেশি টাকা পাব বলে আশা করি। তিনি বলেন, একটি গাছে আশিটি ফল পাওয়া যায়। একটি পেঁপে পাঁচ কেজি ওজন পর্যন্ত হয়। পেঁপে চট্টগ্রামে পাঠাতে প্রস্তুত করছি। পাহাড়ের রেড লেডি জাতের পেঁপে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায়। তিনি বলেন, বাগান বড় করতে প্রস্তুতি চলছে। পাহাড়ে পানির সমস্যা। পানির ব্যবস্থা করতে পারলে ট্রাকে ট্রাকে ফল পাওয়া যেত।
গুগড়াছড়ি রেড লেডি পেঁপে বাগান চাষি থোঅং র্মগ বলেন, ৬শ’ গাছে ফল পাকতে শুরু করেছে। ৬শ’ গাছের ফল বিক্রি করে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পাব বলে আশা করি।
খাগড়াছড়ির উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা জানান, রেড লেডি হাইব্রিড জাতের পেঁপে। এটি তাইওয়ানের উচ্চ ফলনশীল বামন প্রজাতির পেঁপে। রেড লেডি জাতের প্রত্যেক গাছে পেঁপে ধরে। পাঁছ থেকে ছয় মাসের মধ্যে ফুল আসে এবং প্রথম ফল পাওয়া যায় সাত থেকে ৯ মাসের মধ্যে। ফলের রং লাল-সবুজ। একটি ফলের ওজন দেড় থেকে দুই কেজির বেশি হয়। বিজ্ঞানীরা জানান, পাকা অবস্থায় সহজে নষ্ট হয় না বলেই, দুর দুরান্তে বাজারজাত করা যায়। বীজ থেকে বংশ বিস্তার করা যায়। বাগান সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়। গাছের আগাছা তুলে ফেলে দিতে হবে।
খজেুরবাগান র্হটকিালচার সন্টোররে উপ-সহকারী র্কমর্কতা সুজন চাকমা বলনে, দেশি পেঁপে পাকলে মাংস নরম হয়। কিন্তু রেড লেডি পেঁপে পাকলে মাংস শক্ত হয়। তাই পরিবহন করা সহজ। এই পেঁপের চাষ করে টাকা পাচ্ছে কৃষকরা। দেখতে খুব সুন্দর এবং খেতে সুস্বাদু। গাছের নিচ থেকে শুরু কওে ফলন আসে। একটি গাছে সত্তরটি ফল পাওয়া যায়। তিনি বলেন, পেঁপে মিশ্র ফল বাগানে করা যায়।
খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবষেণাকন্দ্রের মুখ্য বজ্ঞৈানকি র্কমর্কতা ড. মুন্সী রাশীদ আহমদে বলনে, পার্বত্য চট্টগ্রামে তিন জেলায় যে সকল ফল ফসল বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয় তার মধ্যে রেড লেডি পেঁপে অন্যতম। স্বল্প সময়ে ফল আসে এবং এর বাণিজ্যিকভাবে বিনিয়োগ করলে চাষিরা লাভবান হবে। কৃষক ভাইয়েরা সর্তকভাবে চাষ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, গাছের গোড়া পচা রোগ। চারা ডলে পড়া রোগ। পূর্ব হতে প্রস্তুতি এবং সর্তকতা অবলমন করতে হবে। দেশে আবহাওয়া অনুয়ায়ী বছরে দুইটি সময়ে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ এবং সেপ্টম্বর মাসে পেঁপের চারা রোপনের উপযুক্ত সময়। চারার উপযুক্ত বয়স পঁচিশ থেকে ত্রিশ দিন। পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকরা এ জাতের পেঁপে চাষ করে যথেষ্ট লাভবান হচ্ছে।









