চলতি মৌসুমে রাজবাড়ী জেলায় সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন হয়েছে। সঠিক সময়ে ফলন ঘরে তুলতে পারলে লাভের মুখ দেখবেন চাষিরা। তেল জাতীয় অন্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী চাষাবাদ অনেক সহজলভ্য ও উৎপাদন খরচ কম থাকায় চাষিরা দিন দিন সূর্যমুখী চাষে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।
মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ মৗসুমে সূর্যমূখীর বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন চাষিরা। বাজার দর ভালো পেলে লাভের আশা তাদের। আবাদের খরচ পুষিয়ে এবার লাভ হবে এমন খুশিতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে সূর্যমূখী ফুল।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় এ বছর দেড়শ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রতি একর জমিতে সূর্যমুখীর ২০ থেকে ২৪ মণ ফলন হয়। এর থেকে তেল পাওয়া যায় প্রায় ১২ মণ। সূর্যমুখীর তেল ছাড়াও খৈল দিয়ে মাছের খাবার এবং গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
গোয়ালন্দ উপজেলার সূর্যমূখী ফুলের চাষি ইউসুফ আলী বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের অনুপ্রেরণা থেকেই এ অঞ্চলে সূর্যমুখি ফুলের চাষ শুরু করেছি। চলতি বছর ফলন ভালো হওয়ার প্রত্যাশা করছি। ফলনের ন্যায্যমূল্য পেলে আমাদের পরিশ্রম সফল হবে এবং আমাদের মতো আরো কৃষক সূর্যমুখি চাষে আরো দিন দিন আগ্রহী হবেন। আরেক চাষি শাহজাহান জানান, গত বছর সূর্যমুখীর চাষ করে সফল হয়েছি। তাই এ বছরও সূর্যমুখীর চাষ করেছি। ফলন অনেক ভালো। আশা করছি গত বছরের মতো এ বছরও লাভবান হতে পারবো। প্রতিকেজি বীজ ২৫০ টাকা দরে বিক্রির কথা হয়েছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আব্দুল্লাহ আল মাহবুব জানান, গোয়ালন্দ উপজেলায় সরকারি প্রণোদনায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ করার জন্য কৃষকদেরকে বীজ, সার ও প্রয়াজনীয় কীটনাশক দেওয়া হয়েছে। এ বছরে উপজেলায় প্রায় দেড়শো বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ করা হয়েছে। এ মৌসুমে সফলতা ভালো হলে আগামী বছর ব্যাপকহারে সূর্যমুখী ফুলের চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হবে। পাশাপাশি কৃষকরা যেন ন্যায্যমূল্য পায় সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
আনন্দবাজার/শহক








