- নেগেটিভ ইক্যুইটি নিয়ে গণমাধ্যমের খবর ঠিক না: ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ, কমিশনার, বিএসইসি
যুদ্ধের (রাশিয়া ও ইউক্রেন) কারনে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সূচক পতন অযৌক্তিক বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে বলেন, নেগেটিভ ইক্যুইটি নিয়ে গণমাধ্যমে খবরও ঠিক না।
গতকাল সোমবার রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) এবং বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটি মার্কেটের (বিএএসএম) যৌথ উদ্যোগে ‘পুঁজিবাজারে মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির প্রভাব’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন। সভাপতিত্ব করেন বিএএসএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী।
গত ২ দিন (বৃহস্পতিবার ও রবিবার) পুঁজিবাজার অযৌক্তিক সূচক পতন হয়েছে জানিয়ে ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ হলেও তার সঙ্গে বাংলাদেশের সর্ম্পক্য খুবই কম। তাই আমাদের অর্থনীতিতে কম প্রভাব পড়বে। গত ২ দুই দিনে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ২৭২ পয়েন্ট কমেছে, তা মোটেও ঠিক না।
অপরদিকে নেগেটিভ ইক্যুইটি নিয়ে গণমাধ্যমে যে খবর আসছে, তা পুরোপুরি ঠিক না জানিয়ে ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারে নেগেটিভ ইক্যুইটি সমন্বয়ে ২০১৫ সালে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপরে নিয়মিত তা সমন্বয়ের জন্য সময় বাড়ানো হয়। সম্প্রতি বর্তমান কমিশন সময় বাড়িয়ে তা ২০২৩ সাল পর্যন্ত করে। যা পুঁজিবাজারের স্বার্থে প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে। এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নেবো না জানিয়ে ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারে সবার আগে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তাই নেগেটিভ ইক্যুইটি সমন্বয় নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
কর্মশালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক (বর্তমান লিয়েনে) হেলাল উদ্দিন বলেন, এই মুহূর্তে কিছু অব্যবহৃত ফান্ড রয়েছে। যা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হবে। তার আগে নেগেটিভ খবর দিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরী করে পুঁজিবাজার ফেলানো হচ্ছে। এরপরে সস্তায় ওই ফান্ড দিয়ে সিকিউরিটিজ কেনা হবে। হয়তো তখন সূচক ১ হাজার বেড়ে যাবে। এর বাহিরে গত কয়েকদিনের সূচক পতনের পেছনে যৌক্তিক কোনো কারন নেই।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ হলেও এর প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না জানিয়ে হেলাল উদ্দিন বলেন, নেগেটিভ ইক্যুইটি এখনই সমন্বয় করতে বলেনি। এর জন্য এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে। তাই এই দুই কারনে বাজার পতন হতে পারে না।
পুঁজিবাজারে সূচক বাড়লেই লেখালেখি শুরু হয়ে যায়। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত করা হয় জানিয়ে হেলাল উদ্দিন বলেন, এটা ঠিক না। কোম্পানির আর্নিংস বাড়লে শেয়ারের দামও বাড়বে। এতে করে মূল্যসূচক বাড়বে। এটাতো খারাপ কিছু না। কর্মশালায় বক্তব্যে রাখেন অধ্যাপক আবু আহমেদ, আরিফ খান, শাহ মোহা আহসান হাবীব ও সিএমজেএফ সভাপতি জিয়াউর রহমান।









