কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে আগাম জাতের আমনের পাকা ধান কাটতে শুরু করছে কৃষকরা। ধানের আশানুরূপ ফলন হওয়ায় কৃষক-কৃষাণির চোখে-মুখে দেখা দিয়েছে আনন্দের ঝিলিক। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে ধানের দাম নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,উপজেলায় ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় এবার ১২ হাজার ৮শত হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। বিভিন্ন জাতের ধানের মধ্যে রয়েছে ব্রিধান-৪৯, ব্রিধান-৭১,ব্রিধান-৭২,ব্রিধান-৭৫,ব্রিধান-৮৭,বিনা-৭, ১৭ ও হাইব্রিড জাতের ধান আবাদ হয়েছে। এ বছর উপজেলায় আগাম জাতের পাশাপাশি স্থানীয় জাতের আমন ধানের ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। ফলে আমনের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছে উপজেলা কৃষি অফিস। আমন ধান লাগানোর শুরুতেই অনাবৃষ্টি আর শেষের দিকে কারেন্ট পোকার আক্রমণে অনেকটাই চিন্তিত ছিলেন কৃষকরা। তবে শেষ পর্যন্ত আশানুরূপ ফলন পেয়ে দারুণ খুশি কৃষক।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়,নবান্নের আনন্দে নতুন ধান ঘরে তুলতে আগাম জাতের আমনের পাকা ধান কাটছে কৃষকরা। আবহাওয়া ভাল থাকায় পাকা ধান কেটে জমিতে শুকানো হচ্ছে। ধান মাড়াইয় ও গোলায়ে উঠাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণী। বিঘা প্রতি প্রায় ১৬-২০ মণ হারে ফলন হয়েছে। ভালো ফলন এবং বাজারে ভাল দাম পাওয়া খুশি চাষীরা।
পৌর সভার বাগরাট মহল্লায় কৃষক মো: মাইনুদ্দিন জানান,বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির উপর নির্ভর করে আমন ধান চাষাবাদ করা হয়ে থাকে। ফলে বোরো আবাদের চেয়ে তুলনামুলক আমনের আবাদের খরচ কম হয়ে থাকে। আমি উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ মোতাবেক এ বছর ২ বিঘা জমিতে বিনা-৭ জাতের আমন ধানের চাষ করেছি। এ ধানের ফলন প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হয়েছে।
উপজেলা মুমুরদিয়া ইউনিয়নের পিপুলিয়া গ্রামের কৃষক ছিদ্দিক মিয়া জানান,শুরুতে অনাবৃষ্টি আর শেষের দিকে কারেন্ট পোকার আক্রমণ এতে চিন্তায় পরে ছিলাম ফসল ঘরে তোলা নিয়ে। ধানে কীটনাশক বেশী ব্যবহার করার কারণে এবার উৎপাদন খরচ একটু বেশী হয়েছে। এ বছর চালের বাজার চড়া থাকায় ধানের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও চলতি মৌসুমে মাঠ থেকে ধান কাঁটা ও মাড়াই এর জন্য শ্রমিকদের খরচ বাদ দিলে দেখা যাবে কিছু লাভ থাকবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মুকশেদুল হক জানান,আমন মৌসুমে কম সময়ে অধিক ফলন হয় এমন জাতের ধানের আবাদ বৃদ্ধির জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের পরামর্শে অনেক কৃষক পুরাতন জাতের পরিবর্তে আগাম ও স্বল্প মেয়াদী জাতের ধান আবাদে অগ্রসর হচ্ছে। সেই লক্ষ্যে উপজেলায় আমনের নতুন জাতগুলোর প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। আগাম জাতের আমন ধান কর্তন করে কৃষক সেই জমিতে বোরো চাষের আগে আলু,সরিষাসহ রবিশস্য চাষ করতে পারবেন। এটা হবে বোনাস ফসল। এতে কৃষকের উৎপাদন ও আয় দুটোই বাড়বে।









