সম্প্রতি নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের মছে হাজীপাড়ার তরুণ প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান কনক রাস পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। তিনি ২০১৯ সালে চাকরি ছেড়ে নিজ উদ্যোগে কিছু করার তাগিদ থেকে নিজ গ্রামে এসে ১১ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চারটি ট্যাংকে মাছ চাষ শুরু করেন। আর আশানুরূপ ফলাফল পাওয়ায় চলতি বছর থেকে রাস পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করছেন।
চারটি ট্যাংক দিয়ে রাস পদ্ধতি শুরু করা কনকের জামান অ্যাকুয়া অর্গানিক ফিশ ফার্মে আছে এখন ছয়টি ট্যাংক। আট হাজার লিটার পানি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন প্রতিটি ট্যাংক থেকে প্রায় ৪০০ কেজি করে মাছ উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছেন তিনি। তেলাপিয়া মাছ দিয়ে যাত্রা শুরু করা জামান অ্যাকুয়া অর্গানিক ফিশ ফার্মে চলতি বছর শিং, দেশি কৈ এবং ভিয়েতনামি কৈ মাছ চাষ করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে মাত্র চার মাসে দুইটি ট্যাংকে উৎপাদিত ভিয়েতনামি কৈ মাছ বিক্রির উপযোগী হয়েছে। প্রতিদিনই কেমিক্যাল মুক্ত তার এই সুস্বাদু মাছ কিনতে জামান অ্যাকুয়া অর্গানিক ফিশ ফার্মে ভিড় জমাতে দেখা যায় আগ্রহী ক্রেতাদের। এছাড়া বর্তমানে তিনি সৈয়দপুরে ক্রেতাদের নিকট একেবারে টাটকা মাছ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে হোম ডেলিভারি সার্ভিসও চালু করেছেন।
বছরে দুইবার মাছ চাষ করার প্রত্যয়ে গড়ে ওঠা কামরুজ্জামানের এই ফার্মে উৎপাদিত দেশি কৈ এবং শিং মাছ চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বাজারে বিক্রির উপযোগী হবে। এর মধ্যে ফার্মের ভেতরেই খননকৃত ছোট আকৃতির একটি পুকুরে শিং মাছের রেনু থেকে পোনা প্রস্তুত করছেন তিনি। যা আগামী অক্টোবর নাগাদ ট্যাঙ্কে স্থানান্তরের মাধ্যমে রাস পদ্ধতিতে চাষ করবেন।
অল্প স্থানে অধিক ঘনত্বে মাছ চাষে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করা রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেমে একই পানি পুনরায় সম্পূর্ণরূপে পরিশোধিত হয়ে মাছের ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হয়। ফলে এখানে পানি অপচয়ের কোনো সুযোগ নেই। এছাড়াও মাছের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়। তবে এজন্য প্রয়োজন সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। রাস পদ্ধতিতে নিবিড় পরিচর্যা থাকায় মাছের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ও কোনো রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় না। এই পদ্ধতিতে ফ্রেশ খাবার খাওয়ানোর ফলে পুকুরে চাষ করা মাছের চেয়ে রাস পদ্ধতিতে উৎপাদিত মাছ অনেক বেশি সুস্বাদু। মাত্র একজন দক্ষতাসম্পন্ন লোক হলেই এই পদ্ধতিতে গোটা একটি ফার্ম চালানো সম্ভব।
রাস পদ্ধতিতে মাছ চাষ সম্পর্কে জানতে চাইলে কামরুজ্জামান কনক জানান, এই পদ্ধতিতে পুকুরের চেয়ে ৩০ গুণ অধিক মাছ উৎপাদন করা সম্ভব। পুকুরে যেখানে ২ কেজি খাবারে ১ কেজি মাছ উৎপাদন করা যায়, রাস পদ্ধতিতে সেখানে মাত্র ১২০০ গ্রাম খাবারে এক কেজি মাছ উৎপাদন করা সম্ভব। এই পদ্ধতিতে দেশি শিং, মাগুর, কৈ, পাবদা, টেংরা, তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, চিংড়ি, ভেটকিসহ নানা প্রজাতির মাছ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে চাষ করা যায়।
তিনি আরও বলেন, এই প্রযুক্তিটি বিশ্বের নানা দেশের মতো বর্তমানে বাংলাদেশেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রাথমিক বিনিয়োগের পরিমাণ কিছুটা বেশি হলেও পরবর্তীতে রাস পদ্ধতির ব্যবস্থাপনা ব্যয় সাশ্রয়ী ও দীর্ঘস্থায়ী। বর্তমান সময়ে দেশের মানুষের বিপুল পরিমাণ আমিষের ঘাটতি পূরণে আধুনিক রাস পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে









