চন্দন একটি সুগন্ধিযুক্ত ভেষজ উদ্ভিদ। চন্দনের ঘ্রাণ উপাদেয়, এর ঘ্রাণেও রয়েছে বহুবিধ উপকারিতা। এর প্রকৃতি শীতল। বিশ্বে সবথেকে বেশি চন্দনকাঠ উৎপাদন হয় ভারতবর্ষে। আন্তর্জাতিক বাজারে এ কাঠের দাম বেশ চড়া। আবহাওয়া ও অঞ্চলভেদে চন্দন গাছের দাম কমবেশি হয়ে থাকে। বিশেষ করে ভারতের অন্দ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, তামিলনাডু, তেলেঙ্গা, রাজস্থানে জন্মানো গাছের দাম বেশি। অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, বিহার, মেঘালয় এসব অঞ্চলের গাছের দাম তুলনামূলক কম।
এদিকে, বিলুপ্তপ্রায় একটি রক্তচন্দন গাছের দেখা মিলছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত টাঙ্গাইলের মধুপুর জাতীয় উদ্যানে। তবে রেস্টহাউজের সামনে থাকা গাছটি সঠিক পরিচর্যা করা হচ্ছে না। এমনকি রেস্টহাউজে চারদিক প্রাচীর থাকলেও গাছটির চারপাশে নেই কোনো সুরক্ষা দেওয়াল। এতে গাছটির পাতা, বীজ, বাকল নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। গাছটির একপাশে হালকা ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। গাছটির আনুমানিক উচ্চতা ১০ থেকে ১২ মিটার। স্থানীয়রা জানায়, অতিদ্রুত সঠিক পরিচর্চা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে রক্তচন্দন গাছটির পাহাড়ি পরিবেশের সঙ্গে টিকে থাকা হুমকি স্বরূপ হতে পারে। এই গাছটিকে বাঁচিয়ে রাখলে অর্থ আয়ের ও ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।
চন্দনে রয়েছে হাজারো ঔষধি গুন ও ব্যবহার : চন্দনে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। যা ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করার পাশাপশি রূপ চর্চায় ত্বকের উজ্জলতা বাড়াতে আদিযুগ থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। ত্বকের এলার্জি দূর করতে চন্দনের ভূমিকা রয়েছে। ইউনানি চিকিৎসায় গ্যাস্টিক আলসারের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। বাতের ব্যাথায় ও এন্টিইনফ্লামেশনে চন্দন এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। চর্মরোগে রক্তচন্দন কাঠ ঘষে লাগালে দ্রুত ভালো হয়ে যায়। রক্তচন্দনে রয়েছে অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি ও এন্টিঅক্সিডেন্ট যা অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে কাজ করে। এছাড়া হিন্দু ধর্মে চন্দনের প্রলেপ বা চন্দনের মালার ব্যবহার দেখা যায়, চন্দনের তিলক লাগালে পাপ নাশ হয় বলে প্রচলিত রয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে চন্দনের তিলক লাগালে ব্যাক্তির উপর থেকে সংকট দূর হয়।









