- ঢাবি গবেষণা মেলার উদ্বোধন
- গবেষণায় পাবলিক পার্টনাশিপ থাকা উচিত: শিক্ষা উপমন্ত্রী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো (ঢাবি) শুরু হয়েছে গবেষণা ও প্রকাশনা মেলা। দুই দিনব্যাপী এ মেলা গতকাল শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যারয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যারয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
মেলায় অনুষদসমূহের জন্য ১০টি, ইনস্টিটিউটসমূহের জন্য ১টি, প্রকাশনা সংস্থার জন্য ১টি এবং গবেষণা কেন্দ্রসমূহের জন্য ১টি সহ মোট ১০টি প্যাভিলিয়ন রয়েছে। সাথে ১টি কেন্দ্রীয় মঞ্চও রয়েছে। সবমিলিয়ে বসেছে শতাধিক স্টল।
এছাড়া, মেলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রকাশিত প্রকাশনাসহ উল্লেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ (যেমন: গ্রন্থ, জার্নালের বিশেষ সংখ্যা, গবেষণা প্রকল্প, পোস্টার, ফ্লায়ার, ব্রুশিয়ার) প্রদর্শন ও উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে ৫৫টি গ্রন্থ, ২৬টি বিশেষ জার্নাল, ২১৬টি গবেষণা প্রজেক্ট, ৬২৪টি পোস্টার এবং ৮৬টি ফ্লাইয়ার অথবা ব্রুশিয়ার স্থান পেয়েছে।
উদ্বোধনকালে উপাচার্য বলেন, একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্ক স্থাপন এবং প্রকাশনা, গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষে এ মেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্মানীয় অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষে গবেষণার বরাদ্দ সর্বাধিক হওয়া উচিত, এ বিষয়ে আমরা সবাই একমত। গবেষণায় শুধু মাত্র সরকারি বরাদ্দই যথেষ্ট নয়, পাশ্চাত্য এবং প্রাচ্যের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আমাদেরও গবেষণা ও পাবলিকেশনে পাবলিক এবং প্রাইভেট সেক্টরের পার্টনারশিপ থাকা উচিত।
শিক্ষা উপমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাবির এ্যালামনাইদের মাঝে দানশীল মনোভাব তৈরি জরুরি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় বিনামূল্যে পড়াশোনা করে, যারা বিদেশে চলে গেছেন, ডলারে বেতন পাচ্ছেন তাদের ব্যাক্তিগত পর্যায়ে দায়বদ্ধতা থাকা উচিত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের গবেষণার কারণে বিপুল জনসংখ্যার দেশ হওয়া সত্ত্বেও আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ণ। তাদের গবেষণার কারণে ধানের বিভিন্ন প্রকার শস্যের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। সেগুলোকে আমরা দেশের কাজে লাগাচ্ছি।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, আজকের বিশ্ব সভ্যতা গবেষণারই ফল। গার্মেন্টস উৎপাদিত কাপড় আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য হলেও এর প্রধান কাচামাল তুলা; যা আমরা আমদানি করি। চামড়া একটি বড় শিল্প, ঢাবিতে লেবার ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট কাজ করছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আসন্ন। এক্ষেত্রে গবেষণা প্রয়োজন। আমাদের রপ্তানিকে আমরা বহুমুখীকরণ করার চেষ্টা করছি। এগুলো বাস্তবায়নে কাজ করবে গবেষকরা।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এরকম কার্যক্রমে উচ্ছ্বসিত সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা দেখছেন আশার আলো। উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ জানান, খুব ভালো লাগছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ডিপার্টমেন্ট অংশগ্রহণ করেছে এখানে। যার মাধ্যমে আমরা সকল ডিপার্টমেন্ট সম্পর্কে কিছু না কিছু জানতে পারবো।
আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের জান্নাতুল ফেরদৈসী জানায়, পুরো মেলা ঘুরে দেখেছি। খুব ভালো লাগা কাজ করছে। এ রকম গবেষণামূলক কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে আরও বেশি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। আজকে নতুন নতুন অনেক গবেষণা দেখেছি; বিশেষ করে বিজ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টগুলোর।








