চলনবিলের মাঠ জুড়ে এখন হলুদ-সবুজের সমারোহ। বিস্তীর্ণ সেই সবুজ মাঠে দোল খাচ্ছে ধানের শীষ। সবুজ আভা কেটে হলুদ বরণ ধারণ করতে শুরু করেছে ধানের শীষগুলো। ধান গাছের সেই সোনালি শীষে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে চলনবিলের কৃষক।
চলনবিলাঞ্চলের বোরো চাষিরা বলছেন, ধানের চারা রোপন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনেকটাই অনুকূলে রয়েছে। রোগ বালাই ছিল না বল্লেই চলে। ধানকাটা থেকে মাড়াই পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বোরো ধানের সোনালি স্বপ্ন পূরণ হবে চাষির। চলতি মৌসুমে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বোরো ধানের দৃশ্য দেখে মনে হবে আবহমান বাংলার চিরায়িত রুপের কথা। দৃষ্টিসীমা ছাপিয়ে বাতাসে দোল খাচ্ছে বোরো ধানের সোনালি শীষ। সেই দোলায় লুকিয়ে রয়েছে এ এলাকার হাজারো কৃষকের স্বপ্ন।
শস্যভান্ডার বলে খ্যাত কৃষি প্রধান চলনবিলাঞ্চলে মাঠ ভরা বোরো ধান এখন সোনালি রং ধারণ করেছে। আগামী সপ্তাহেই শুরু হবে ধানকাটা ও মাড়াইয়ের মহোৎসব। সেই উৎসবকে ঘিরে চলছে ধান কাটার শ্রমিক সংগ্রহের কাজ, খোলা পরিস্কার, মাড়াই যন্ত্র মেরামতসহ জমি থেকে ধান কেটে ঘরে তোলার নানা প্রস্তুতি। বসে নেই কৃষক পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও।
নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া, বড়াইগ্রাম, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, তাড়াশ, পাবনার ভাঙ্গুরা, চাটমোহরসহ মোট ৩ জেলার ৯টি উপজেলা মিলে চলনবিল বিস্তৃত।
নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫৭ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়ায় ৩৬ হাজার ৬৫০ হেক্টর, গুরুদাসপুরে ৫ হাজার ৪শ’ হেক্টর, বড়াইগ্রামে ৭ হাজার ৯শ’ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে।
এদিকে সঠিক সময়ে শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে পারবেন কিনা এমন শঙ্কাতেও দিন কাটছে কৃষকদের। গুরুদাসপুরের বিলশা গ্রামের কৃষক ফিরোজ হোসেন বলেন, প্রতিবছর অন্য এলাকা থেকে শ্রমিকরা এসে আমার ধান কেটে দিয়ে যান। চলতি বছরও সেই শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। যথা সময়ে শ্রমিক পেলে প্রাকৃতিক দুযোগে না ফসলের নায্যমূল্য পেলে আশা করছি এবার মনের স্বপ্নটা পুরণ হবে।
তাড়াশ উপজেলার ভেটুয়া গ্রামের কৃষক মান্নান বলেন, চলতি বছর ৩০ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছি। ধানকাটার আগ মূর্হতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের চিন্তায় আছি। সব কিছু ঠিক থাকলে বাইরের শ্রমিকরা ঠিক সময়ে আসতে পারলে ঠিক সময়ে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলে আমরা সবাই লাভবান হবো।
চলনবিল অঞ্চলের বিভিন্ন মাঠে এবার ব্রি-২৮, ২৯, ৮১, ৮৯, জিরাশাইল ও হাইব্রিড ধানের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে বেশী আবাদ হয়েছে ব্রি ধান ২৮। আগাম জাতের ধানের কাটা ও মাড়াই আগামী সপ্তাহেই শুরু হবে।
কৃষকরা জানান, কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন অবশ্য বলেছেন সংকট কাটাতে এবার প্রয়োজনে ‘কম্বাইন হারভেস্টার’ কৃষিযন্ত্র ব্যবহার করা হবে।
চলনবিলের গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ হারুনর রশীদ বলেন, চলতি বছরে উপজেলায় ৫ হাজার ৪শ’ গেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এবছর যেহুতু লকডাউন নেই কাজেই কৃষক সঠিক সময়েই ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবে বলে আমরা আশা করছি।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তমাল হোসেন জানান, গত বছর আমরা প্রাকৃতিক দুযোগ মোকাবেলা করে কৃষকদের ফসল ঘরে তুলতে সহায়তা করেছি। এবছর ও তার ব্যাতয় ঘটবেনা।









