বাংলাদেশের জন্য জনসংখ্যার ভিত্তিতে ন্যায্যতার সঙ্গে দ্রুত ঋণ মঞ্জুরের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে বিশ্ব্যব্যাংকের সহযোগিতা চেয়েছে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি, এফসিএ। গতকাল রাজধানী ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ শ্যেফারের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ঋণ সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে আইডিএভূক্ত দেশগুলোর মধ্যে জনসংখ্যাধিক্যের দিক দিয়ে ৩য় স্থানে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ন্যায্যতার ভিত্তিতে ঋণ প্রদান করা প্রয়োজন।
তিনি যথা সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূরীরণের ক্ষেত্রে সরকার ও বিশ্বব্যাংকের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার উপর গুরুত্বারোপ করেন
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে ছিলেন অর্থমন্ত্রী, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, বিশ্ব ব্যাংক পক্ষে হার্টউইগ শ্যেফার, বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি মিয়াং টেম্বন, বিশ্বব্যাংকের আঞ্চলিক পরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া) যৌবিদা খেরুস আলাউয়া, সেশিলে ফ্রুমান, দক্ষিণ এশিয় আঞ্চলিক সংযুক্তি ও সহযোগিতা বিষয়ক কর্মকর্তাবৃন্দ।
সভায় অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির গতিধারা ব্যাখ্যা করে তুলে ধরে জানান, বাংলাদেশ রপ্তানি আয় ২৪ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এখন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৫-৪৬ বিলিয়ন ডলার। ঋণ-জিডিপি’র অনুপাত এখনও ৪০ শতাংশের নিচে। মূল্যস্ফীতি বিশ্বের অন্য সকল দেশের মতো বাংলাদেশে বাড়লেও এখনও ৬ শতাংশের নিচে রয়েছে। রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে প্রায় ১৭ শতাংশ। খেলাপি ঋণ ৮.১ শতাংশে নেমে এসেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম কোয়ার্টারে ঋণস্থিতি বেড়েছে প্রায় ৯.৫ শতাংশ।
তিনি বলেন, ২০২১ সালের প্রথম ছয় মাসের সাময়িক হিসাবে নিট প্রফিট করেছে। ব্যাংকের ঋণের সুদের হার ৭.৩ শতাংশে নেমে এসেছে।
হার্টউইগ শ্যেফার বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় ভাল করছে এবং কোভিড মোকাবিলা করে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
আনন্দবাজার/শহক









