জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে নাটোর জেলা পরিষদ। কার্যালয়ের দুই হাজার বর্গফুট আয়তনের ছাদে গড়ে উঠছে ফলের বাগান। ধূসর ছাদ এখন সবুজের সমারোহে ভরপুর হয়ে যেন ফলগাছের এক সংগ্রহশালা!
সাম্প্রতিক সময়ে নাটোরে ছাদ কৃষির প্রসার ঘটছে। শহরের বাড়ির ছাদে বৃক্ষপ্রেমিক মানুষেরা গড়ে তুলছেন রকমারী বাগান। তবে জেলার কোন সরকারী বা বেসরকারী পর্যায়ের অফিসে ছাদ কৃষি গড়ে ওঠার খবর জানা যায়নি। জেলাতে ছাদ কৃষির প্রবর্তনের মধ্যে দিয়ে পথিকৃৎ হয়ে রইল নাটোর জেলা পরিষদ।
নাটোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার ফরহাদ আহমদ বৃক্ষপ্রেমিক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি পাখির অভয়াশ্রম গড়ে তোলেন। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন তিনি বিশাল কালেক্টর ভবনে ছাদ কৃষির উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং সফল হন। ঐ সফলতার পথ ধরে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নাটোর জেলা পরিষদে দায়িত্ব গ্রহণের পরে এ কার্যালয়ে ছাদ কৃষি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। এ কর্মকর্তার পরিকল্পনায় নাটোর জেলা পরিষদের সৌজন্যে নাটোর কালেক্টর ভবনেও ছাদ কৃষি গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেল।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তিল তিল করে সংগ্রহ করা হয়েছে দেশী-বিদেশী সব ফল গাছের চারা। কি গাছ নেই দো’তলা ভবনের এ ছাদ বাগানে? আছে লেবু, শরিফা, কামরাঙা, পিংক কাঁঠাল, লাল কাঁঠাল, কাঠ বাদাম, আমড়া, মিস্টি তেঁতুল, কালো জাম, আলু বোখরা, রাম্বুটান, এভোকাডো, আখরোট, কিউয়ি, লংগান, ব্লাকবেরি, কালো আঙুর, লাল জামরুল, বেদানা, মিশরীয় ডুমুর, পাকিস্তানী আঙুর, থাই চেরি, পার্সিমন, হরিমন’৯৯ আপেল, ডুরিফা, ষষ্ঠি মধু, স্ট্রবেরি। আর আছে রকমারী আম, ড্রাগন ইত্যাদি। আমড়াসহ বেশ কয়েকটি গাছের মঞ্জুরী বাগানের শোভা বাড়িয়েছে।
প্লাস্টিকের ড্রামগুলোর মুখ কেটে তৈরী প্রায় একশ’ পাত্রের উর্বর মাটিতে রোপণ করা হয়েছে এক একটি গাছ। ড্রামগুলো নিদিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে দুই হাজার বর্গফুটের ছাদে ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। আছে পানি সেচের ব্যবস্থা আর নিয়মিত পরিচর্যার জন্যে মালি।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার ফরহাদ আহমদ বলেন, কৃতজ্ঞ জাতি মুজিব জন্মশতবর্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অফিসের ছাদ বাগানে শত ফলের গাছ রোপণ করে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আশাকরি আমাদের মেধা ও মননের মেলবন্ধনে এ ফলের বাগান পূর্ণতা পাবে, রকমারী ফলের রুপে রসে গন্ধে ভরপুর হবে এ আঙিনা। ভবিষ্যতে ফল বাগানের পরিধি আরো বৃদ্ধি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, আরো ফলের গাছের চারা সংগ্রহ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে/ টি কে









