- প্যাকেটজাত চাল বিক্রির পক্ষে এফবিসিসিআই সভাপতি
দেশে প্যাকেটজাত চাল বিক্রি নিষিদ্ধ করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তার কথার সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীদের প্রধান সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি-এফবিসিসিআই এর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, দেশ উন্নতির দিকে যাচ্ছে। সবকিছু আধুনিকায়ন হচ্ছে সেখানে প্যাকেটজাত চাল বিক্রয় নিষিদ্ধ করা সমর্থন করি না। তবে সরকার দাম ও পরিমাণ নির্ধারণ করে দেবে। একটি প্রতিষ্ঠান কি পরিমাণ চাল প্যাকেটজাত করতে পারবে।
চাল সম্পর্কে মো. জসিম উদ্দিন বলেন, উত্তরবঙ্গের ধান আসায় দাম কমেছে। ১৭টি আইটেম মানবিক হতে হবে। ইচ্ছা করলেই দাম বাড়ানো যাবে না। প্রতিটি চালের দাম নির্ধারণ করে দিতে হবে। এক ব্যবসায়ীর বক্তব্যের প্রতি উত্তরে তিনি বলেন, আমাদেরকে নয়ছয় বোঝাবেন না। আমরা প্রত্যেকেই কৃষকের সন্তান। নিজেও কৃষক চালের দাম ভরা মৌসুমে কেন বাড়ালেন? কেন দোকান ফেলে পালালেন? আমরাদের অন্যায়ের ভাগ আমরা নেব না। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার মতিঝিলে নিজস্ব কার্যালয়ে সংগঠকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে এ কথা বলেন তিনি।
মো. জসিম উদ্দিন বলেন, গত ১০ বছর আগে ৯০ বিলিয়নের ব্যবসা এখন তা ৪১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসা করতে হবে মগজ দিয়ে অনৈতিকতা দিয়ে নয়। চালে ১০ টাকা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এটি করে সম্ভব? কেজিতে ১০টা বৃদ্ধি। প্যাকেটজাত চালের দামেও আলাদা নিয়ম করা থাকা দরকার। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি চালের কল বাংলাদেশে। এখানে তো দাম কমার কথা। প্যাকেট দিয়ে ১০ টাকা নিবেন এটা কি করে সম্ভব। পোলাও চাল বিক্রিতে বিজ্ঞাপন হচ্ছে অথচ মানুষ চাল পাচ্ছে না। আবার সরকার জরিমানা করছে এসব নিয়েও অনেক ব্যবসায়ী কান্না করছেন। বলছেন ব্যবসা হয় না। অথচ নিজেরা ৭/৮টা বাড়ি করছেন। এসব টাকা কোথা থেকে এলো? এসব বন্ধ করেন। মানুষের মৌলিক খাবারে হাত দিবেন না। আপনাদের দু’একজনের অন্যায়ের ভার আমরা বহন করতে পারবো না।
সামনে কুরবানির ঈদ। এ সময় মসলাপাতির দাম যাতে না বাড়ে সে বিষয়ে কথা বলেন তিনি। এ সময় এক মসলা ব্যবসায়ী বলেন, প্রতি টন এলাচিতে ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ডিউটি দিতে হয়। জিরাতে ৮৫ হাজার, দারচিনিতে ৫২ হাজার, বাদামে ৯৯ হাজার টাকা, কিসমিস ৮৫ হাজার টাকা, ৬৮ হাজার টাকা আলু বুখারায় ডিউটি দিতে হয়। মসলার ছোট দোকানগুলোকে বড় জরিমানা করা হয়। আমাদেরকে নির্দিষ্ট পণ্যের ব্যাপারে তালিকা দিতে হবে। কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য আলাদা লাইসেন্স লাগবে কিনা তা আমরা জানি না। এ ব্যাপারে নীতিমালা চাই। এতো ডিউটি দিয়ে ব্যবসা করা সম্ভব নয়। সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে বাদ দেয়া হোক।
সিটি গ্রুপের প্রতিনিধি অমিতাব চক্রবর্তীকে উল্টাপাল্টা চাল বিক্রির ব্যাপারে বলা হয়, লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছেন। চালের দামে এদিন সেদিক করেন কেন? এসময় সিপি গ্রুপের প্রতিনিধি বলেন, আমরা সরকারকে ৮ হাজার কোটি টাকার চাল দিচ্ছি। আমাদের ৯ হাজার মেট্রিক টন পার আওয়ার ১৫ দিনে উৎপাদনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মজুদের সংজ্ঞা ও আওতা, সিন্ডিকেট কাকে বলে এসব নির্ধারণ করা হোক বলে দাবি জানান তিনি।
মো. জসিম উদ্দিন বলেন, হাওরের পুরো ধান না আসলে ৬ শতাংশ ক্ষতি হবে। ভরা মৌসুমে ৬৬ শতাংশ উৎপাদন হয়। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যে অবস্থা করা হচ্ছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ব্যাংকগুলো নিজেরা ডলারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে চালের ব্যবসায়ীদের মতো।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও আপনারা কমিয়েছেন কিনা প্রশ্নের জবাবে তেল সম্পর্কে সিটি গ্রুপের প্রতিনিধি বলেন, তেলের দাম নির্ভর করে আমদানির দাম বাড়া কমার ওপর। প্রতি ১৫ দিন পর পর আপ-ডাউন করা দরকার। এভারেজ দামে মূল্য নির্ধারণ করেন। কমোডিটি আইটেম হিসেবে এলসি খোলার ব্যবস্থা করতে হবে। স্টকের ব্যাপারে বলেন, কুরবানির ঈদ পর্যন্ত চলবে।
মেঘনা গ্রুপের প্রতিনিধি বলেন, তেলের মজুদদারদের গ্রেফতার হলেও তাদের জামিন হয়নি। সরকারের বন্ড থাকতে হবে বলে জানান জসিম। সাইলোগুলোও নেই। সরকারিভাবে সেন্ট্রাল বন্ড থাকতে হবে। মোল্লা নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, বড় কোম্পানিগুলোর অন্যায়ের কারণে তৃণমূলের ব্যবসায়ীরা বিনা কারণে জেলে আছে। তাদের জামিন দিতে হবে। দাম বাড়ায় বড় কোম্পানি তাদের শাস্তি পেতে হয় আমাদের। এ সময় এফবিসিসিআই’র সভাপতি বলেন, রাইস ব্যান্ড অয়েল স্বাস্থ্যসম্মত। সত্যিকারের রাইস ব্যান্ড কিনা তা নিয়ে প্রচার করা হোক। জসিম বলেন, এক্সপোর্ট বন্ধ করে এটিতে গুরুত্ব দিতে হবে।
হাজী মো. মাজেদ নামের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী বলেন, আগামী ২ মাস কোন সংকট হবে না। দাম বাড়বে না। ২৩ লাখ ৫৬ হাজার টন প্রয়োজনের বিপরীতে ১৮ লাখ টন লবণ উৎপাদন হয়েছে বলে লবণ ব্যবসায়ী। বলেন, খুচরায় ৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আরও ৫ টাকা বাড়ানো দরকার।
পোল্ট্রি ফিডের দাম কেন বেড়েছে ভুট্টা ও গম প্রতিনিধি বলেন, ৭০ লাখ চাহিদার বিপরীতে ৫৫ লাখ টন উৎপাদন হয় দেশে। ভুট্টাতে কেজিতে ৪ টাকা বেড়েছে। কেজিতে ৮ টাকা বেড়ে যাওয়ায় গমের দাম বেড়েছে। হিলিতে ৪ লাখ টন গম নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি বাড়েনি। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের মানবিক হতে হবে। এটি হতে পারলে ব্যবসা ভালে হবে। সাধারণ মানুষ যেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোন পণ্য না কিনে তা নিয়ে গণমাধ্যমের প্রচার সহযোগিতা দরকার।









