পর্যপ্ত রিজার্ভ থাকায় বৈদেশি ঋণে প্রভাব ফেলবে না: অর্থমন্ত্রী
বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হলেও বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। ২০১৫ সালে যেখানে ৪৯১০ কোটি টাকা ছিল, ২০২১ সালে তা ৯৭ হাজার ৭৪০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থাতেও দেশের অর্থনীতি শ্রীলঙ্কার মতো হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
গত ৫ বছরে বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ৯২ হাজার ৮৩০ টাকা, এর বিপরীতে বাংলাদেশিদের বিদেশে বিনিয়োগের অনুমোদনও দেয়া হয়েছে এটি কীভাবে সমন্বয় করা যায়? দৈনিক আনন্দবাজারের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদের অতিরিক্ত সচিব মো. জিল্লুর রহমান বলেন, আমাদের রিজার্ভ ভালো আছে। আমরা ঋণ নিয়ে উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করছি। ফলে এই ঋণে কোনো ধরনের সমস্যা তৈরি হবে না।
শ্রীলঙ্কান অর্থনীতি নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থনীতি নিয়ে আপনাদের কি ধারণা? জবাবে প্রশ্নকর্তা বলেন, ভালো। তখন অর্থমন্ত্রী বলেন, গোটা বিশ্ব বলছে বাংলাদেশ ভালো করছে। এখনকার সময়ে সবচেয়ে বিপদে আছে যারা আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত নই। আমাদের জিডিপি ভালো। সামষ্টিক অর্থনীতিও সামনের দিনগুলোতে ভালো কাটবে। অতএব চিন্তার কিছু নেই।
গতকাল অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১০ম এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র ১২তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন অর্থনৈতিক কমিটির অনুমোদনের জন্য ১টি এবং সরকারি ক্রয় কমিটির অনুমোদনের জন্য (টেবিলে ৩টি উপস্থাপনসহ) ১১টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে ১০টির অনুমোদন দেয়া হয়। সরকারি ক্রয় এর প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ৩টি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২টি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ১টি, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ১টি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১টি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ১টি, সেতু বিভাগের ১টি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ১টি প্রস্তাবনা ছিল তবে শেষেরটি অনুমোদন পায়নি। সরকারি ক্রয় -কমিটির অনুমোদিত ১১টি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ ৫,৭৮২ কোটি ৬২ লাখ ১১ হাজার ২৭ টাকা। মোট অর্থায়নের মধ্যে জিওবি হতে ব্যয় হবে ৯৭৯ কোটি ৬২ লাখ ৪ হাজার ৯২ টাকা এবং দেশিয় ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক অব চায়না ঋণ ৪,৮০৩ কোটি ৬ হাজার কোটি টাকা। তবে একটি প্রস্তাব বাদে ব্যয় হবে ১৮০৮ কোটি ৬৩ লাখ ৫২ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা।
এ সময় অর্থমন্ত্রী জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল)-এর জন্য সান ইন্টারন্যাশনাল এফজেডই, ইউএই হতে ৮২ কোটি ৯৪ লাখ ৩৫ হাজার ৯৫০ টাকায় ১০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক এসিড কিনবে। কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশের নিকট থেকে ১৬তম লটে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ২৪১ কোটি ৯৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯৩৭ টাকায় কিনবে। কাতার থেকে ১৪ম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার ২৪৭ কোটি ১০ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকায় আমদানির অনুমতি পেয়েছে।
অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির প্রস্তাবনাটি ছিল শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্ট ৪ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন এবং অপশনাল ১ লাখ ৮০ হাজার মে.টনসহ সর্বমোট ৬ লাখ ৬০ হাজার মে.টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি স্বাক্ষরের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মুস্তফা কামাল বলেন, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো হলো:
১নং প্রস্তাবনা: কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)র সৌদি আরবেব মা’এডেন ২য় লটে ৪০ হাজার মে. টন ডিএপি সার ৩৩৯ কোটি ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় আমদানির অনুমোদন।
২ নং প্রস্তাবনা: পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড “রাজশাহী জেলার চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় পদ্মা নদীর বাম তীরের স্থাপনাসমূহ নদী ভাঙন হতে রক্ষা” প্রকল্পের ড্রেজিং এর পূর্ত কাজ প্রতিষ্ঠান জয়েন ভেঞ্চার অব আকুয়া মেরিন ড্রের্ ও ২ নবারুণ ট্রেডার্ লি.র নিকট থেকে ২৭ কোটি ৪৪ লাখ ৭৪ হাজার ৩৭১ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
৩ নং প্রস্তাবনা: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক “নাটোর রোড (রুয়েট) হতে রাজশাহী বাইপাস রোড পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ (২য় সংশোধিত)” প্রকল্পের নির্মাণ কাজের ভেরিয়েশন বাবদ “আব্দুল মোনেম লি.” কে ৩৮ কোটি ২২ লাখ ৪১ হাজার ৭৮৫ টাকার ব্যয় বৃদ্ধির ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
৪ নং প্রস্তাবনা: নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রামে “বে-টার্মিনাল নির্মাণ” পিপিপি প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে জয়েন ভেঞ্চার অব (১) কোরিয়ার কুনয়া ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কন্সালটেন্সিং কো. লি. (২) কোরিয়ার ডাইউং ইঞ্জিনিয়ারিং কো. লি.কে ১২৬ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৯৮৬ টাকায় নিয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
৫ নং প্রস্তাবনা: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের ইসটাবলিশিং ডিজিটাল কানেকটিভি (ইডিসি) প্রকল্পের আওতায় জি টু জি ভিত্তিতে পণ্য, ভৌত কাজ এবং সেবা সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) চাইনা রেলওয়ে ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ লি. এর নিকট থেকে ৩,৯৭৪ কোটি ৭৯ লাখ ৫৮ হাজার ৪৯৮ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন চাওয়া হলে তা বাতিল করা হয়।
৬ নং প্রস্তাবনা: সেতু বিভাগের অধীন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা বহুমুখী সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সার্স প্রভাইডার হিসেবে জয়েন ভেঞ্চার অব (১) কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশন (২) চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্চি. কো. লি.কে ৫ বছর মেয়াদে ৬৯২ কোটি ৯২ লাখ টাকায় নিয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
৭ নং প্রস্তাবনা: সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক “রাজাপুর-কাঠালিয়া-আমুয়া-বামনা-পাথরঘাটা মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প (ঝালকাঠি অংশ) (১ম সংশোধিত)” প্রকল্পের প্যাকেজ নং-ডব্লিউপি-০৪ এর আওতায় ৪টি সেতু নির্মাণের পূর্ত কাজের ভেরিয়েশন বাবদ জয়েন ভেঞ্চার অব (১) রানা বিল্ডার্ প্রা. লি. (২) মোহাম্মদ ইউনু অ্যান্ড ব্রাদার্ প্রা. লি.কে ১১ কোটি ১৮ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪২ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
৮ নং প্রস্তাবনা: সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক “এলেঙ্গা-জামালপুর জাতীয় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ (১ম সংশোধিত)” প্রকল্পের প্যাকেজ নং-ডব্লিউপি-১ এর নির্মাণের পূর্ত কাজের ভেরিয়েশন বাবদ ওয়াহিদ কন্সট্রাকশন লি.কে ৩৯ লাখ ৯৩ হাজার ৩৫৮ টাকার ব্যয় বৃদ্ধির ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।









