ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের একটি গ্রাম কৃষ্ণনগর। এ গ্রামে শতাধিক পরিবার বসবাস করছেন। তবে ওই শতাধিক পরিবারই হলো কৃষক। তারা দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরেরও বেশী সময় ধরে বানিজ্যিক ভাবে নিজস্ব পতিত জমিতে দেশীয় পদ্ধতিতে মৌসুম বেধে টমেটো, শিম, বরবটি, করলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, লাউ, পুইশাক, লালশাক, ঢেঁড়স, ঝিঙ্গা ও বেগুনসহ নানা প্রকার সবজি চাষ করছেন। সবজিচাষে বদলে দিয়েছে তারা গ্রামের চেহারা।
এক সময় এ গ্রামের লোকজনরা ধান আবাদের উপর নির্ভর ছিল। ঝড় বৃষ্টি বন্যাসহ নানা প্রতিকূলতায় প্রতি বছর ধান চাষে লোকসান হওয়ায় এ চাষ ছেড়ে সবাই শাকসবজিতে তারা মনোযোগী হন। শাকসবজি চাষে কম শ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করে এখন অনেকেই লাখপতি হয়েছেন। তাছাড়া অনেকে নিজেদের অভাব অনটন ঘুছিয়েছে।
আখাউড়া পৌর শহর বড়বাজার থেকে প্রায় কিমি. দুরে তিতাস নদীর পারে অবস্থিত কৃষ্ণনগর গ্রামটি। এ গ্রামটি ছোট হলেও বিস্তৃর্ণ এলাকাজুড়ে করছে সবজি চাষ করে এক নিরব বিল্পব ঘটিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই কৃষকরা সবজি পরিচর্যাসহ বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও বসে নেই। তারাও সবজির পরিচর্যাসহ বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করছেন।
সবজি চাষি ইয়াছিন মিয়া বলেন, চলতি মৌসুমে ৫০ শতক জায়গায় দেশীয় পদ্ধতিতে তিনি শীতকালীন ফুলকপি, মুলা, লালশাক পুইশাকসহ নানা জাতের সবজির আবাদ করেন। এরমধ্যে ফুলকপির চারা লাগানো হয়েছে প্রায় ৬ হাজার। সবজি গাছের অবস্থা এখন পযর্ন্ত খুবই ভালই রয়েছে। অন্যদিকে মুলা, লালশাক, পুইশাক স্থানীয় বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খরচ বাদে আশা করছি দেড় লাখ টাকার উপর আয় হবে। ওই জমিতে যদি ধান আবাদ করা হতো তাহলে ১৫ হাজার টাকার বেশি ধান পাওয়া যেতো না।
কৃষক ইউসুফ মিয়া বলেন, একই জমিতে দেশীয় পদ্ধতিতে বছরজুড়ে মৌসুম অনুযায়ী শিম, বরবটি, করলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, পুইশাক, লালশাক, বেগুনসহ নানা প্রকার সবজি চাষ করছেন। বর্ষাকালে দুই থেকে তিন মাস পানি থাকায় ওই সময় কিছু করা যায় না। বাকি সময় নানাজাতে সবজিচাষ করছেন। তবে চাষকৃত ওইসব সবজি তারা নিজেরাই বাজারে নিয়ে বিক্রি করছেন। বছরে সবজি থেকে তার দুই লাখ টাকার উপর আয় হয় বলে জানায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, কৃষ্ণনগর গ্রাম সবজি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। দীর্ঘ বছর ধরে স্থানীয় কৃষকরা নানা জাতের শাকসবজি চাষ করছেন। এ গ্রামের কৃষকরা নিজ উদ্যোগে দেশীয় পদ্ধতিতে সবজি আবাদে বেশ অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের মাধ্যমে কৃষকদেরকে প্রশিক্ষণ, সার, বীজ, কীটনাশকসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অচিরেই আরও নতুন করে কৃষকরা বিভিন্ন সরকারি সুযোগ সুবিধার আওতায় আসবে।









