করোনার ধাক্কা সামলে গতি ফিরতে শুরু করেছে চীনের অর্থনীতিতে। উৎপাদন খাতের স্থবিরতা কেটে বাড়ছে আমদানি ও রফতানি কার্যক্রম। এ ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে রেকর্ড পরিমাণ তামা আমদানি করেছে চীনা আমদানিকারকরা।
জুলাইয়ে দেশটিতে তামা আমদানিতে নতুন রেকর্ড হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চীনে ব্যবহারিক ধাতুটির আমদানি বেড়েছে ৮১ শতাংশের বেশি। চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে চীনা আমদানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সব মিলিয়ে ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৪৮৩ টন তামা আমদানি করেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এটাই ছিল দেশটিতে ব্যবহারিক ধাতুটির সর্বোচ্চ মাসভিত্তিক আমদানির রেকর্ড। জুলাইয়ে চীনের বাজারে ব্যবহারিক ধাতুটির আমদানির পরিমাণ আরও বেড়ে ৭ লাখ ৬২ হাজার ২১১ টনে উন্নীত হয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে দেশটিতে ব্যবহারিক ধাতুটির আমদানি বেড়েছে ১৬ দশমিক ১ শতাংশ।
শুধু আগের মাসের তুলনায় নয়, বরং আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় জুলাইয়ে চীনে তামা আমদানি ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে চীনা আমদানিকারকরা মোট ৪ লাখ ২০ হাজার টন তামা আমদানি করেছিলেন। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে ব্যবহারিক ধাতুটির আমদানি বেড়েছে ৩ লাখ ৪২ হাজার ২১১ টন।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত দুটো কারণে চীনা আমদানিকারকরা তামা আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রথমত, করোনা মহামারীর কারণে বিদ্যমান লকডাউন ওঠার পর থেকে গতিশীল হয়েছে চীনা উৎপাদন খাত। এতে দেশটিতে তামার চাহিদা বছরের শুরুর সময়ের তুলনায় বেড়েছে। ফলে বাড়তি চাহিদার চাপ সামাল দিতে ব্যবহারিক ধাতুটির আমদানি বাড়ানো হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে অনেকটাই কম ছিল জুন-জুলাইয়ে তামার দাম। প্রতি টন বিক্রি হয়েছিল ৫ হাজার ডলারের আশপাশে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে ওই সময় চীনা আমদানিকারকরা ব্যবহারিক ধাতুটির আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছেন।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস









