সীমা বেঁধে দিলো বিএসইসি
পুঁজিবাজারের দরপতন রোধে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর কমার সীমা কমিয়ে সার্কিট ব্রেকারের নতুন নিয়ম চালু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন নিয়ম অনুসারে, আজ বৃহস্পতিবার থেকে শেয়ার বা ইউনিটের দর কমার সর্বোচ্চ সীমা হবে ২ শতাংশ। তবে দর বাড়ার ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার আগের নিয়মই বহাল থাকবে।
গতকাল বুধবার বিএসইসি থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রেজাউল করিম বলেন, শেয়ার ও ইউনিটের দর কমার সীমা কমিয়ে দুই শতাংশ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত আজ থেকেই কার্যকর হবে।
এর আগে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা দিলে গত ৮ মার্চ একদিনে দর কমার সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে দুই শতাংশ করে বিএসইসি। তবে ২০ এপ্রিল তা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়। অর্থাৎ চলতি বছর তিন দফা দর কমার সীমা পরিবর্তন করলো বিএসইসি।
মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপে পুঁজিবাজারের পতন রোধে ২০২০ সালের ১৯ মার্চ প্রতিটি কোম্পানির শেয়ারের সর্বনিম্ন দর বেধে দিয়ে ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করে দেয় বিএসইসি। পরে পুঁজিবাজার পরিস্থিতি ভালো হওয়ায় গত বছরের জুনে সব প্রতিষ্ঠানের ফ্লোর প্রাইস তুলে দেয় বিএসইসি। পাশাপাশি ছয়টি ক্যাটাগরিতে সার্কিট ব্রেকার (দর কমা বা বাড়ার সীমা) নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।
সেই সময় নির্ধারণ করা নিয়ম মতে, ২০০ টাকার নিচে থাকা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণ করা হয় ১০ শতাংশ। অর্থাৎ যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বা ইউনিটের দর ২০০ টাকার নিচে, তার শেয়ার বা ইউনিটের দর একদিনে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়তে বা কমতে পারবে।
একইভাবে শেয়ার বা ইউনিটের দর ২শ থেকে ৫শ টাকার মধ্যে থাকা প্রতিষ্ঠানের সার্কিট ব্রেকার ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ৫শ থেকে ১ হাজার টাকার ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ, ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকার ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ, ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার ৫ শতাংশ এবং ৫ হাজার টাকার ওপরে হলে সার্কিট ব্রেকার ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।
গত মঙ্গলবার পর্যন্ত এ নিয়মে পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়। কিন্তু আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে শেয়ার বা ইউনিটের দর বাড়ার ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার আগের নিয়মই বহাল থাকবে। তবে দর কমার সর্বোচ্চ সীমা হবে ২ শতাংশ।
আনন্দবাজার/শহক









