ড্রাগন ফল। নামটি শুনলেই চীন, ভিয়েতনাম, থ্যাইল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডের মতো দেশের নাম ভেসে ওঠে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশেও হচ্ছে এ সুস্বাদু ফলের চাষ। বাজারে এখন পর্যাপ্ত জোগান না থাকলেও দামি হোটেলে প্রায় দেখা মেলে এ ফল।
এবার গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এর চাষ শুরু হয়েছে। তবে সুস্বাদু ড্রাগন ফল ডায়াবেটিস রোগের জন্য খুবই উপকারি ফল। ডায়াবেটিস রোগে চিকিৎসকরা ঔষধের পাশাপাশি এ ড্রাগন ফলকে যুক্ত রাখেন।
গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের কুয়ারচালা গ্রামে এক একর জমিতে এ চাষ শুরু করেন মামুন আল রশিদ। ফরিদপুরের বাসিন্দা মামুন পরিবার নিয়ে থাকেন ঢাকায়। ওই গ্রামের মৃত শাহজাহান আলীর মেয়ে লাকি আক্তার দিশা তার স্ত্রী। ড্রাগন বাগানের মালিক মামুন আল রশিদ আনন্দবাজারকে বলেন, প্রতিটি চারা ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে কিনে আনা হয়। আর এ চারা থেকে ফল পেতে প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস সময় লেগে যায়। ড্রাগন ফলের বাগানের প্রতিটি পিলারে রোপনকৃত ৫ থেকে ৬টি চারা ফল পাওয়া পর্যন্ত ১ হাজার ২শ’ টাকা খরচ পড়ে।
আর এক বছরে একটি পিলারে থাকা ড্রাগন গাছগুলো থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কেজি ফল পাওয়া যায়। এতে প্রতি পিলার ড্রাগন গাছগুলো থেকে ৭ হাজার টাকা পাইকারি দরে বিক্রি করা যাচ্ছে। এ ফল গাছ প্রায় ১৮ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এ বাগান থেকে প্রতি বছর ড্রাগন ফল বিক্রি করে ২৫ থেকে ২৮ লাখ টাকা আয় করা যাবে। তবে এ ফলের বাজারে পর্যাপ্ত না থাকায় ঢাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে পাইকারী ফল বিক্রেতাদের কাছে। এ উপজেলায় ইদানিং এ ফলের চাষ অনেকেই করা শুরু করেছেন।
এ ড্রাগনের পরিচর্যাকারি আবুল হোসেন বলেন, এ গাছগুলো (পিলার) সার, কীটনাশক, পানি দিতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পরিস্কার পরিছন্ন ও গাছের পরিচর্যা করে আসছি। তবে বাগানে ফল দেওয়া শুরু করেছে। এই ফল খেতে খুব সুস্বাদু। খেতে মিষ্টি টক হলেও সহজে বাজারে পাওয়া যায় না।
জমির মালিক ও মামুল আল রশিদের বউয়ের বড় ভাই শওকত আলী জানান, জমি পতিত পড়ে থাকে। তাই ছোট বোনের জামাইকে ড্রাগন ফলের বাগান করার জন্য এক একর জমি দেওয়া হয়েছে। চলতি সাপ্তাহে ফল তোলা শুরু করেছে। এ ড্রাগন ফলের বাগানে প্রায় দুই হাজার পাঁচ শত গাছ (৫শ’ পিলার) রয়েছে। এ বাগান থেকে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর ফল পাওয়া যাবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ড্রাগন ফলটা খুব দামি। স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারি। চীন, ভিয়েতনাম, থ্যাইল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডে বিভিন্ন দেশে রোগ নিরাময় করতে এ ড্রাগন ফল খেয়ে থাকেন। আমাদের উপজেলায় কয়েকটি গ্রামে অল্প পরিসরে এ ফলের চাষ শুরু করেছেন। নিশ্চয়ই তারা লাভবান হবেন।
আনন্দবাজার/শহক









