রাজধানীতে চলছে চার দিনব্যাপী ৪র্থ হেরিটেজ হ্যান্ডলুম ফেস্টিভ্যাল-২০২২। মেলার দ্বিতীয় দিনে কূটনীতিক ও বিদেশিদের উপস্থিতিতে জমজমাট হয়ে উঠেছে হেরিটেজ হ্যান্ডলুম ফেস্টিভ্যাল।
বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) গুলশান শুটিং ক্লাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও বিদেশি নাগরিকদের জন্য আয়োজন করা হয় 'ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ ডে'।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, মসলিনসহ দেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের গৌরব ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এসব পণ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভারতের হাইকমিশনার ও জাপানের রাষ্ট্রদূত।
সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান এবং ফেস্টিভ্যালের নানা দিক তুলে ধরেন অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ডিজাইনার্স বাংলাদেশ (এএফডিবি) সভাপতি মানতাশা আহমেদ।
বাংলাদেশ তাঁত ও বুনন শিল্পের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় এদেশের এলাকাভেদে বিভিন্ন ধরনের তাঁত, বস্ত্র ও কারুশিল্প বিকশিত হয়েছে। এর মধ্যে সোনারগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী জামদানি, মিরপুরের বেনারসি শাড়ি, টাঙ্গাইলের তাঁত ও শাড়ী, সিরাজগঞ্জের লুঙ্গি ও তাঁত বস্ত্র, নকশীকাঁথা, কুমিল্লার খাদী, রাজশাহীর সিল্ক, মনিপুরি তাঁত ও রাঙ্গামাটির নৃ-গোষ্ঠির তাঁতপণ্য দেশজুড়ে বিখ্যাত।
বাংলাদেশের গৌরবময় ঐতিহ্য ও কৃষ্টির অংশ ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্যের প্রস্তুতকারক ও শীর্ষস্থানীয় ডিজাইনারদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন, বিলুপ্তি রোধকরণ এবং সর্বোপরি দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এসএমই ফাউন্ডেশন এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ডিজাইনার্স বাংলাদেশ (এএফডিবি) টানা চতুর্থবারের মত আয়োজন করেছে হেরিটেজ হ্যান্ডলুম ফেস্টিভ্যাল।
এই ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ হলো:
(ক) বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্য ও কৃষ্টির অংশ হিসাবে দৈনন্দিন জীবনে ঐতিহ্যবাহী তাঁত পণ্যের ব্যবহার প্রদর্শন করা।
(খ) ঐতিহ্যবাহী তাঁত পণ্যের প্রচার, প্রসার এবং বাজারজাতকরণের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
(গ) তাঁত পণ্য প্রস্তুতকারক এবং শীর্ষস্থানীয় ডিজাইনারদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা।
(ঘ) স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে স্থানীয় তাঁত পণ্য প্রস্তুতকারকদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা।
(ঙ) বাংলার ঐতিহ্যবাহী পণ্যের বিলুপ্তি রোধ করা।
মেলায় বয়নশিল্প প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রায় ৫০টি স্টলে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শন করা হচ্ছে শাড়ি-লুঙ্গি-গামছা, খাদি, নকশিকাঁথা, বেনারসি শাড়ি, টাঙ্গাইল শাড়ি, জামদানি শাড়ি, শতরঞ্জি, পটচিত্র, রিক্সা পেইন্ট, জুয়েলারি, টেরাকোটা, পিতল, কাশা, শঙ্খ, মনিপুরী কাপড়, রাঙ্গামাটির চাকমাসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কাপড় ও হস্তশিল্প পণ্য, পাটজাত, বাঁশ ও বেতজাত পণ্য।
এছাড়াও থাকছে খাতভিত্তিক পণ্যের ইতিহাস নিয়ে তথ্যচিত্র, পণ্য সম্পর্কে ক্রেতাদের ধারণা প্রদানসহ নানা আয়োজন। এবারের ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণ করছে বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন, ডিজাইনার, শিল্পী, তাঁতীসহ ঐতিহ্যবাহী পণ্যের উদ্যোক্তাগণ।
বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) শুরু হয়ে মেলা চলবে শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা- রাত ৮টা অবধি মেলা দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।
আনন্দবাজার/শহক









