রাজশাহীতে বেড়েই চলছে লিচু চাষ। প্রতিবছর জেলাটিতে ৬ হেক্টরেরও বেশি জমিতে লিচু আবাদ বেড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক ভাবে লিচু চাষ করে অনেকেই স্বাবলম্বীও হয়েছে বলে জানা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজশাহী নগরীর পবার বিভিন্ন এলাকায়, রায়পাড়া, বুলনপুর, ছোটবনগ্রাম ও কাটাখালি, কুখন্ডি, হরিয়ান ও বুথপাড়ায় এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে লিচুর চাষ হচ্ছে। এছাড়া জেলার বাগমারা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া ও গোদাগাড়ী উপজেলাতেও চাষ হচ্ছে লিচুর।
চাষিরা বলছেন, এবার ঝড়-বৃষ্টি হয়নি। তাই লিচুর ফলন ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারেও লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। লিচুর ফলন দেখে খুশি হলেও বাগান মালিকদের মুখে হাসি নেই। তবে করোনার কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার বড় বড় ব্যবসায়ীরা এখনো লিচু কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামসুল হক জানান, এ বছর রাজশাহী জেলায় ৪৯৮ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষবাদ হয়েছে। যা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৮০০ মেট্রিকটন। গত বছর ৪৯০ হেক্টর জমিতে ও ২০১৮ সালের লিচুর চাষ হয়েছে ৪৮০ হেক্টর জমিতে। যা তিন বছরে বেড়েছে ১৮ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতি হেক্টর জমিতে সাড়ে ৫ টন লিচু হতে পারে। এ বছর লিচু গাছে হালকা আছে। গাছে মুকুল আসার পরে তেমন কোয়াশা ছিলো না। তবে ফলন ভালো হবে। কারণ গাছে হালকা লিচু থাকলে ওজন ও আকারে বড় হয়। তাতে চাষিদের পুষিয়ে নিবে।
পবা উপজেলার নামজুল ইসলাম নামের এক চাষি বলেন, ‘গত বছর ঝড়ের কারণে গাছের অধিকাংশ লিচু ঝরে গিয়েছিল। এতে অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এবার ঝড় হয়নি। ফলনও ভালো। কিন্তু করোনা কারণে বাইরে থেকে ব্যবসায়ীর না আসায় চিন্তায় আছি।
চারঘাট উপজেলার রফিকুল বলেন, প্রতিবারই লিচু বাগান করি। এবারও করেছি। ঝড় না হওয়ায় ফলন ভালো কিন্তু বাইরে থেকে কেউ লিচু কিনতে আসছে না। সে কারনে কি যে হবে বুঝতে পারছিনা।
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্র জানায়, রাজশাহী অঞ্চলে মূলত উন্নতমানের জাত হিসেবে পরিচিত বোম্বাই, মাদ্রাজি, কাদমি, মোজাফ্ফরপুরী, বেদানা, কালীবাড়ি, মঙ্গলবাড়ি, চায়না-৩, বারি-১, বারি-২ ও বারি-৩ জাতের লিচু উৎপাদিত হয়। এসব লিচুর মোট উৎপাদনও বেশি, আবার আকারেও বড়। রঙও মনলোভা। এবার লিচুর ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে।
আনন্দবাজার/শহক/শই







