গান্ধী পরিবারের নামে তিনটি ট্রাস্টের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে গান্ধী পরিবারের সঙ্গে জড়িত তিনটি ট্রাস্টের বিরুদ্ধে বিশেষ তদন্ত করা হবে।
ভারতে গান্ধী পরিবার নিয়ে বিতর্ক বহু দিনের। তবে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিকবার ব্যক্তিগত আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। তবে রাজীব গান্ধী এবং ইন্দিরা গান্ধীর নামে তৈরি হওয়া ট্রাস্টের বিরুদ্ধে এর আগে কখনও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন, এটাও কার্যত ব্যক্তিগত আক্রমণেরই সামিল।
যে তিনটি ট্রাস্টের বিরুদ্ধে তদন্তের কথা বলা হয়েছে সেগুলি হলো, রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশন, রাজীব গান্ধী চ্যারিটেবল ট্রাস্ট এবং ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অভিযোগ, এই ট্রাস্টগুলি আইন ভেঙে বিদেশ থেকে টাকা নিয়েছে। আয়কর দেওয়ার ক্ষেত্রেও গরমিল করেছে। এমনকী, টাকা নয়-ছয় বা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগও রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, এনফোর্সমেন্ট ডিরোক্টোরেটের একজন স্পেশাল অফিসার তদন্ত করবে।
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা বলেছেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ প্রধানমন্ত্রী রিলিফ ফান্ড থেকেও এই সংস্থাগুলিকে টাকা পাইয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, ১৯৯১ সালে মনমোহন সিংহ যখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন, তখন বাৎসরিক বাজেটেও রাজীব গান্ধী ট্রাস্টের নামে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন, যা বেআইনি। তার আগে বিজেপির অভিযোগ ছিল, চীনের কাছ থেকে রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশন ৯০ লাখ টাকা পেয়েছে।
কংগ্রেস সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, কেন্দ্রীয় সরকার বর্তমান সমস্যাগুলি থেকে চোখ ঘোরানোর জন্যই এ কাজ করছে। লাদাখে ভারত-চীন সীমান্ত বিতর্ক থেকে তারা মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতে চাইছে। পাশাপাশি কংগ্রেসের কোনও কোনও নেতা সরাসরি নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করছেন। করোনা-কালে প্রধানমন্ত্রী রিলিফ ফান্ডকে সামনে না রেখে মোদী একটি নতুন ফান্ড তৈরি করেছেন। পিএম কেয়ার ফান্ড। যে ফান্ডের কোনও অডিট হবে না। এই তহবিলবেও বিদেশি অর্থ আসার অভিযোগ রয়েছে।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস









