ভারতে গ্রেপ্তার
হাজার কোটি টাকা পাচারকারী ও বাংলাদেশের এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ম্যানেজার প্রশান্ত কুমার ওরফে পি কে হালদারসহ ছয় জনকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে ভারতের ডিরেক্টরেট অব এনফোর্সমেন্ট (ইডি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। পি কে হালদার পশ্চিমবঙ্গের অশোকনগরের এক বাড়িতে নাম পাল্টে থাকতেন, এমন দাবি ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার।
গত শুক্রবার কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার অন্তত ৯টি স্থানে অভিযান চালায় ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। হুন্ডির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো অবৈধ টাকায় পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গায় সম্পত্তি কেনার অভিযোগ পি কে হালদারের বিরুদ্ধে। এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শিবশঙ্কর হালদার নামে ভুয়া পরিচয়ে পালিয়ে ছিলেন পি কে হালদার। তিনি শিবশঙ্কর পরিচয়ে পশ্চিমবঙ্গে রেশন কার্ড, ভারতীয় ভোটার আইডি কার্ড, প্যান ও আধার কার্ড জোগাড় করেছিলেন।
গত শুক্রবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ভারতের ডিরেক্টরেট অব এনফোর্সমেন্ট (ইডি) জানান, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে প্রশান্ত কুমার হালদার, প্রিতিশ কুমার হালদার, প্রানেশ কুমার হালদার ও তাদের সহযোগীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত সম্পদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া পি কে হালদার ভুয়া পরিচয়ে ভারতে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছিলেন। তিনি কলকাতা মহানগরীর অভিজাত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সম্পত্তি কিনেছেন। তার নামে-বেনামে সম্পত্তির খোঁজে ১০টি জায়গায় তল্লাশি চলছে।
এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নানা কৌশলে পুঁজিবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনেন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে নিজের আত্মীয়, বন্ধু ও সাবেক সহকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে পর্ষদে বসিয়ে অন্তত চারটি ব্যাংকবহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন। এসব কোম্পানি থেকে তিনি ঋণের নামে বিপুল অংকের টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার দেশের আর্থিক খাতের আলোচিত জালিয়াত পিকে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটা নিয়ে দুদক কাজ করছে।অনেকে নামে-বেনামে দেশ থেকে টাকা পাচার করছে। তারা দেশের শত্রু। তাদের ধরে নিয়ে আসা ভালো। পিকে হালেদারের মতো ধরে নিয়ে আসার দুই-একটি দৃষ্টান্ত হলে তা আরও ভালো হবে।’ গতবছর ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে ভুয়া কোম্পানির নামে ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে পি কে হালদারের ১৪ সহযোগীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আলোচিত পিকে হালদার সিন্ডিকেটের সদস্য পূর্ণিমা রাণী হালদার ও তার স্বামী স্বপন কুমার মিস্ত্রীর বিরুদ্ধে সাড়ে তিন কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পৃথক দুই মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাছাড়া গতবছর পলাতক পিকে হালদারের সাথে সম্পর্কযুক্ত ২৫ জন ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল উচ্চ আদালত।
আদালত যে ২৫ জন ব্যক্তির বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, তারা হলেন: ফার্স্ট ফাইন্যান্সের হারুনুর রশিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গর্ভনর এস কে সুর চৌধুরী, পিকে হালদারের বন্ধু উজ্জ্বল কুমার নন্দী, সামি হুদা, পি কে হালদারের চাচাতো ভাই অমিতাভ অধিকারী, অবন্তিকা বড়াল, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের শামীমা, রুনাই, সাবেক সচিব ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের চেয়ারম্যান আই খান, আয়কর আইনজীবী সুকুমার মৃধা, অনিন্দিতা মৃধা, তপন দে, স্বপন কুমার মিস্ত্রি, অভিজিৎ চৌধুরী, রাজিব সোম, ব্যাংক এশিয়ার সাবেক এমডি ইরফানউদ্দিন আহমদ চৌধুরী, অঙ্গন মোহন রায়, নঙ্গ চৌ মং, নিজামুল আহসান, মানিক লাল সমাদ্দার, সোহেল শামস, পি কে হালদারকে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারী মাহবুব মুসা, একিও সিদ্দিকী, মোয়াজ্জেম হোসেন ও পি কে হালদারের মা লীলাবতী হালদার।









