স্বামীর সংসার সামলে, শিশু সন্তান ও শ্বাশুরির যত্ন নেয়ার পর দু বছর আগেও অবসরে নাচের চর্চা করতেন তিনি৷ মহামারি করোনা কালে অর্থনৈতিক মন্দা উঁকি দেয়ায় হয়েছে স্বপ্ন ভঙ্গ। ঘরবন্দি জীবনে বেকারত্বের গ্লানি মুছে সংসারে সামান্য অবদান রাখতে পারবে এমন চিন্তা থেকে নিজেকে দেখতে চেয়েছিলেন একজন স্বাধীন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে। বর্তমানে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের একজন সম্মাননা পুরুস্কার প্রাপ্ত নারী উদ্যোক্তা। বলা হচ্ছিল গৃহিনী থেকে সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত পাওয়া পৌর শহর বাজার পাড়া মহল্লার প্রিয়াংকা দাসের কথা।
যিনি প্রতি মাসে ঠাকুরগাঁও সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হাতের তৈরি নারিকেলের নাড়ু পাঠিয়ে আয় করেন প্রায় ৫০ হাজার টাকা। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী টাটকা নাড়ু বানান তিনি। তার হাতে গুর দিয়ে তৈরি নারিকেলের নাড়ুর চাহিদা বেশি থাকে ক্রেতাদের।
নারী উদ্যোক্তা প্রিয়াংকা দাস জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঠাকুরগাঁও অনলাইন উদ্যোক্তা পরিবার গ্রুপে জানতে পারেন নারীরাও ক্ষুদ্র প্রয়াস থেকে সফল নারী উদ্যোক্তা হতে পারে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের করা প্রশংসনীয় নারিকেলের নাড়ু দিয়ে শুরু করবেন যাত্রা। বিষয়টি স্বামী দেবব্রত কুন্ডুর সাথে পরামর্শ করলে উৎসাহিত করেন তাকে। পরামর্শ করে সেই গ্রুপে নাড়ুর ছবি পোস্ট করার পর এক ঘন্টার ব্যবধানে কয়েকজন ক্রেতার অর্ডার আসে। ১ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে নাড়ু ক্রেতার চাহিদা পূরণ করেন প্রিয়াংকা। পরে ভালো মন্তব্য পাওয়ায় আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।
নারী উদ্যোক্তা প্রিয়াংকা দাস আরও জানান, ভালোমানের নারিকেল, গুর সহ যাবতীয় উপকরণ স্বামী এনে দেন। সম্পূর্ণ কেমিক্যাল মুক্ত উপকরণ দিয়ে তৈরি করি নাড়ু। এবারে দূর্গাপূজাতে তার তৈরি নাড়ু শহরে আলোড়ন ছড়িয়েছে এবং প্রশংসিত হয়েছে।
তিনি বলেন, "আমার দোকান" নামের একটি দোকান রয়েছে আমার। বর্তমানে এটা ভ্যারাইটিজ স্টোর। কিন্তু মানুষের এমন ভালোবাসা আর সহযোগিতা পেলে নাড়ুর জন্য একটা আলাদা প্রতিষ্ঠান করবো। যেটি আমাকে ও আমার জেলাকে পরিবেশন করবে গোটা দেশের কাছে।
স্বামী দেবব্রত কুন্ডু বলেন, শুরুর দিকে প্রতিবেশীরা অনেক কটু কথা বলেছে কটাক্ষ করে। খারাপ লাগলেও নিজের কাজে বিশ্বাসী থেকে এগিয়েছেন প্রিয়াংকা। আমি নিষেধ করিনি। তাকে সামান্য সহযোগিতা করার চেষ্টা করি।
প্রতিবেশী হারুন আলী প্রিয়াংকা দাসের নাড়ু ক্রেতা। বলেন, সুস্বাদু নারিকেলের নাড়ু বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই নারী উদ্যোক্তা। ঢাকায় আমার নাতনির জন্য ৫ কেজি নাড়ু পাঠাবো। নাড়ু কিনতে এসেছি। প্রতি কেজি ৫০০ টাকা দরে কিনেছি।
ঠাকুরগাঁও অনলাইন উদ্যোক্তা পরিবার গ্রুপের পরিচালক সানজিদা শারমিন বলেন, আজকাল ইন্টারনেট ফেসবুকের যুগে হাতের ফোন ব্যবহার করে যে যার প্রতিভা কাজে লাগিয়ে ধৈর্য এবং চেস্টার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হতে পারে।প্রিয়াঙ্কা দাস ও তাদের মধ্যে একজন।ঠাকুরগাঁও অনলাইন উদ্যোক্তা পরিবার শুধুমাত্র একটা বিজনেস প্লাটফর্ম দিয়েছে কিন্তু প্রিয়াঙ্কা দাসের মত উদ্যোক্তা আজ সফল উদ্যোক্তা হতে পেরেছে তাদের চেস্টায়।শুধু নাড়ু বানিয়েও ঘরে বসে হাজার হাজার টাকা আয় করা যায় এটা প্রমাণ করেছে প্রিয়াঙ্কা দাস।ঠাকুরগাঁও অনলাইন উদ্যোক্তা পরিবার সবসময় উদ্যোক্তাদের সাথে ছিলো এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।









