রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সকাল থেকেই বগুড়া থেকে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটে তেলচালিত বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকেও কোনো বাস বগুড়ায় আসেনি। তবে কয়েকটি পরিবহন এরই মধ্যে বাসের ভাড়া বাড়িয়েছে। শনিবার সকালে বগুড়া চারমাথা ও ঠনঠনিয়া আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে শহরের তেলের পাম্পগুলি সরকারের নতুন নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি করছে।
জেলার পরিবহন মালিক নেতারা জানিয়েছেন, বাস চলাচলে স্থানীয়ভাবে কোনো নির্দেশনা বা ধর্মঘট ডাকা হয়নি। মালিক এবং চালকেরা নিজে থেকে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে। ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে কেন্দ্রের নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছেন তারা।
সকালে চারমাথা বাস টার্মিনালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হঠাৎ করে সরকারিভাবে তেলের দাম বাড়ার কারণে বেশিরভাগ চালক বাস বন্ধ রেখেছেন। তেলের নতুন দামে তাদের আয়ের থেকে ব্যয় অনেক বেশি হবে। এ কারণে বাধ্য হয়ে বাস ছাড়ছেন না চালকেরা।
বগুড়া ও জয়পুরহাট রুটের বাস চালক জমির শেখ জানান, আগে যেখানে জ্বালানি লাগতো ৩ হাজার টাকার এখন লাগবে ৫ হাজার টাকা। এ বাড়তি ২ হাজার টাকা আমরা পাবো কই। এজন্য গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছি।
বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ রটের চেইন মাস্টার মিনহাজুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে আমার রুটে মাত্র ১টি বাস ছেড়ে গিয়েছে সেটিও গ্যাসের। তেলের কোনো গাড়ি চলাচল করছে না। অন্য রুটগুলোরও একই অবস্থা।
ঠনঠনিয়া আন্তঃজেলা টার্মিনালে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে কয়েকটি বাস পরিবহন ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। এদের একটি হানিফ পরিবহন। ঠনঠনিয়া টার্মিনালের এ পরিবহনের কাউন্টারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টিকিট বিক্রেতা জানান, আমাদের মালিকপক্ষ থেকে বাস ভাড়ার বাড়াতে বলেছে। এ জন্য ঢাকার রুটের ভাড়া ১শ টাকা বাড়িয়ে ৫৫০ টাকা নেয়া হচ্ছে।
বাস চলাচল বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাস, মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, বগুড়া থেকে অধিকাংশ বাস বাইরে যাচ্ছে না। সকাল থেকেও ঢাকা-চট্টগ্রামের রুটের বাস বগুড়ায় আসেনি। আমরা কোনো ধর্মঘটের নির্দেশনা দেইনি। আবার চালকদের রাস্ত বাস নামানোর জন্যও বলিনি।
আমিনুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার সরকারিভাবে ডিজেল তেলের দাম প্রায় ৩৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এখন বগুড়ায় আন্তঃথানা ও জেলার আটটি রুটে প্রায় এক হাজার বাস চলে। শুধু থানা রুটে একটি বাস আপডাউন প্রায় হাজার টাকার ওপরে বাড়তি খরচ হচ্ছে। কিন্তু ওই পরিমাণ আয় কখনই সম্ভব নয়।
এ জন্য তেলের দাম কিছু কমিয়ে ভাড়া সমন্বয় করার দাবি জানান জেলা বাস, মিনিবাস মালিক সমিতির সম্পাদক। তিনি বলেন, আমরা নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নিব না। কেন্দ্রের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছি। তবে তেলের দাম এত বেশি হওয়া ঠিক হয়নি। সরকার দাম কিছুটা কমিয়ে ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় করে দিবে এমনটা আশা করছি।
শহরের তেলের পাম্পগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে সরকারের নতুন বেধে দেওয়া মূল্যে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন তেল বিক্রি হচ্ছে। তবে গতকাল রাত ৯ টার পর থেকে শহরের তেলের পাম্পগুলির অধিকাংশ বন্ধ করে মালিক শ্রমিক পালিয়েছিল।
মটর সাইকেল চালক রবিউল ইসলাম জানান, কালকে যে দামে পেট্রেল কিনেছেন তার চেয়ে আজ লিটার প্রতি ৪৬ টাকা বেশী দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এটি একটি অমানবিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া। এতে করে তাঁকে কষ্টে দিন কাটাতে হবে।








